বৃষ্টিতে স্বস্তি কৃষিতে উপকার

20/04/2017 1:05 am0 commentsViews: 22

স্টাফ রিপোর্টার: কয়েকদিন ধরেই চলছিল মাঝারি দাবদাহ। এতেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল রাজশাহীর জনজীবন। অবশেষে নগরজীবনে স্বস্তি নিয়ে দিল বৈশাখের বৃষ্টি। এতে কমল তাপমাত্রা। আর প্রশান্তি পেলেন গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষ।
রাজশাহী অঞ্চলে সর্বশেষ গত মার্চের ১১ তারিখ বৃষ্টি হয়েছিল। এরপর আর বৃষ্টি হয়নি। বৈশাখের কয়েকদিন চলে গেলেও বৃষ্টি হচ্ছিল না। গতকাল বুধবারও রোদের ঝিলিমিলিতে শুর্ব হয়েছিল রাজশাহীর সকাল। তবে সময় গড়াতেই মেঘের আনাগোনা শুর্ব হয় আকাশে।
রোদ মুছে গিয়ে এক সময় মেঘে মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। থমথমে প্রকৃতিতে ভ্যাপসা গরম হয়ে ওঠে অসহনীয়। তাই মানুষের বৃষ্টির প্রত্যাশাও হলো প্রবল। অবশেষে দুপুর ১টার দিকে ফোটায় ফোটায় শুর্ব হলো প্রত্যাশিত বৈশাখী বৃষ্টি। দিকবিদিক ছোটাছুঁটি শুর্ব করলেন পথচারিরা। ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ল।
বৃষ্টি চললো টানা দুই ঘন্টা। এরপর বৃষ্টি থামল। তারপর কিছু সময় ঠা-া বাতাসও বইল। এরপর সন্ধ্যা থেকে শুর্ব হলো আবার বৃষ্টি। কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সাথে শিলাও পড়েছে। দু’দফার এ বৃষ্টিতে কিছুটা শীতল হাওয়ার পরশ পান মানুষ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেৰক রাজীব খান জানান, রাজশাহী শহর ছাড়াও আশপাশের এলাকাগুলোতে এই বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ঠিক দুপুর ১টায় বৃষ্টি শুর্ব হয়। এ বৃষ্টি থামে ঠিক বেলা ৩টায়। এই সময়ের মধ্যে তারা ১৪ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেন।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুর্ব হয় আরেকদফা বৃষ্টি। এই বৃষ্টি চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। এই আধা ঘন্টাতেই রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি। দু’ফায় রাজশাহীতে কাল ২৬ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
মেঘ-বৃষ্টির এ খেলা চলবে জানিয়ে রাজীব খান বলেন, এটি মৌসুমি বৃষ্টি। এখন অস’ায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। পুরো বৈশাখ মাস এভাবেই চলতে পারে।
এদিকে বৃষ্টির পর গরম কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপামাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তখন বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। পরে বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল মাত্র ৪১ শতাংশ।
গতকাল ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৮২ শতাংশ। বেলা ৩টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৯১ শতাংশে। বৃষ্টি হলে এভাবেই তাপমাত্রা কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে প্রত্যাশিত এ বৃষ্টি কৃষিকে আশীর্বাদ করে গেল বলে দাবি করেছেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি। তিনি বলেন, এখন মাঠে বোরো ধান ও পাট আছে, সেগুলোতে বৃষ্টির প্রয়োজন। গাছে আম আছে, সেখানেও বৃষ্টির প্রয়োজন। তাই এই বৃষ্টিটা ধান, পাট ও আমের জন্য খুব উপকার হলো। তবে বৃষ্টির সঙ্গে অতিমাত্রায় শিলা পড়লে আম ও ধানের ৰতি হতো। গতকাল খুব সামান্য পরিমাণ শিলা পড়লেও তাতে কোনো ৰতি হবে না বলেই দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply