নগরীতে জঙ্গি আস্তানার খোঁজে দিনভর ‘বৱক রেইড’

26/04/2017 1:07 am0 commentsViews: 81

স্টাফ রিপোর্টার: জঙ্গি আস্তানার খোঁজে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ‘বৱক রেইড’ চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে কাউকে আটক কিংবা কোনো কিছু জব্দ করা ছাড়াই অভিযান শেষ হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলা সাড়ে ৯ ঘণ্টার এই অভিযান উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে নগরীর হড়গ্রাম, কলেজপাড়া ও টুলটুলিপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য চারদিক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপর প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তলৱাশি চালানো হয়।
তলৱাশি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হড়গ্রামে ঢোকার সবকটি গলির সামনে অবস’ান নেয়। তারা মহলৱার ভেতর সাংবাদিকদেরও প্রবেশ করতে দেননি। এছাড়া মহলৱার ভেতর থেকে কোনো বাসিন্দাকে বের হতে কিংবা বাইরে থেকে কাউকে ভেতরেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এতে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন স’ানীয়রা।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মহলৱার বিভিন্ন স’ানে অবস’ান নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এক জায়গায় করে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এর আগে এলাকা ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপ-কমিশনার আমীর জাফর।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমরা ‘বৱক রেইড’ করে থাকি। এ অভিযান তেমনই। এটি বিশেষ অভিযানের একটি অংশ। আজকের মতো অভিযান এখানেই শেষ। পরবর্তীতে এ অভিযান চলবে।’
এটি জঙ্গিবিরোধী অভিযান কী না- জানতে চাইলে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু তথ্য ছিল। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে মিলিয়ে দেখলাম। এ অভিযানে কাউকে আটক করা হয়নি, কিছু উদ্ধারও হয়নি।’
এর আগে দুপুরে ঘিরে রাখা এলাকা থেকে বেরিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ বলেন, অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি কাউন্টার টেররিজম ও সোয়াত টিমের সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।
এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আরএমপির উপ-কমিশনার আমীর জাফর বলেন, আমরা এককভাবেই অভিযানটা করেছি। অন্য কোনো বাহিনী যদি এসে থাকে, হয়তোবা তাদের প্রয়োজনে এসে থাকতে পারে। অন্য বাহিনী কাউকে আটক করলে তারা আমাদের জানাবে।
জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, অন্য কোনো বাহিনী অভিযানে অংশ নিয়েছিল কী না তা আমার জানা নেই। অভিযানে নগরীর চার থানা ও পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং আরএমপির রিজার্ভ ফোর্স অংশ নেয়। অভিযানের সময় সরকারি গোয়েন্দা সংস’ার সদস্যরাও এলাকায় অবস’ান নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো বাড়িকে ঘিরে নয়, পুরো এলাকাটি ঘিরেই ‘বৱক রেইড’ করা হয়েছে। এই অভিযানটি সাধারণত রাতে হয়। তবে এবার এটি দিনের বেলায় করা হয়েছে। দুপুরে খানিকটা সময় বিরতি ছিল। তবে একে অভিযানের প্রথম পর্যায় বা দ্বিতীয় পর্যায় বলা হচ্ছে না।
অভিযানের কোনো নাম দেওয়া হয়েছিল কী না- জানতে চাইলে ইফতেখায়ের আলম বলেন, অভিযানের কোনো নাম দেওয়া হয়নি। এটি একটি সাধারণ অভিযান। আইনশৃঙ্খলা পরিসি’তি স্বাভাবিক রাখতে এবং জঙ্গিরা যেন এলাকায় কোনো আস্তানা গড়তে না পারে, সে জন্য পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চলবে।

Leave a Reply