পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

১৩/০৫/২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 26

অপরাধ দমন ও অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই পুলিশের অন্যতম কাজ। মূলত এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই পুলিশ জনগণের সেবা করে। এর ব্যত্যয় ঘটলে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা বেড়ে যায়। এতে করে সরকারের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হয়। এসবই সংশিৱষ্টদের জানা থাকলেও মাঝে মধ্যে পুলিশ সদস্যদের কারো কারো ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি যেমন পবা থানা পুলিশের কাজে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মারপিটের ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন পারিলা ইউনিয়নের বামনশিকড় গ্রামের জনৈক আজিজুল হক। ২ তারিখের এই মামলার আসামিকে ৮ তারিখ শেষ রাতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হলেও পরদিন আদালতে না পাঠিয়ে বেলা ৩ টার দিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও লোকজন ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি, আটকের নামে হয়রানি, মাদক ব্যবসায়ীর বাসা থেকে মাদক উদ্ধার করেও মামলা না করার মত বিভিন্ন অভিযোগ শোনা গেছে পবা থানার পুলিশ সদস্যদের বির্বদ্ধে। উলিৱখিত আসামি ধরে ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসায় ঘটনা অস্বীকার করে এবং থানার ওসি ছুটিতে থাকায় কিছু জানেন না বলে দায় এড়াতে চেয়েছেন। স’ানীয় জনপ্রতিনিধি অবশ্য পুলিশের এমন ভূমিকায়  ৰুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এতে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।
সরকার আইনের শাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যাই প্রচার কর্বক না কেন মানুষ বাস্তবে যা দেখছে, শুনছে সেটাকে উড়িয়ে দিতে পারে না। রাত গভীরে আসামিকে আটক করে থানায় এনে ১২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়ার পেছনে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে তা নিয়ে চায়ের দোকানে পর্যন্ত আলোচনার শেষ নেই। এতে করে পুলিশের প্রতি বিদ্যমান আস’াটুকুও যে তলানিতে গিয়ে ঠেকবে সেটা বলার অপেৰা রাখে না। দুষ্টের দমন ও সিস্টের পালনই যদি পুলিশের দায়িত্ব হয়ে থাকে তবে উলিৱখিত ঘটনাসহ আলোচিত বিষয়গুলির সরেজমিন তদন্ত ও দোষীদের বির্বদ্ধে আইনানুগ ব্যবস’া গ্রহণের বিকল্প নেই। দুয়েকজনের অপকর্মের কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম নষ্ট হোক এটা কারও কাম্য হতে পারে না। আমরা বিষয়টির প্রতি জেলা পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপৰের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

Leave a Reply