নিয়ম ভেঙে ভর্তিতে অর্ধশত শিৰার্থীর জীবন অনিশ্চিত

19/05/2017 1:05 am0 commentsViews: 114

হাসান আদিব, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধীনস’ রাজশাহীর শাহ্‌ মখদুম মেডিকেল কলেজে অনুমোদনের চেয়ে বেশি শিৰার্থী ভর্তি করায় প্রশাসনিক জটিলতায় ৫০ শিৰার্থীর পরীৰা গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে ২০ মে থেকে ২০১৫-১৬ শিৰাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিৰার্থীদের প্রথম প্রভিশনাল পরীৰা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।
বুধবার রাবির কলেজ পরিদর্শক দফতরে সভায় পরীৰা স’গিতের সিদ্ধান্ত হয়। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে- তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি কলেজ কর্তৃপৰ এবং রাবির কলেজ পরিদর্শক শাখা। অভিযোগ উঠেছে- কলেজ কর্তৃপৰের অনিয়ম ও অব্যবস’াপনার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শিৰার্থীদের শিৰাজীবন।
এ কারণে বিৰুদ্ধ অভিভাবক ও শিৰার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলেজের ব্যবস’াপনা পরিচালককে অবর্বদ্ধ করে রাখেন। পরে দ্র্বত পরীৰা গ্রহণের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে দেখা করতে যান। ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সোবহান কলেজ পরিদর্শক, প্রক্টর, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাবির অধীনস’ প্রতিষ্ঠানসমূহের সার্বিক দায়িত্বে থাকা কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস পরীৰা গ্রহণ করা হবে না বলে শিৰার্থীদের জানিয়ে দেন। এসময় বেশ কয়েকজন শিৰার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর পা জড়িয়ে ধরে অনুমতি চাইলেও তা সম্ভব নয় বলে জানান কলেজ পরিদর্শক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী নগরীর খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় প্রতিষ্ঠিত শাহ্‌ মখদুম কলেজটি ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুর্ব করে। পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস ও এক বছরের ইন্টার্ণশিপ ডিগ্রি কোর্স চালু আছে কলেজে। ২০১৫-১৬ শিৰাবর্ষে কলেজ পরিদর্শন শেষে ২৫ জন শিৰার্থী ভর্তির অনুমোদন করে রাবির কলেজ পরিদর্শক। কিন’ কর্তৃপৰ নিয়ম ভেঙে ৫০ জন শিৰার্থী ভর্তি করায়। অনিয়ম ধরা পড়লে ২০১৬ সালে ওই শিৰাবর্ষের সকল কার্যক্রম স’গিতের নির্দেশ দিয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন’ সদুত্তর দিতে না পারায় কার্যক্রম স’গিত রাখা হয়। অথচ রাবি কর্তৃপৰের সিদ্ধান্ত উপেৰা করে গোপনে চলতি বছরের ২০ মে পরীৰা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলে শিৰার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের ফি আদায় করে কলেজ কর্তৃপৰ। ৭ মে রাবির নতুন ভিসি নিয়োগের পর আবারও কলেজ কর্তৃপৰ ৫০ শিৰার্থীর পরীৰা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। আবেদনের প্রেৰিতে রাবির কলেজ পরিদর্শক সংশিৱষ্টদের নিয়ে সভা করেন। সেখানে পরীৰা স’গিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়, যা শাহ্‌ মখদুম কলেজ কর্তৃপৰ জানানো হয়।
কলেজটির কয়েকজন শিৰার্থী কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, গত দু’বছর ধরে তারা পড়াশুনা এবং পরীৰার যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করেছে। ২০ মে থেকে পরীৰা দেয়ার প্রস’তি নিয়েছে। কিন’ হঠাৎ করে জানতে পারে শুনি আমাদের পরীৰা হবে না। কলেজের নাকি অনুমোদনই নেই। তাদের পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে বলে জানান।
ভুক্তভোগী শিৰার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপৰের অনিয়মের মাসুল শিৰার্থীদের উপর চাপানো অযৌক্তিক। কলেজ কর্তৃপৰ ও রাবি কলেজ পরিদর্শক দফতর তাদের অভ্যন্তরীণ ঝামেলার সমাধান করবে, কিন’ পরীৰা গ্রহণে কেন অনুমতি দেবে না? পরীৰার ফিস, রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়েছি। কিন’ কবে পরীৰা হবে তার নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। ছয় মাস পর জটিলতা ঠিক হবে কিনা সেই নিশ্চয়তাও নেই।
রাবির কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপৰ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে কলেজ চালু করে। কিন’ মন্ত্রণালয় পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছিল- একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের পরই শিৰা কার্যক্রম শুর্ব করতে পারবে তারা। নিয়ম না মেনে শিৰা কার্যক্রম শুর্ব করায় এর আগে কলেজের অনুমোদন স’গিত করা হয়েছিল। পরে ২৫ লৰ টাকা জরিমানা ও নিঃশর্ত ৰমা চেয়ে ২০১৪-২০১৫ শিৰাবর্ষ পর্যন্ত কার্যক্রম অনুমোদন করে। জরিমানার টাকা এখনও পুরোপুরি পরিশোধ করে নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫-১৬ শিৰাবর্ষের অধীভুক্তিও তারা নবায়ণ করেনি। ফলে ওই বর্ষের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি কর্তৃপৰ শিৰার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করে পরীৰা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। বুধবার আমরা সভা করি, সেখানে মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীৰা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সেটা অধীভুক্তি নবায়ন করার পর ছাড়া সম্ভব নয়। ফলে এ মহূর্তে কোনোভাবে পরীৰা গ্রহণের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়।’
জানতে চাইলে শাহ্‌ মখদুম কলেজের ব্যবস’াপনা পরিচালক মনির্বজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘প্রায় দুই মাস ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি না থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভিসি থাকলে বিষয়টি এত দিনে সমাধান হয়ে যেত। দ্র্বত সমস্যার সমাধান হবে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শাহ্‌ মখদুম কলেজে অনুমোদন ছাড়া শিৰার্থী ভর্তির দায়ে গত বছর ২৫ লৰ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এতে ৰিপ্ত হয়ে কলেজের সভাপতি তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফার্বক চৌধুরী তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে হুমকি-ধামকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাবির সিন্ডিকেটে কলেজটির অনুমোদন স’গিত করে। জরিমানা দিয়ে নিঃশর্ত ৰমা চেয়ে আবেদন করে পুনরায় কার্যক্রম চালানোর অনুমতি মেলে কলেজটির।

Leave a Reply