বন্যার দুর্ভোগ মোকাবিলায় প্রস’তি জরম্নরি

13/07/2017 1:04 am0 commentsViews: 10

আষাঢ়ের অবিরাম বর্ষণ আর উজানের ঢলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিসি’তির অবনতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ব্রক্ষ্মপুত্র, যমুনা, তিসৱা, ধরলাসহ প্রায় সব নদনদীর পানি বেড়ে চলেছে। প্রধান তিন নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বিসৱীর্ণ এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। বিসৱীর্ণ জনপদ, খেতখামার ডুবে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাঁধ, মহাসড়ক, রেলপথ ও স্কুলগৃহে অবস’ান নিয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও এখনও ত্রাণতৎপরতা শুরম্নর খবর পাওয়া যায়নি। ফলে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আগাম প্রস’তি না নিলে সর্বত্র একই পরিসি’তি সৃষ্টির কারণে মহা ভোগানিৱতে পড়তে হবে বন্যাদুর্গতদের এটা জোর দিয়ে বলা যায়।
বন্যায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুর জেলার বিসৱীর্ণ এলাকা ৰতির মুখে পড়েছে। চরাঞ্চল ছাড়াও এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য গ্রাম, হাট-বাজার, রাসৱাঘাট, ফসলিজমি, বীজতলা ডুবে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বন্যাদুর্গত লাখ লাখ মানুষ। তারা বাঁধ, রাসৱা, রেলপথ ও স্কুলে আশ্রয় নিয়ে অবর্ণনীয় অবস’ায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক শিৰা প্রতিষ্ঠানও জলমগ্ন হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের নিয়েই দুশ্চিনৱা সৃষ্টি হয়েছে। ত্রাণতৎপরতা শুরম্ন না হওয়ায় বিপদ বাড়ার আশঙকা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
বর্ষায় বন্যা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা। এজন্য প্রশাসনের পূর্ব প্রস’তি না থাকাটা দুঃখজনক। বন্যা আসার পর বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেয়া, বরাদ্দ অনুমোদন ও দুর্গত এলাকায় খাদ্য-পানীয়-ওষুধপত্র পৌঁছানোর পর ত্রাণতৎপরতা শুরম্ন যে সময় সাপেৰ সেটা না বোঝার কারণ নেই। এসময় রাসৱাঘাট ডুবে গেলে যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আগে থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া না নিলে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের বিষয়টা অনেকটা কাজীর গরম্ন কেতাবে আছে, গোয়ালে না থাকার মত অবস’া সৃষ্টি করতে বাধ্য।
আমাদের রাজশাহীতে এখনও বন্যা দেখা দেয়নি। পদ্মার পানি বাড়তে শুরম্ন করেছে ঠিকই, আর অবিরাম বর্ষণে শহর-গ্রামে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল সকালের বৃষ্টিতে নগরীর গনকপাড়া, সাহেববাজারসহ কোর্টচত্বর, বিভাগীয় ও পুলিশ কমিশনার কার্যালয়সহ রাসৱাঘাট হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকেছে। এ অবস’ায় এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়াটা জরম্নরি। নইলে বিপদে পড়তে হবে নির্ঘাৎ। গতকালের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরী যেভাবে ডুবে গিয়েছিল তাতে বন্যা দেখা দিলে পরিসি’তি কী হবে সেটা ভেবে এখনই প্রস’তি নিতে হবে।
এই বর্ষায় ভারতে নজিরবীহীন বন্যার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আসাম, অরম্নণাচল ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙকা করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় নজিরবিহীন বন্যা হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সীমানেৱর ওপারের বন্যা উজানের ঢল হিসেবে নেমে আসবে এতে সন্দেহ কি। এ অবস’ায় বন্যার দুর্ভোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস’তির বিকল্প নেই।
প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম পরিমাণে খাদ্য-পানীয়-ওষুধপত্র-তাঁবুসহ ত্রাণ সামগ্রির আগাম বরাদ্দ এবং গুদামজাত করে রাখা হলে প্রয়োজনের মুহূর্তে ছোটাছুটি করতে হয় না। আগাম প্রস’তি যে কোনো দুর্যোগকালীন পরিসি’তি মোকাবিলা সহজ করে দেয়, কথাটা অস্বীকার করা যায় না। এমন চিনৱার অভাবের কারণেই বন্যা দুর্গত এলাকার লাখ লাখ মানুষ বিপদাপন্ন দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। খাদ্য-পানীয়, ওষুধপত্রের অভাবে দুর্ভোগ বাড়লেও মৌখিক আশ্বাসের বেশি কিছু পাওয়া যাচ্ছে না বলেই খবর আসছে।
তাই এখনই বন্যার দুর্ভোগ মোকাবিলার প্রস’তি নিতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। গজালডোবার সস্নুইচগেট খুলে দেয়ায় তিসৱাপাড়ের মানুষ ডুবেছে, ফারাক্কার গেট খুলে দিলে আমাদের কী হবে সেটা এখনই ভাবতে হবে। কথায় বলে, সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়ের সমান।

Leave a Reply