নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নর্দাণ’র বাসিন্দারা

19/04/2017 1:06 am0 commentsViews: 10

তৈয়বুর রহমান: সমস্যায় জর্জরিত রাজশাহী মহানগরীর পবাপাড়ার নর্দাণ আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। ২১ বছর ধরে সিটি কর্পোরেশনকে নিয়মিতভাবে ট্যাক্স দিয়ে আসলেও সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে তারা। সেখানে নামমাত্র রয়েছে একটি ড্রেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ড্রেন ও রাস্তা না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি জমে থাকায় ময়লা-মাটি জমে পঁচা দুর্গন্ধময় অবস’ার মুখে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।
এলাকাটি নগরীর শাহ মখদুম থানার ১৮ নং ওয়ার্ডে অবসি’ত। সুযোগ থাকলেও এলাকাটির উন্নয়ন হয়নি দীর্ঘ দিন ধরে। ১৯৯৬ সালে রাজশাহী শহরের দু’জন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  কায়েস ও  রশিদের যৌথ উদ্যোগে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে বসবাসের জন্য আবাসিক এলাকাটি গড়ে ওঠে। কমবেশি বিভিন্ন সাইজের ৫০টির অধিক পৱট বরাদ্দ দেয়া হয়। পৱটের পাশ দিয়ে ১২ফিটের রাস্তা রেখে জমি বিক্রয় করার কথা থাকলেও মাত্র একটি রাস্তা ছাড়া কোন রাস্তাই নির্মাণ হয়নি সেখানে। মালিকানাপ্রাপ্তির পর কিছু মালিক পরবর্তীতে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপৰের অনুমোদিত পরিকল্পনা মোতাবেক বাড়ি নির্মাণ ও সিটি কর্পোারেশনে নিয়মিতভাবে ট্যাক্স প্রদান করে বসবাস করে আসছে।
জানা গেছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতিটি নির্বাচনের পূর্বে উক্ত সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে প্রতিশ্র্বতি দেন নির্বাচিত হবার পর সিটি কর্পোরেশনে প্রজেক্ট আকারে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের ফাইল জমা দেয়াও হয়। অথচ আর্থিক সীমাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি বারবারই আড়ালে চেপে রাখা হচ্ছে। যার ফলে অনেক মালিক রাস্তা ও ড্রেনের সুবিধাদি না থাকায় পৱট বিক্রি করে দিচ্ছেন। এলাকার প্রতি জনপ্রতিনিধিদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈসম্যের শিকার হয়ে বাকীরা নির্বপায় জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বসবাসের শুর্ব থেকেই ড্রেন, রাস্তা ও পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত ঐ আবাসিক এলাকাবাসী। পরবর্তীতে  এলাকাবাসী ধীরে ধীরে পানির সুবিধার আওতায় আসে। প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রেন ও রাস্তার সমস্যাকে প্রধান বিবেচনায় আনলেও সমাধান সুদূরপ্রসারী হওয়ায় কষ্টের মধ্য দিয়েই দিনযাপন করতে থাকে তারা।
সেখানে কিছু বহুতল ভবন নির্মিত হলেও সুযোগ-সুবিধার অভাবে খুববেশি বাড়ি-ঘর নির্মাণ হয়নি। অধিকাংশই এক তলা বিশিষ্ট ভবন। এক দিকে বহুতল ভবন নির্মাণ হলেও সেখানকার অধিকাংশ পৱটে নির্মিত হচ্ছে এক তলা, কোনটি আবার টিনের ছাপড়া। সেগুলো একেবারে নির্মিত হচ্ছে এবড়ো থেবড়োভাবে। এর ফলে কোন কোন স’ানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে এবড়ো থেবড়ো বাড়ি নির্মাণের ফলে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
বিশেষ করে ভারী বর্ষণের সময় নিচু জায়গা ভরে গিয়ে রাস্তা ডুবে যায়। বর্ষার এবং বাসা বাড়িতে প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত পানি নিস্কাশন কোন ব্যবস’া না থাকায় ফাঁকা পৱটে সারা বছর পানি জমে থাকে। ঐ পানি পঁচে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশা-মাছির বংশ বিস্তার করছে, বিষাক্ত পোকামাকড়ের । উপদ্রব বাড়াচ্ছে এর ফলে বিশেষ করে শিশুদের রোগ বালাই লেগেই থাকে এবং কতিপয় বাড়ির পাশে পানি জমে থাকায় বিল্ডিং-এর ভিত দূর্বল হয়ে পড়েছে।
এলাকার স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেকেই অসুস’ পড়ছে। শিকার হচ্ছে বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের। বাসিন্দারা উক্ত বিষয়ে স’ানীয় কাউন্সিলরকে বারবার অবহিত করলে গত বছর শুধুমাত্র পৱটের একটি লেনে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও বাকী পৱটগুলো এর আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
পৱটের একজন স’ায়ী বাসিন্দা সরকার হেলাল উজ্জামান লিটনের সাথে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, গত দুই দশকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে রাস্তা-ঘাট, ড্রেন, বিদ্যূৎ, পানিসহ নাগরিক সেবা প্রদানের ৰেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদন করলেও এই আবাসিক এলাকায় ড্রেন ও রাস্তার উন্নয়নে ইতিবাচক কোন পদৰেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন,ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন বর্ধিত হারে ট্যাক্স করেছে। ট্যাক্স আরোপের ৰেত্রে রাস্তা, ড্রেন সুবিধা আছে কিনা তা বিবেচনায় আনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, এবার আশংকা করা হচ্ছে, আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ না করা হলে বাড়িটির তিন দিকে ১৪ বছর ধরে পানি জমে থাকায় যে ফাটল দেখা দিয়েছে তা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং বসবাসকারীরা হুমকির সম্মুখিন হতে পারে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নগরীর যে সব এলাকা উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে আছে সে সব এলাকায় উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এবার ঐসব এলাকার উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

Leave a Reply