জ্বালানি ব্যবস’াপনা সূচকে ২ বছরে ১২ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

17/05/2017 1:07 am0 commentsViews: 10

এফএনএন: বিশ্বের জ্বালানি সূচকে জ্বালানি ব্যবস’াপনার দিক থেকে অগ্রগতি হচ্ছে বাংলাদেশের। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ১০ ধাপ এগিয়ে আসে। এরপর চলতি বছর আরও দুই ধাপ অগ্রগতি হয়। অর্থাৎ গত দুই বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে ১২ ধাপ। সমপ্রতি জেনেভাভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাবিৱউইএফ) ‘এনার্জি আর্কিটেকচার পারফরম্যান্স ইনডেক্স (ইএপিআই) ২০১৭’ প্রকাশ করে। এতে বিশ্বের ১২৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৪তম স’ানে উঠে এসেছে। যা গত বছরের ১০৬তম স’ান থেকে দুই ধাপ অগ্রগতি। ২০১৫ সালের ইএপিআই সূচকে বাংলাদেশের অবস’ান ছিলো ১১৬। এ সূচকে একটি দেশ তার সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদার কতটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছে, এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন কতটুকু হচ্ছে এবং জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ সুরৰা কতটকু করতে পেরেছে, মূলত এ তিনটি মানদ-ের মাধ্যমইে দেশগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে ১৮টি নিদের্শককে তিন ভাগে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ তিনটি উলেৱখযোগ্য ৰেত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে বাংলাদেশে পেয়েছে ০.৬৩ পয়েন্ট, পরিবেশগত সৰমতা অর্জনে পেয়েছে ০.৪৩ পয়েন্ট এবং জ্বালানি সুবিধা ও নিরাপত্তা সূচকে পেয়েছে ০.৪৬ পয়েন্ট। এ বছর জ্বালানি ব্যবস’াপনা সূচকে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ০.৫১ পয়েন্ট। যা গত বছর ছিল ০.৫০ পয়েন্ট। ২০১৬ সালে প্রধান তিনটি ৰেত্রেই অগ্রগতি হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে স্কোর ০.৫২ থেকে ০.৬৩, পরিবেশগত সৰমতায় স্কোর ০.৩৯ থেকে ০.৪৪ এবং জ্বালানি সুবিধা ও নিরাপত্তায় স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.৪৪ থেকে ০.৪৫। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪৫। তবে, প্রতিবেদনে ১৮টি সূচকের মধ্যে আটটিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি হচ্ছে, বাকিগুলোতে হয় অবনতি, না হয় সি’র অবস’ায় রয়েছে। এতে দেখা যায়, বিদ্যুতায়নের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস’ান ১০৭তম। প্রাপ্ত স্কোর ৫৯.৬০ পয়েন্ট। বলা হয়, বাংলাদেশ এতে পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে ভালো অগ্রগতি অর্জন করছে। বিকল্প এবং পরমাণু জ্বালানি ব্যবহারের দিক থেকেও বাংলাদেশ ৫৯তম অবস’ানে রয়েছে। এ ৰেত্রেও অগ্রগতি আশানুরূপ। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ কমছে না। এ ৰেত্রে বৈশ্বিক অবস’ান ৯২তম। এবারের প্রতিবেদনে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। সেরা দশে থাকা বাকি দেশগুলো হচ্ছে যথাক্রমে নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, স্পেন, কলম্বিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং উর্বগুয়ে। তালিকায় সবচেয়ে বেশি জ্বালানিনির্ভর দেশগুলোর মধ্যে চীন রয়েছে ৯৫তম স’ানে, জাপান ৪৫তম, রাশিয়া ৪৮তম এবং যুক্তরাষ্ট্র ৫২তম অবস’ানে রয়েছে। জরিপে ভারতের অবস’ান গত বছরের ৯০তম স’ান থেকে তিন ধাপ এগিয়ে ৮৭তম অবস’ানে উঠে এসেছে। তবে বেশি দূষণ সৃষ্টিকারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ভারত। প্রতিবেদনে ভারত সম্পর্কে বলা হয়, দেশটি ক্রমান্বয়ে উন্নতি করছে, তবে জ্বালানি প্রবেশাধিকার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটিকে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম স’ানে। নেপাল রয়েছে ১১৩তম স’ানে এবং শ্রীলঙ্কার অবস’ান ৫৯তম। প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ায় বেশ কিছু দেশের অর্থনৈতিক উত্থান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি চাহিদা বাড়িয়েছে। ২০১৪ সালে ৩৫ শতাংশ জ্বালানি বাণিজ্য হয় এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে। যা ২০০৪ সালের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে জ্বালানি চাহিদার জোগানও বেড়েছে। উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে অগতানুগতিক তেলের উৎপাদন বিশ্ববাজারে প্রতিদিন যোগ করছে ৮০ লাখ ব্যারেল করে। বলা হয়, জ্বালানি সূচকে চীনের অবস’ান ৯৪তম। বিশ্বের কারখানা হিসেবে পরিচিত চীন বর্তমানে জ্বালানি চাহিদায় সি’তিশীল অবস’ায় রয়েছে। দেশটি দূষণ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এর পরও বর্তমানে নিজস্ব জ্বালানি চাহিদার ১২.৭ শতাংশ আমদানি করছে দেশটি। যা ২০০৯ সালে ছিল ৮ শতাংশ। দেশটির সরকারের পৰ থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি ভালো দিক। শুর্ব থেকেই ইএপিআই জ্বালানি ব্যবস’াপনা, জ্বালানি ইস্যু তুলে ধরছে এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও কার্যকর করে তুলতে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে। এ বছর ১২৬টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে ১৮টি সূচকের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবস’াপনার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Reply