শিৰা প্রতিষ্ঠানে অব্যবস’া কাম্য নয়

২৯/০৪/২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 18

দেশের শিৰা ব্যবস’ায় যুগানৱকারী উন্নয়নের দাবি করা হলেও অব্যবস’ার শেষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরম্ন করে গ্রামের প্রাইমারী স্কুলেও জমাট বেঁধে থাকা অনিয়ম খালি চোখেই দেখা যায়। শিৰক সংকট, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দীর্ঘদিনের অনুপসি’তির মত বিষয়গুলো যে সব কাজেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সেটা দেখেও দেখেন না কর্তাব্যক্তিরা। ফলে বিশৃঙ্খলার পৰেই যুক্তি তুলে ধরার বাতিক বাড়ছে। গতকালের সোনালী সংবাদে রাজশাহী শহরের দু’টি সরকারি হাই স্কুলে প্রধানশিৰকের পদ শূন্য থাকা নিয়ে প্রকাশিত খবরে এমন পরিসি’তির কথাই উঠে এসেছে।
রাজশাহী সরকারি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল এবং হেলেনাবাদ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রধান শিৰক না থাকলেও সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰের ঘুম ভাঙছে না। গেজেট ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিৰকের দায়িত্বপালনকারী সহকারী শিৰক প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মত কাজ করতেও পিছিয়ে থাকছেন না। প্রধান শিৰকের অভাবে প্রশাসনিক কাজে স’বিরতা দেখা দিলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিৰা (মাউশি) অধিদপ্তরের গড়িমশির শেষ নেই।
ল্যাবরেটরি স্কুলে প্রধান শিৰকের অনুপসি’তিতে শিৰকদের মধ্যে লবিং-গ্রম্নপিং বেড়ে গেছে, পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে, স্কুল ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে, হোস্টেল ব্যবস’াপনা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। শিৰক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে এমন সব অভিযোগ জানার পরও সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰ নিরব। তাদের চোখে কোনো সমস্যাই ধরা পড়ছে না! ওদিকে হেলেনাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিৰক ধরাধরি করে স্কুল পরিদর্শক পদে যোগ দিলেও নতুন করে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। বালিকা বিদ্যালয় হওয়ায় সেখানে অবস’া আরও জটিল। শিৰা প্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস’া কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না।
বিষ্ময়ের কথা, শহরের গুরম্নত্বপূর্ণ সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয় দুটিতে প্রধান শিৰকের পদায়নে সচেষ্ট না হয়ে মাউশির সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক বেশ কিছু স্কুল থেকে পছন্দসই কর্মচারিদের নিজের অফিসে টেনে নেওয়ার ও বদলি করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ উপেৰা করে চলা এই কর্মকর্তা সরকারি হাইস্কুলে প্রধান শিৰক না থাকার বিষয়টি কোনো সমস্যাই নয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি করা ব্যক্তির কাছ থেকে কি-ই বা আর আশা করা যায়!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় মাস খানেক হলো শীর্ষ পদে নিয়োগ আটকে থাকার পেছনে একই ধরনের মানসিকতা কাজ করছে কি-না আমাদের জানা নেই। দেশের দ্রম্নত অগ্রগতিতে শিৰার প্রসারে যেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের চাহিদামত নিয়োগ দেওয়াসহ উন্নয়নমূলক কর্মকা- বাড়ানো জরম্নরি সেখানে আসন্ন বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেলেও তুলনামূলকভাবে শিৰা খাতে বরাদ্দ না বাড়ানোর অভিযোগও ফেলে দেওয়া যায় না। শীর্ষ পর্যায়েই যদি এমন শিৰা বিরোধী মনোভাব বিরাজ করে তাহলে নিম্ন পর্যায়ে ভিন্ন কিছু আশা করা যায় কি?

Leave a Reply