জেএমবি’র অর্থায়নে চলত সাজ্জাদের পরিবার

17/05/2017 1:05 am0 commentsViews: 21

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের  বেনীপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত দল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে তদন্ত দলের প্রধান ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার তমিজ উদ্দীন সরদারের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের দলটি ঘটনাস’লে আসে। নিহত জঙ্গি সাজ্জাদ আলীর বাড়িটির বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখার পর আশে পাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত দলের সদস্যরা। অপারেশন সান ডেভিল চলাকালে উপসি’ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ, মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আযম তৌহিদ, স’ানীয় ইউপি সদস্য সুজাউদ্দীনসহ প্রত্যৰদর্শীর কাছ থেকে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের বিবরণ শোনেন।
তদন্ত দলের সঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির প্রতিনিধি ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সার্কেল) একরামূল হক ও গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি। বৃহস্পতিবার বেনীপুর গ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে জঙ্গিদের হামলায় দমকল কর্মী আব্দুল মতিন ও আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণে জঙ্গি সাজ্জাদ আলী ওরফে মিষ্টু, তার স্ত্রী বেলিয়ারা, মেয়ে কারিমা খাতুন, ছেলে আল আমিন ও বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম নিহত হয়। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার কারণে দমকল কর্মী আব্দুল মতিন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। এরই প্রেৰিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৫ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয় বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়।
এদিকে ১০ দিনের রিমান্ডে এনে সুমাইয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  (বিশেষ শাখা) সুমিত চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি বোর্ড।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও গোদাগাড়ী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলতাব হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটক জঙ্গি সুমাইয়া আক্তার বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য তাৎৰণিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে  সুমাইয়া আক্তার পুলিশকে জানায়, জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি’র কাছ থেকে তার ভাই নিহত জঙ্গি আল আমিন প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা করে ভাতা পেত। তার পিতা নিহত জঙ্গি সাজ্জাদ আলী যে কাপড়ের ব্যবসা করত তা পুরো টাকা জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র কাছ থেকে আসত। চলতি বছর জেএমবিদের অর্থায়নে ৭ বিঘা জমি লীজ নিয়ে বোরো ধান চাষ করে সাজ্জাদ আলী।
এদিকে নিহত জঙ্গি সাজ্জাদ আলীর বড় ছেলে সোয়েব আলীকে পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি। ঘটনার আগের দিন রাতেই মাঠে বোরো ধানের জমিতে পাহারা দিচ্ছিল সোয়েব আলী। তাদের বাড়ি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে ফেললে সোয়েব আলী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ ও স’ানীয় সূত্রগুলি জানায়। এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, জঙ্গি সোয়েব আলীকে আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply