এবারও এসএসসিতে রাজশাহী সেরা

06/05/2017 1:04 am0 commentsViews: 51

টানা তৃতীয়বারের মতো দেশসেরা হলো রাজশাহী শিৰা বোর্ড। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীৰার ফলাফলে সব শিৰা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে রাজশাহী এগিয়ে আছে। এসএসসিতে সারা দেশে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিৰার্থী পাস করলেও রাজশাহীতে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ। এই বোর্ডে গত ৫ বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম হলেও শীর্ষ স’ানটি ধরে রেখেছে রাজশাহী শিৰা বোর্ড। এখানে এবার পাসের হারে মেয়েরা আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে আছে ছেলেরা। গত ৭ বছরে এখানে পাসের হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। একই সঙ্গে পরীৰার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৪২ জন। আর জিপিএ-৫ পাওয়া সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৪১২ জন। সারা দেশে পাসের হার এবারে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে ১ হাজার ১৯৫ জন। এতে অবশ্য এককভাবে বিজ্ঞান শিৰার্থীদেরই অবদান রয়েছে। রাজশাহীতে বিজ্ঞান শাখায় পাসের হার যেখানে ৯৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ সেখানে মানবিক শাখায় ৮৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। শুধু এবারই নয়, প্রতিবছরই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে পিছিয়ে থাকে মানবিকের শিৰার্থীরা। এটা চিনৱার বিষয় বটে !
এবার পাসের হার কমার ৰেত্রে উত্তরপত্র মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতি ছাড়াও কুমিলস্না বোর্ডের ফলাফল দায়ী। সেখানে পাসের হার কমেছে ২৫ শতাংশ। রাজশাহীতে পাসের হারের সাথে জিপিএ-৫ পাওয়া সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। তারপরও দেশসেরা অবস’ান ধরে রাখার জন্য রাজশাহী শিৰা বোর্ডের অধীনসৱ সব স্কুলের শিৰক-শিৰার্থী-অভিভাবকসহ সংশিস্নষ্ট সবাইকে আমাদের পৰ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
এবার শতভাগ পাস স্কুলের সংখ্যা যেমন কমেছে তেমনি বেড়েছে শূন্য পাস স্কুলের সংখ্যা। সারাদেশে ২ হাজার ২৬৬ টি স্কুলের সব পরীৰার্থী পাস করেছে। গতবার সংখ্যাটি ছিল ৪ হাজার ৭৩৪। আর এবার একজনও পাস করতে পারেনি এমন স্কুলের সংখ্যা ৯৩। যা গত বছর ছিল ৫৩ টি। রাজশাহীতে শতভাগ পাস স্কুলের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত বছর যা ছিল ৮০০ টি, আগের বছর ৯৬৯ টি আর এবারে ৪২৯ টি। তবে এখানে শূন্য পাস স্কুলের সংখ্যা মাত্র ১ টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর এলাকার স্কুল। ২ জন পরীৰার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন স্কুলের সংখ্যা ছিল ২।
এবছর কারিগরি শিৰা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিৰা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীৰায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই গতবারের চেয়ে কমে গেছে। এবার দাখিল পরীৰায় পাসের হার আগের তুলনায় ১২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ আর জিপিএ-৫ সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। হঠাৎ করে এই কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা পাওয়া বেশ কঠিনই।
এসএসসি ও সমমানের পরীৰায় পাসের হার কমে যাওয়ার ৰেত্রে উত্তরপত্র মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতিকেই দায়ি করা হয়েছে। এটা খোদ শিৰামন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। আগের মতো ঢালাও নম্বর দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে এবার। তাছাড়া গণিত ও ইংরেজিতে কয়েকটি বোর্ডে খারাপ ফলও পাসের হার কমিয়েছে। তবে শিৰার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ার পরও পাসের হার কমে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি কারও কাছ থেকেই।
আরেকটি বিষয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া বিপুল সংখ্যাধিক শিৰার্থীই রাজধানী ও বড় বড় শহরের স্কুল শিৰার্থী। ক্যাডেট কলেজগুলোও এর অনৱর্ভুক্ত। এমন অবস’া শহর ও সুবিশাল গ্রামাঞ্চলের শিৰায় বিদ্যমান অসমতাই প্রকটভাবে তুলে ধরে। স্কুল শিৰায় শহর-গ্রামের এমন বৈষম্য দেশের আর্থ-সামাজিক বৈষম্যেরই প্রতিফলন। এর শেষফল কী হতে পারে সেটা ভেবে দেখার বিষয়। এদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিৰার্থীদের জন্য ভালো কলেজের সংখ্যা ও ভর্তির সুযোগ পাওয়া নিয়ে এখনই মাথাব্যথা শুরম্ন হয়েছে। ফলে তাদের আজকের উলস্নাস বিষাদে পরিণত হতে সময় লাগবে না যখন ভর্তির জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে।
এমন প্রতিবন্ধকতার মুখে তরম্নণ মেধাবীদের মেধাবিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে বাধ্য। আমরা জাতীয়ভিত্তিক একমূখী শিৰা ব্যবস’ার কথা শুনতে পেলেও বাসৱবে শিৰা ৰেত্রে বিভক্তি ও বৈষম্য যে প্রকট সেটা কে অস্বীকার করবে?

Leave a Reply