রাবিতে জঙ্গি সন্দেহে তিন শিৰার্থী আটক

21/04/2017 1:07 am0 commentsViews: 48

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত সন্দেহে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিৰার্থীকে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর থেকে তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায় মতিহার থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন- নরসিংদী জেলার জোবায়ের হোসেন (মার্কেটিং, ১ম বর্ষ), কিশোরগঞ্জের মাকসুদুল হক (প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, ১ম বর্ষ), পাবনার ঈশ্বরদীর আল তৌফিক সানি (ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, ১ম বর্ষ)।
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ র্বনু জানান, কয়েকদিন আগে ‘মধ্যরাতের অশ্বারোহী’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ, আইএসের সমর্থনে করে পোস্ট এবং বাংলাদেশের জঙ্গি কার্যক্রমে উস্কানিমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্টাটাস দেয়। বিষয়টি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নজরে পড়ে। গত কয়েকদিন যাবত একইভাবে সে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করে আসছিল। খোঁজ নিয়ে আইডির মালিক মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিৰার্থী জোবায়ের হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বরে তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছাত্রলীগ। এসময় তার মোবাইলে সিরিয়ার যুদ্ধ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যঙ্গ ভিডিও চিত্র পাওয়া যায়। ফেসবুকে আইএসের পোশাক পরে অস্ত্র হাতে তোলা ছবি দিয়ে ছদ্মনামে প্রোফাইল করা -এমন অসংখ্য আইডির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করার তথ্য-প্রমাণ মেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে ফেসবুকে ইনবক্সে বারবার টেক্সট দেয়ার সূত্র ধরে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের মাকসুদুলকেও ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী বিনোদপুরের বাইতুল মিজান নামের ছাত্রাবাস থেকে ধরে আনে ছাত্রলীগ কর্মীরা। একই সময়ে সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের আল তৌফিক সানি। তার গতিবিধি সন্দেহ হওয়ায় তাকেও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে তিন জনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশে সোপর্দের আগে জোবায়ের হোসেন প্রতিবেদককে জানান, ২০১৪ সালে এসএসসি পরীৰার পর তাবলীগ জামায়াতের চিলৱায় যায় সে। তখন থেকে ইসলামী বিভিন্ন অনুশাসন মেনে চলেন। পরে বিভিন্ন আলেম-উলামাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আসছিলেন। সাম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমে ‘একটি পৰ’ -এর বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা হয়। তাদের ‘ইসলাম ও জিহাদী’ কথা-বার্তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সে ফেসবুকে তাদের লেখাগুলো নিয়মিত শেয়ার করত। যেসব আইডির সঙ্গে সে যোগাযোগ রাখত, সবই ছদ্মনামে। তাদের আসল পরিচয় এখনও জানে না সে। তবে জঙ্গি কার্যক্রমে এখনও জড়িয়ে পড়েনি বলে দাবি করেন জোবায়ের।
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় জোবায়েরের ফেসবুক ইনবক্সে অপরিচিত আইডি থেকে টেক্সট আসে- ‘অভিনন্দন! ঈমানদারগণ শুধুমাত্র আলৱাহকে ভয় করে!’ এছাড়া তাকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের সময় থেকে ফেসবুকে ছদ্মনামের আইডিগুলোর ইনবক্সে বিভিন্ন সময়ে বলা কথাপোকথন হঠাৎ ডিলিট হয়ে যেতে থাকে। পরে জানা যায়- তার আইডিতে অন্য কেউ ঢুকে কথোপকথন ডিলিট করছে।
জোবায়েরের বিভাগের কয়েকজন সহপাঠী জানান, ‘জোবায়ের ক্যাম্পাসে তেমন ঘোরাঘুরি করে না। বিভাগের কারও সঙ্গে তার তেমন পরিচয়ও নেই। ক্লাস করে মেসে ফিরে যায়।’ ঘটনাস’লে উপসি’ত হয়ে নরসংদী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, ‘আমরা কেউ তাকে চিনতাম না। ঘটনা শোনার পর এসে দেখলাম, তাকে এর আগে কখনও দেখি নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘শুনেছি তিনজন ছাত্রকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যবস’া নেবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না।’
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর বলেন, ‘তাদেরকে থানায় রাখা হয়েছে। তারা জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত কোনো চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা খতিয়ে দেখা হবে। সেই অনুযায়ী তাদের বির্বদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়া হবে।

Leave a Reply