তানোর ও নিয়ামতপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে বোরোধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙকা

21/04/2017 1:03 am0 commentsViews: 28

সোনালী ডেস্ক: কালবৈশাখী ঝড়ে রাজশাহীর তানোর ও নওগাঁর নিয়ামতপুরে বোরোধানের গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙকা করছেন বোরোচাষিরা।
তানোর প্রতিনিধি জানান, তানোরে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বোরো ধান ও আমসহ ফসলের ব্যাপক ৰতি হয়েছে। এ ঘটনায় কৃষকসহ আম বাগানীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ফলে এলাকার চাষিরা ফলন বিপর্যয়ের আশঙকা করছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর এলাকায় বুধবার সন্ধ্যায় প্রচ- ঝড় ও বৃষ্টি’র কারণে শীষ বের হওয়া বোরো ধান হেলে মাটির সাথে শুয়ে পড়ায় কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে। কৃষকরা বলছেন, আগাম লাগানো বোরো ধানের শীষ বের হয়ে আধা পাকা অবস’ায় থাকা ধান গুলো মাটি’র সাথে হেলে দেবে যাওয়ায় ফলন কম হওয়ার আশঙকা রয়েছে। অপর দিকে ঝড়ে এলাকার গাছে থোকায় থোকায় ধরে থাকা আম ঝরে পড়ায় আমচাষিরা ৰতির মুখে পড়েছেন। রবি ফসল ভুট্টা, পেঁপে, লিচু ও কলাসহ সাজিনা গাছ ভেঙে পড়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একটি মিটিংএ আছি। ঝড়ে ধান ও আমসহ রবি ফসলের ৰতি হয়েছে। তবে কি পরিমাণ ৰতি হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শওকাত আলী বলেন, আমি সকালে কামারগাঁ ইউপি এলাকায় গিয়েছিলাম। বোরো ধান মাটিতে হেলে যাওয়ায় কিছুটা ৰতি হবে। কৃষি কর্মকর্তাকে ৰতি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নিয়ামতপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বুধবার রাতের ঝড়ো হাওয়া ও সাথে বৃষ্টিতে বোরোখেত ও আমের ব্যাপক ৰতি হয়েছে। বিসৱীর্ণ বোরোর মাঠে ঝড়ো হাওয়ায় আধাপাকা ধানগাছ শুয়ে পড়েছে মাটিতে। ঝরে পড়েছে গাছের আম। এতে করে ধান ও আমচাষিদের হাত মাথায় উঠেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ বোরোধানের গাছ শুয়ে পড়েছে। কৃষকরা তাদের জমির পাশে দাঁড়িয়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের কৃষক কাজিউল জানান, গত রাতের ঝড়ো হাওয়া সাথে বৃষ্টিতে তার ৫ বিঘা জমির আধাপাকা ধান শুয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে ধানগাছ শুয়ে পড়লে ফলন অনেক কমে যাবে। এই নিয়ে তিনি দুশ্চিনৱায় রয়েছেন। একই রকম ৰতির কথা জানালেন বোরোচাষি লতিফুর, আশরাফুলসহ অনেকে। ভীমপুর গ্রামের আমচাষি সুজা জানান, ঝড়ো হাওয়াতে তার বাগানের আম অনেক ঝরে পড়েছে। এত করে তিনিও ৰতির চিনৱায় রয়েছেন।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আমীর আবদুলস্নাহ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বোরো ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়লেও ধানে শক্ত দানা চলে আসায় ফলনের তেমন ৰতি হবে না।

Leave a Reply