বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই রেলকর্মী ছাঁটাই

০৪/০৫/২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 21

মহান মে দিবসেও যারা ডিউটি করেছে পশ্চিম রেলের সেই গেট কিপাররা তার পরদিনই মুখের কথায় চাকরি হারিয়েছেন। দৈনিক মজুরিভিত্তিক এই রেলকর্মীেেদর ৬ মাসের বেতনও দেওয়া হয়নি। এমন অমানবিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিৰুব্ধ গেট কিপাররা অবস’ান ধর্মঘট পালন করেছেন। আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছেন।
জানা গেছে, পশ্চিম রেলের ১৭১ জন কর্মী দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে বছরের পর বছর গুর্বত্বপূর্ণ গেট কিপারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৬ মাস ধরে বেতন না দেওয়ায় ৩০ এপ্রিল তারা প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ধর্না দেন। তার অনুপসি’তিতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাসও দেন। কিন’ একদিন পরই তারা ছাঁটাইয়ের ঘোষণা পান। অস’ায়ী শ্রমিক হিসেবে সংশিৱষ্ট কর্মকর্তার মুখের কথাতেই তাদের চাকরি নট হয়ে যায়।
১৫ বছরেরও বেশি এক নাগারে একই কাজ করার পরও চাকরি স’ায়ী হয় না, এটা কেমন বিধান? এখন বয়েস হয়ে যাওয়ায় চাকরি হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন এই লোকগুলো? যারা দিন রাত ২৪ ঘণ্টা, রোদ বৃষ্টি মাথায় করে রেল গেট পাহারা দিয়ে যাত্রী ও পথচারীদের জান-মাল রৰা করেছেন এখন তাদের রৰা করবে কে? এসব প্রশ্নের জবাব না পেয়ে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবতে বসেছে ১৭১ টি পরিবার!
১৬ কোটি  মানুষের এই দেশে এদের সংখ্যা খুবই সামান্য। কিন’ যেভাবে তাদের মাথায় আকাশভাঙা হলো সেটা মোটেই ছোট ঘটনা নয়। তাও আবার রেলওয়ের মত সরকারি সংস’ার পুরনো কর্মী তারা। এভাবে চাকরিচ্যুতির অন্যায়, অমানবিক বিধান কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। শুধু অন্যায়, অমানবিকই নয়, এটা সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন’ীও। যদিও প্রচলিত বিধানে এমনটা হয়েই থাকে। ভুক্তভোগীরা অতিসাধারণ নিম্নমানের কর্মী হওয়ায় এ নিয়ে প্রতিবাদ উঠলেও তাতে যে কর্তৃপৰের কানে পানি ঢুকবে সে আশা খুবই ৰীণ। সেটা বোঝা গেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলীর কথা থেকেই। জিজ্ঞাসার জবাবে তার সাফ কথা, বাড়ির কাজের লোকের মতবেতন দিতে না পারায় গেট কিপারদের ছাঁটাই করেছে রেল কর্তৃপৰ।
জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা দায়িত্বশীলতার পরিচয় বলা যাবে না। বিষয়টিকে একান্ত মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে ১৭১ জন গেট কিপারের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও তাদের চাকরি স’ায়ী করা এবং অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ করার দাবি না জানিয়ে পারছি না আমরা। আশা করা যায় রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপৰ বিষয়টির প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন।

Leave a Reply