বেনীপুরে যাতায়াত ছিল জঙ্গি সোহেল মাহফুজের

17/05/2017 1:04 am0 commentsViews: 15

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরের ‘জঙ্গি বাড়িতে’ যাতায়াত ছিল নব্য জেএমবির দুর্ধর্ষ জঙ্গি সোহেল মাহফুজের (৩০)। গত দুই মাসে সোহেল মাহফুজ অন্তত দুইবার ওই আস্তানায় গেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার শক্তিশালী বোমাগুলোও সোহেল মাহফুজের বানানো।
‘সোহেল মাহফুজ’ নব্য জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। এটি তার সাংগঠনিক নাম। আসল নাম আবদুস সবুর খান। কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার সাদিপুর গ্রামে তার বাড়ি। বাবার নাম রেজাউল করিম, মা মনোয়ারা বেগম। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্র্বয়ারি ময়মনসিংহে আদালতে নেয়ার পথে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়ার মূল পরিকল্পনাকারীই এই সোহেল।
দীর্ঘ দিন ধরেই সোহেল মাহফুজের নাগাল পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন গোদাগাড়ীর দুর্গম এই গ্রামে সোহেলের যাতায়াত ছিল। বেনীপুরের ওই বাড়ি থেকে আত্মসমর্পণের পর জঙ্গি সুমাইয়া খাতুন (২৫) পুলিশকে এমন তথ্যই জানিয়েছে।
সুমাইয়া জানায়, তাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার ইম্প্রোভাইজড এক্সপেৱাসিভ ডিভাইস (আইইডি) বোমাগুলো বানিয়েছিল সোহেল মাহফুজ। দুই মাস আগে ফসলি মাঠের ভেতর বানানো তাদের নতুন বাড়িতেই সোহেল মাহফুজ দুইবার গেছে। ওই আস্তানায় আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণে নিহত আল-আমিন (২১) ও আশরাফুলকে (২৫) বোমা বানানো ও অস্ত্র চালানোর প্রশিৰণ দিত সোহেল।
গোদাগাড়ী থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেনীপুরের জঙ্গি বাড়িতে অভিযানের পর দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটিতে প্রধান আসামিই করা হয়েছে সোহেল মাহফুজকে। সোহেল মাহফুজ গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার সময়ও গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। ইম্প্রোভাইজড হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরিতে সে খুবই পারদর্শী।
জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের আমলে জঙ্গিবাদে জড়ায় সোহেল মাহফুজ। পরবর্তীতে জেএমবির শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হলে সংগঠনটির আমীর হন সাইদুর রহমান। ওই সময় জেএমবির শূরা (নীতিনির্ধারণী) কমিটির সদস্য পদ পায় সোহেল।
২০১০ সালের দিকে সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপনে থেকে উত্তরাঞ্চলে জেএমবিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল সোহেল। নারায়ণগঞ্জে নিহত নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে বছর দুয়েক আগে তার যোগাযোগ হয়। এরপর সে নব্য জেএমবিতে যুক্ত হয়।
এখন সোহেল নব্য জেএমবির অস্ত্র ক্রয়, গ্রেনেড তৈরি এবং সরবরাহসহ গুর্বত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গোদাগাড়ীর বেনীপুর গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী সাজ্জাদ আলীর একতলা টিনসেড বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর অভিযান শুর্ব হলে জঙ্গি হামলায় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত ও পুলিশের চার সদস্য আহত হন।
এরপর আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে মারা যান বাড়ির মালিক সাজ্জাদ আলী (৫০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন (২১), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) এবং বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম (২৫)। ওই বাড়িতে সেদিন নিহত সাজ্জাদ আলীর বড় ছেলে সোয়েব আলী (২৩) ছিল না।
পুলিশ বলছে, আল-আমিন ও আশরাফুলের পাশাপাশি ওই বাড়িতে সোহেল মাহফুজের কাছ থেকে সোয়েবও বোমা তৈরির প্রশিৰণ নিত। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে অভিযানের পর ওই বাড়ি থেকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করা সাজ্জাদের বড় মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে গত রোববার ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সুমাইয়ার ৮ বছরের ছেলে জুবায়ের আছে তার চাচার হেফাজতে। আর তিন মাসের মেয়ে আফিয়া রয়েছে মায়ের কাছে। সুমাইয়ার স্বামী জহুর্বল ইসলাম বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি। জেএমবি সদস্য জহুর্বলকে গত বছরের ৩১ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

Leave a Reply