বিধান থাকলেও নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের গড়িমসি/ ভারপ্রাপ্তরা চালাচ্ছে তৃণমূলের শিৰা প্রশাসন

১৯/০৫/২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 9

এফএনএস: তৃণমূলের প্রাথমিক শিৰা প্রশাসনের উপজেলা শিৰা কর্মকর্তার (টিইও) কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। ওই দুই-তৃতীয়াংশ পদেই রয়েছেন চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্তরা। অথচ ওই পদে ৮০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন’ রহস্যজনক কারণে নিয়োগ হচ্ছে না। বর্তমানে সারাদেশে ৫০৩টি টিআইও পদের মধ্যে ৪২২টি পদেই বহাল রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আর সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত টিইও আছেন ১৮১ জন, যা মাত্র ৩৬ শতাংশ। অভিযোগ রয়েছে, চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তার বিরম্নদ্ধেই দুর্নীতি-অনিয়-মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক শিৰা অধিদফতর সংশিস্নষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী টিইও পদে ৮০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ করতে হয়। বাকি ২০ শতাংশ সহকারী উপজেলা শিৰা কর্মকর্তা (এটিইও) থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা। সে অনুযায়ী ৫০৩টি পদে সরাসরি ৪ শতাধিক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা। কিন’ বর্তমানে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত টিইও আছেন ১৮১ জন, যা ৩৬ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে চাকরি বিধিও ভঙ্গ হচ্ছে। পাশাপাশি চাকরি জীবনের শেষপ্রানেৱ এসে টিইও পদে চলতি দায়িত্ব পেয়ে অনেক শিৰা কর্মকর্তারই নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জাড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই কর্মকর্তাদেও অনেকের ভাবখানা হচ্ছে যা পারি এই শেষ জীবনে কামিয়ে নিই। ফলে দেশের বিভিন্ন স’ানে শিৰক-কর্মকর্তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে মুখোমুখি। এমনকি শিৰকের হাতে কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্র জানায়, যেসব জেলায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস বা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত টিইও আছেন তাদের অধিকাংশের ভাবমূর্তি ইতিবাচক। মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের কর্মকর্তারাও তা অবগত। কিন’ তারপরও রহস্যজনক কারণে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারক চান চলতি বা ভারপ্রাপ্ত টিইও দিয়েই তৃণমূলের শিৰা প্রশাসন চালাতে। সর্বশেষ গত ১১ মে ১২৩ জন এটিইওকে চলতি দায়িত্বে টিইও করা হয়েছে। আর তা নিয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত টিইওদের মধ্যে অসনেৱাষ দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ভারপ্রাপ্ত একাধিক টিআইওর বিরম্নদ্ধে পুল ও প্যানেল শিৰক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কারণ চলতি দায়িত্বের টিইও পদ পেতে পদপ্রত্যাশীদেরও মোটা টাকা গুনতে হয়েছে। তাছাড়া চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তদের বেশিরভাগ শেষ বয়সে ওই পদে আসেন। ফলে তাদের অনেকেরই আখের গোছানোর দিকে নজর বেশি। তাতে গুরম্নত্বপূর্ণ ওই পদটি বিতর্কিত হয়ে পড়ছে। তাছাড়া বর্তমানে প্রধান শিৰকরা ২য় শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ায় চলতি, অতিরিক্ত ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন।
সূত্র আরো জানায়, টিইও পদে সরাসরি নিয়োগের বিধির বিরম্নদ্ধে সহকারী উপজেলা শিৰা কর্মকর্তা সমিতির দুই নেতা ২০০৪ সালে হাইকোর্টে মামলা করেন। সেখানে ৮০ ভাগ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের আর্জি ছিল। তখন হাইকোর্ট মামলা খারিজ করে দেন। গতবছরও নিয়োগবিধির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ফের কয়েকজন এটিইও মামলা করে েওই। হাইকোর্ট এ বিষয়ে কোনো মতামত না দিয়ে মন্ত্রণালয়কে ওই ব্যাপারে বিসৱারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল ৯ জন ক্লার্ককে সহকারী শিৰা কর্মকর্তা ও সহকারী মনিটরিং কর্মকর্তার পদে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার আগে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের সহকারী ইন্সট্রাক্টররাও টিইও পদে চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন। আর সহকারী মনিটরিং কর্মকর্তারাও চলতি দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে আছেন।
এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিৰামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোসৱাফিজুর রহমান ফিজার জানান, সরকারি কর্মকমিশন টিইও পদে সময় মতো লোক নিয়োগ দিতে পারে না। বহু আগে এটিইও নিয়োগের চাহিদা দিয়েও পাওয়া যায়নি। এমন অবস’ায় মাঠ প্রশাসন চালাতে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর নিয়মসিদ্ধ না হলে কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রসৱাব করতেন না। তাছাড়া ২০ হাজারের বেশি প্রধান শিৰকের পদ আছে। ওসব পদেও চলতি দায়িত্ব দিয়ে পূরণ করা হবে।
অন্যদিকে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান, শুধু প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রণালয়ই নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগবিধি হালনাগাদ থাকে না। ওই কারণে চাইলেও নিয়োগ দেয়া যায় না। আর প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রণালয় চাই-লে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কয়েকশ’ কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করা যাবে। পিএসসির হাতে অনেক প্রার্থী আছেন। এমনকি ৩৬তম বিসিএস থেকেও দেয়া যাবে।

Leave a Reply