রাজশাহী অফিসার্স মেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

30/04/2017 1:07 am0 commentsViews: 294

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অফিসার্স মেসের একটি কৰের দরজা ভেঙে সাব্বির আহমেদ সরফরাজ (৩৩) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে মেসের নিচতলার একটি কৰে তার লাশ পাওয়ার পর সন্ধ্যায় সেটি উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিমঘরে পাঠানো হয়।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তা নগরীর রাজপাড়া থানা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা এম ওবাইদুলৱাহ আরএমপির কমিশনার ছিলেন। ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি অবসরে যান। সরফরাজের মা ফাতেমা বেগম রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সাবেক মহাব্যবস’াপক। তার ছোট ভাই মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত।
এসি সরফরাজ ৩১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুরে। তিন বছরের এক কন্যা সন্তানের জনক সরফরাজ স্ত্রী সূচনা ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে নগরীর উপশহর এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী সুচনা একজন চিকিৎসক। শ্বশুর বাড়ি নগরীর কাজিহাটা এলাকায়।
গতকাল সন্ধ্যায় অফিসার্স মেস থেকে তার লাশ হিমঘরে পাঠানোর পর আরএমপির কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এসি সরফরাজ মাঝে মাঝে মেসের এই কৰটিতে এসে ‘বিশ্রাম’ করতেন। গত শুক্রবার তিনি রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ডিউটিতে ছিলেন। এরপর তিনি মেসে আসেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সরফরাজের মৃত্যুর খবর পান। তার লাশ জানালার গ্রীলের সঙ্গে নাইলনের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস’ায় ছিল। আর কৰটি ছিল ভেতর থেকে লাগানো। বিকেলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস’লে গেলে তাদের উপসি’তিতে দরজা ভেঙে কৰে প্রবেশ করে লাশ নামানো হয়। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা তদন্ত করেন।
আরএমপি কমিশনার জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপসি’তিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস’ত করেছে পুলিশ। আর একজন চিকৎসক ঘটনাস’লে গিয়ে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এসি সরফরাজ আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। তখন নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।
ময়নাতদন্তে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে কী না জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, এটা পরিবারের মতামতের ওপর নির্ভর করবে। তারা যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই ময়নাতদন্ত করা হবে। এ ব্যাপারে পরিবারের পৰ থেকে কোনো মামলা করা হবে কী না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পরিবার এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জানায়নি। সাধারণত আত্মহত্যা করলে যে আইনগত ব্যবস’া নেওয়া হয়, সেই প্রক্রিয়াতেই পুলিশ এগোচ্ছে।
এদিকে গতকাল সকাল থেকে পুলিশের ওই অফিসার্স মেসে গণমাধ্যমকর্মীদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। ফলে কেউ নিহত সরফরাজের লাশ দেখতে পাননি। তবে মেসের ভেতরে ঢুকেছিলেন নিকটাত্মীয়দের কেউ কেউ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, লাশ সোফায় ছিল না। লাশ ঝুলছিল। সরফরাজের দেহে আঘাতের কোনো চিহ্নও পাওয়া যায়নি। ওই কৰ থেকে সরফরাজের অস্ত্র বা অন্য কিছু খোয়া গেছে কী না জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, কোনো কিছুই খোয়া যায়নি। এসি সরফরাজ কখনও কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
আরএমপির মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, নিহত এসির বাবা তাদের অনুরোধ করেন, পরিবারের সদস্যরা না আসা পর্যন্ত যেন লাশ নামানো না হয়। এ জন্য বিকেল পর্যন্ত অপেৰা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিকেলে ঢাকা থেকে আসেন। এরপর লাশ নামানো হয়। আজ রোববার লাশের ময়নাতদন্ত করার সম্ভাবনা আছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় রাজপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও করা হবে। তবে বাদী কে হবে তা এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে অফিসার্স মেস থেকে লাশ নিয়ে যাওয়ার কিছুৰণ আগে একটি প্রাইভেটকারে চড়ে নিহত সরফরাজের বাবা এম ওবায়দুলৱাহ ও মা ফাতেমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুলৱাহ বলেন, ‘সরফরাজের আত্মহত্যার কোনো কারণ নেই’। তাকে খুন করা হয়েছে কী না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা বলতে পারবো না। ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টি বলা যাবে’।
এ সময় এসি সরফরাজের চাচাতো বোন শাকিলা বেগম দাবি করেন, তারা সরফরাজের আত্মহত্যার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তার পারিবারিক কোনো সমস্যাও ছিল না। মৃত্যুর আগের দিনও তিনি পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেছেন। হাসি-খুশি থেকেছেন। তাই তিনি আত্মহত্যা করেছেন, এ বিষয়টি তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না।

Leave a Reply