সমুদ্রের তেল-গ্যাস সম্পদে বিদেশিদের মালিকানা বেশি

২১/০৪/২০১৭ ১:০২ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 2

এফএনএস: বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের কমছে এবং বিদেশিদের বাড়ছে। জ্বালানি বিভাগ সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে (আইওসি) আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। দেশে গ্যাস ও তেলের সংকট থাকা সত্বেও ওসব প্রতিষ্ঠানকে রফতানির সুযোগ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদিত সম্পদের মালিকানায়ও যথেষ্ট সুবিধা পাচ্ছে ওসব আইওসি। এতে সমুদ্রসম্পদে রাষ্ট্রের মালিকানা ক্রমেই কমছে। সর্বশেষ কোরীয় কোম্পানি দাইয়ুর সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী গভীর সমুদ্রের বস্নক-১২ থেকে প্রাপ্ত সম্পদের মাত্র ১৫ শতাংশের মালিক হবে বাংলাদেশ। বাকি ৮৫ শতাংশ তেল-গ্যাস দাইয়ুর কাছ থেকে কিনতে হবে। জ্বালানি বিভাগ সংশিস্নষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, আনৱর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় বিদেশি কোম্পানিগুলো তেল-গ্যাস অনুসন্ধা-নে আগ্রহী নয়। ওই কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য পিএসসি সংশোধন করে গ্যাস রফতানি ও কস্ট রিকভারির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে রফতানির আগে প্রথমেই সংশিস্নষ্ট কোম্পানিকে পেট্রো-বাংলাকে প্রসৱাব দিতে হবে। পেট্রোবাংলা রাজি না হলে দেশিয় অন্য কোম্পানিগুলোকে প্রসৱাব দিতে হবে। তাও যদি না হয়, তা হলেই শুধু তারা গ্যাস রফতানি করতে পারবে। গত ১৪ মার্চ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রম্নত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ আইন) আইন ২০১০-এর আওতায় গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর বস্নক ইজারা দেয়া হয়। কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই কোরিয়ার পোসকো দাইয়ু করপোরেশনের সাথে রফতানির সুযোগসহ উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তিটি (পিএসসি) করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি এ চুক্তির প্রথম দুই বছর ১ হাজার কিলোমিটার লাইনে দ্বি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনা করবে দাইয়ু। ওই হিসাবে মনে করা হচ্ছে ২০১৯ সালের শুরম্নতে বস্নকটিতে সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। চুক্তিমতে ওই বস্নকে ত্রিমাত্রিক জরিপটি পরিচালনা করা হবে তৃতীয় বছর। পরবর্তী দুই বছরে বস্নকটিতে কূপ খনন করবে প্রতি-ষ্ঠানটি। খননে গ্যাস পাওয়া গেলে প্রাপ্ত সম্পদ বার্ষিক ৭০ শতাংশ হারে ব্যয় বাবদ তুলে নেবে দাইয়ু। বাকি ৩০ শতাংশ পেট্রোবাংলা ও দাইয়ুর মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে। সে হিসাবে ওই বস্নক থেকে প্রাপ্ত সম্পদের মাত্র ১৫ শতাংশের মালিকানা থাকছে রাষ্ট্রের। তবে বাকি সম্পদ ব্যবহার করতে চাইলে দাইয়ুর কাছ থেকে তা কিনে নিতে হবে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দাইয়ু ছাড়াও বর্তমানে দেশের সমুদ্রাঞ্চলে অস্ট্রে-লিয়ার সানেৱাস, ভারতের ওএনজিসি ভিদেশ ও সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি অনুসন্ধান কাজ করছে। ওই তিন প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপে-ক্সের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। ওসব কোম্পানির সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে কস্ট রিকভারির পরিমাণ দাইয়ুর চেয়ে অনেক কমে করা হয়েছে। অগভীর সমুদ্রে বস্নক-১১-এ কাজ করছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি সানেৱাস। ওই কোম্পানির সাথে হওয়া পিএসসি অনুযায়ী কস্ট রিকভারি দেয়া হয়েছে ৬০ শতাংশ। সেক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে শর্তাধীন রফতানির সুযোগ। আর গভীর সমুদ্রের ৪ ও ৯ নম্বর বস্নকে কাজ করছে বাপেক্স, ওএনজিসি ভিদেশ ও অয়েল ইন্ডিয়া। সমুদ্রের তুলনায় স’লভাগে সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কস্ট রিকভারির সুযোগ আরো কম। স’লভাগে তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী আইওসি কোম্পানি-গুলোকে পিএসসিতে ৫৫ শতাংশ কস্ট রিকভারি দেয়া হয়েছে। ওসব কোম্পানির উৎপাদিত গ্যাস ও তেলের বাকি ৪৫ শতাংশ পেট্রো-বাংলা ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, বিগত ২০০৮ সালের উৎপাদন অংশীদারি চুক্তিতে (পিএসসি) বিদেশি কোম্পানিকে গ্যাস রফতানির সুযোগ দেয়া হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে নতুন করে সমুদ্রের বস্নক ইজারা দেয়ার সময় ওই সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়। ২০১২ সালের পিএসসি অনুযায়ী সমুদ্রে গ্যাস পেলে তা অবশ্যই দেশের মধ্যে বিক্রি করার বাধ্য-বাধকতা ছিল। সেক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা না নিলে তা দেশীয় তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির সুযোগ ছিল। গ্যাস রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল উচ্চ আদালতেরও। কিন’ বর্তমানে সংশোধিত পিএসসিতে নতুন করে আবার গ্যাস রফতানির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে পিএসসিতে রফতানির এ সুযোগ রাখার বিষয়টিকে সাং-ঘর্ষিক মনে করছে না জ্বালানি বিভাগ। তাদের মতে, বাংলাদেশ জ্বালানি ঘাটতির দেশ। বিদেশি কোম্পানির কখনই গ্যাস রফতানির প্রয়োজন হবে না। পেট্রোবাংলাই সব গ্যাস নিয়ে নেবে। তেল-গ্যাস অনু-সন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতেই এমন সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কস্ট রিকভারি বেশি থাকায় উৎপাদিত সম্পদের বেশি অংশের মালিক হবে বিদেশি কোম্পানিগুলোই। এর সাথে রফতানির সুযোগ থাকায় তারা পেট্রোবাংলার কাছে বাড়তি দাম দাবি করতে পারে। ফলে দ্রম্নত মুনাফা তুলে নেয়ার লক্ষ্যে অতিরিক্ত উত্তো-লন করে তা বিদেশে রফতানি করতে চাইবে কোম্পানিগুলো। কারণ আই-ওসি কোম্পানিগুলো কস্ট রিকভারির হিসাব অনেক বাড়িয়ে দেখায়। কিন’ হিসাবের ওই ফাঁকফোকর ধরতে ব্যর্থ হয় পেট্রোবাংলা। কস্ট রিকভারি বাড়লে দেশের সম্পদের অংশ কমে যায়। তার চেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে রফতানির সুযোগের বিষয়টি। এমন সুযোগ দিলে আইওসি কোম্পানি বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে চাইবে। তাতে সরকারের ব্যয় বেড়ে যাবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর  ফয়জুলস্নাহ কোনো মনৱব্য করতে রাজি হননি।

Leave a Reply