প্রতিবাদের এমন ভাষা গ্রহণযোগ্য নয়

20/04/2017 1:04 am0 commentsViews: 23

অন্যায়ের বিরম্নদ্ধে প্রতিবাদ সবসময়ই ন্যায়সঙ্গত। এমন প্রতিবাদ সবারই কাম্য। এই প্রতিবাদ, প্রতিরোধ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পধ বেয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা। কিন’ অতি সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চারম্নকলা অনুষদ চত্বরে কতিপয় শিৰার্থীর প্রতিবাদ বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাতের আঁধারে সংঘটিত তাদের এই প্রতিবাদ কারও কাছেই গ্রহনযোগ্য হয়নি। এমনকি খোদ প্রতিবাদকারীরাও শেষমেশ ৰমা প্রার্থনা করেছে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য।
গত সোমবার গভীর রাতে মৃৎ শিল্প ও ভাস্কর্যবিভাগের সাত শিৰার্থী চারম্নকলা অনুষদ চত্বরে বিভিন্ন সময়ের শিৰার্থীদের বানানো প্রায় পাঁচশতাধিক ভাস্কার্য উল্টে-পাল্টে রেখে দেয়। এমন হতবাক করা ঘটনার পেছনে কারণ হিসেবে তারা অনুষদ চত্বরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং বহিরাগতদের দৌরাত্ম ঠেকাতে কর্তৃপৰের ব্যবস’া গ্রহণের দাবি তুলে ধরার কথা জানিয়েছে। দাবি যাই হোক, এমন ঘটনায় চারম্নকলা অনুষদসহ বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ৰোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সমাবেশ ও মিছিলও হয়েছে। শিৰক-শিৰার্থীদের কাছে দাবির কথা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। সবারই এক কথা, শিল্পের এমন অবমাননা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। তাও আবার যারা শিল্প চর্চায় জড়িত তাদের কাছ থেকে এমন ভূমিকা কল্পনা করাও কঠিন। তাই ঘটনার পেছনে অন্য কারণ আছে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারও ইন্ধন কাজ করেছে কি-না সে কথাও উঠেছে। তাই তদনৱ করে ব্যবস’া গ্রহণ করার পৰেই মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
তবে এটা ঠিক যে, রাবির চারম্নকলা অনুষদের শিৰার্থীদের নানা সমস্যার মধ্যেই থাকতে হয়। অর্থ সংকট ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে শিৰার্থীদের শিল্পকর্মগুলো গুছিয়ে রাখা এবং সেখানকার পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সম্ভব হয় না। ফলে শ্রেণী কৰে ময়লা আবর্জনার সৱূপ জমে থাকে। শিৰার্থীদেরই সব কিছু পরিস্কার করতে হয়। এসব নিয়ে হতাশা ও ৰোভ ছিল শিৰার্থীদের মনে। তাছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় চারম্নকলা চত্বরে বহিরাগতদের ছিল অবাধ আনাগোনা। এখানে তারা আড্ডা মারে, নেশা করে। দুর্ব্যবহার করে শিৰার্থীদের সঙ্গে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিরোধও বেধে যায়। এসব কিছুর বাসৱবতা কেউই অস্বীকার করেনি। কিন’ এজন্য ভাস্কর্য উল্টে ফেলতে হবে, এটা কারও সমর্থন পায়নি।
কারণ যাই হোক প্রতিবাদ যদি বাসৱবসম্মত না হয় তবে সমস্যার সমাধান কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন সংকট সৃষ্টি হয়। এমন উদাহরণ অনেক আছে। তাই সমস্যা সমাধানের জন্য অবশ্যই প্রতিবাদের সঠিক ভাষা খুঁজে পেতে হবে। প্রতিবাদ এমন হতে হবে যা গ্রহণযোগ্যতা পায়। অগ্রহণযোগ্য প্রতিবাদ, পেছনে যত বড় কারণ বা যুক্তিই থাক, তা নিস্ফল হতে বাধ্য। বিষয়টি মনে না থাকলে প্রতিবাদকারীদেরই প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। যেমনটি হয়েছে রাবিতে। সব ৰেত্রেই এটি মনে রাখা দরকার।

Leave a Reply