পাবনার ‘ডাববাগান’ যুদ্ধ দিবস আজ

19/04/2017 1:02 am0 commentsViews: 5

পাবনা প্রতিনিধি: আজ ১৯ এপ্রিল, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ঐতি-হাসিক ‘ডাববাগান’ যুদ্ধ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাঁথিয়া উপজেলার ডাববাগান বর্তমানে শহিদনগর নামক স’ানে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধা ও ইপিআর বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধ হয়। স্বাধীনতার র্দীঘদিন পরে ওই স’ানে ‘বীরবাঙালি’ নামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলেও রৰণাবেৰনের অভাবে অযত্ন আর অবহেলায় পরে আছে স্মৃতিসৌধটি।
পাবনা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে উত্তর জনপদের প্রবেশদ্বার নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাইকরহাটি গ্রামের একটি পাড়ার নাম ছিলো ডাববাগান। বর্তমান নাম হয়েছে ‘শহিদনগর’। ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে উত্তর জনপদে প্রবেশের পথে পাক হানাদার বাহিনী ‘ডাববাগান’ অর্থাৎ বর্তমান শহীদ-নগর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ও ইপি-আর বাহিনীর সদস্যদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। সে সময় মুক্তিসেনাদের পৰে ওই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইপিআর সুবেদার গাজী আলী আকবর (বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার শানিৱ-ডাঙা গ্রামে)। এ যুদ্ধে বেশির ভাগ যোদ্ধা ছিলেন বেঙগল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী, আনসার সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা। পাকিসেনারা সম্মুখ যুদ্ধে টিকতে না পেরে পিছু হটে নগরবাড়ী ফিরে যায়। যুদ্ধে প্রায় ৫০ জন পাকসেনা নিহত হয়।
এদিকে ওই সম্মুখযুদ্ধে শহিদ হন ইপিআর হাবিলদার মমতাজ আলী, হাবিলদার আব্দুর রাজ্জাক, নায়েক হাবিবুর রহমান, সিপাহী এমদাদুল হক, সিপাহী ঈমান আলী, সিপাহী রমজান আলীসহ আরও অনেক ইপিআর সদস্য ও নাম না জানা বহু মুক্তিযোদ্ধা। সাঁথিয়া উপজেলার মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান প্রমুখ। সম্মুখ যুদ্ধে পরাজয় বরণের পর পিছু হটে যাওয়া পাকিবাহিনী নতুন করে আক্রমণের জন্য প্রস’তি গ্রহণ করতে থাকে। শক্তি বৃদ্ধি করে রাতে আবার আক্রমণ করে পাকসেনারা। এবার পাকবাহিনীর বিশাল শক্তির কাছে টিকতে না পেরে মুক্তিসেনারা পিছু হটে গেলে পাকসেনারা গ্রামবাসীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। একে একে পুড়িয়ে দেয় ডাববাগানের পার্শ্ববর্তী রামভদ্রবাটি, কোড়িয়াল, বড়গ্রাম, সাটিয়াকোলা গ্রাম। পাক-সেনারা নির্বিচারে গুলি চালায় নিরীহ গ্রামবাসীর উপর। লোকজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে শ শ স্বাধীনতাকামী গ্রামবাসীকে। তাদের মধ্যে করমজা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডা. আফাজ উদ্দিন, আব্দুল লতিফ, শেখ কাজেম আলী খাঁ, খোয়াজ শেখ, পিয়ার ম-ল, জাকের আলী শেখ, সৈয়দ আলী মোলস্না, মহর আলী, জগত নারায়ণ বিশ্বাস, সনেৱাষ, শাহজাহান বিএসসি, ফরিদা পারভীন প্রমুখের নাম উলেস্নখযোগ্য। শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এখানে ‘বীর-বাঙালি’ নামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। ওই বছরের ১৯ এপ্রিল স্মৃতিসৌধটি উদ্বোধন করে-ছিলেন তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। তবে বর্তমানে রৰণাবেৰণের অভাবে অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে স্মৃতিসৌধ। এমনকি সেদিনের যুদ্ধে শহিদদের কবরগুলোও চিহ্নিত করা হয়নি।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সাঁথিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পৰ থেকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।

Leave a Reply