নিয়ামতপুরে জলাবদ্ধতা ও পোরশায় ঢলের পানিতে / তলিয়ে গেছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ধান

28/04/2017 1:04 am0 commentsViews: 50

সোনালী ডেস্ক: নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রসৱাবিত রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও পোরশায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির বোরোধান তলিয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব এলা-কার কৃষক।
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, বৈরী আবহাওয়া ও কয়েক-দিনের ভারী বর্ষণে ছাতড়া বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নিয়ামতপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে ৰতির শিকার হয়েছেন চন্দন-নগর, ভাবিচা, শ্রীমনৱপুর ও বাহা-দুরপর ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক বোরোচাষি। ঠিক কেটে নেয়ার আগ মুহূর্তে বোরোধান করেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। কেউ কেউ আধা-পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে চাই-লেও মিলছে না শ্রমিক। আর এজন্য উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ভাতকু- গ্রামের পূর্বপার্শ্বে শিবনদীর উপর প্রসৱাবিত রাবার ড্যাম আজো নির্মিত না হওয়ায় এমনটা ঘটছে বারবার অভিযোগ ৰতিগ্রসৱ কৃষক-দের।
এলাকার কৃষকরা জানান, শিব নদীর উপর রাবার ড্যাম নির্মাণের পরি-কল্পনা থাকলেও তা আজও বাসৱবায়ন হয়নি। ফলে বিল এলাকার কৃষকরা বৃষ্টির পানি সংরৰণের মাধ্যমে বোরোর সেচ সঙকট মোকাবেলায় খালের উপর বাঁধ নির্মাণ করে। আর এ বাঁধেই তাদের কপাল পুড়েছে। হঠাৎ করেই বৈরী আবহাওয়ায় কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ তাদের ফসল ডুবিয়ে দেয়। তাদের অভি-যোগ, রাবার ড্যাম থাকলে খরা মৌওসুমে বৃষ্টির পানি সংরৰণ ও বর্ষায় বা ভারী বর্ষণে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস’া থাকায় তারা এমন ৰতির শিকার হতো না।
এলজিইডি নিয়ামতপুর অফিস সূত্রে জানান যায়, ২০১২ সালে ভারতীয় হাই কমিশন কর্তৃক এ অঞ্চলের মানুষের পানীয় জলের চাহিদা পূরনে ৪ শ ডিপসেট টিউবওয়েল স’াপন করেছিলেন। এর পর ছাতড়া বিল এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও বৃষ্টির পানি সংরৰণ কল্পে এলজিইডি রাবার ড্যাম নির্মাণের লৰে শিবনদীর উপর জায়গা চিহ্নিত করে প্রকল্প জমা দেয়। এর পর প্রসৱাবিত রাবার ড্যাম আপ স্টিমে সনেৱাষপাড়া-ছাতড়া সাব প্রজেক্টেও মাধ্যমে ১১ কিলোমিটার, ৮ কিলোমিটার জিয়া খাল ও ৩ কিজলোমিটার শিব নদী পুনঃখনন করে। কিন’ এখ নপর্যনৱ রাবার ড্যাম বাসৱবায়িত না হওয়ায় এলাকার চাষিরা এসব খালে পানি সংরৰণে বাঁধ দেয়। আর এ বাঁধের কারণেই ছাতড়া বিলের পানি শিবনদীতে নিষ্কাশন না হওয়ায় পানিতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর বোরো ধান।
শ্রীমনৱপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক জানান, গত বছর এলজিইডি সনেৱাষপাড়া-ছাতড়া খাল কাটে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতায় পানি শিবনদীতে নিষ্কাশনের জন্য। কিনৱু মনোহরপুরের কিছু কৃষক পানি সংরৰণের নামে এই খালে বাঁধ দেয়। এ বাঁধের কারণেই কয়েক-দিনের ভারী বর্ষণে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে বিলের ধান তলিয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমীর আব্দুলস্নাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার ৰতিগ্রসৱ কৃষকদের নাম ও জমির পরিমাণ সংগ্রহ করছেন। ইতোমধ্যে ১ শ হেক্টর ৰতিগ্রসৱ জমির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দু একদিনের মধ্যে পুরো তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ৰতিগ্রসৱ কৃষকের তালিকা তৈরির জন্য সংশিস্নষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, পোরশায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ১ হাজার ৮ শ বিঘা জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। উপায় না পেয়ে পানির নিচ থেকে আধা-পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর থেকে নেমে আসা ঢলে পোরশা সীমানেৱর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পুনর্ভবা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে ধানগুলি তলিয়ে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবার রহমান জানান, নিতপুর মৌজা, মহাডাঙা, কোঁচনা ও বাঁকইল এলাকার ২৫০ হেক্টর অর্থাৎ ১ হাজার ৮ শ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ করার কিছু নেই। তবে তিনি তলিয়ে যাওয়া এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন বলে জানান।

Leave a Reply