পুন:ময়নাতদন্তে কবর থেকে রাওধার লাশ তোলার অনুমতি

19/04/2017 1:07 am0 commentsViews: 30

স্টাফ রিপোর্টার: পুন:ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাওধা আতিফের লাশ কবর থেকে তোলার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবুর রহমান এ আদেশ দেন।
আদালতের পরিদর্শক আবুল হাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাওধার লাশের আরেকবার ময়নাতদন্ত করতে চায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ জন্য লাশ কবর থেকে তুলতে সিআইডির পৰ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। গতকাল আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
আবুল হাশেম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপসি’তিতে লাশ তোলার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোন ম্যাজিস্ট্রেট উপসি’ত থাকবেন বা কবে লাশ তোলা হবে তা গতকাল পর্যন্ত ঠিক হয়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এগুলো ঠিক করে দেবেন।
জানতে চাইলে রাওধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক বলেন, আদালতের অনুমতির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত তিনি লিখিত কাগজপত্র হাতে পাননি। কবে লাশ তোলা হবে তা আজ জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় ইসলামী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাওধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাওধা এ কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিৰার্থী ছিলেন। নীলনয়না রাওধা ছিলেন মালদ্বীপের একজন উঠতি মডেল। মাত্র একুশ বছরের রাউধার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি।
রাওধার লাশ উদ্ধারের দিন কলেজ কর্তৃপৰ পুলিশকে জানিয়েছিল, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপৰ বাদী হয়ে নগরীর শাহমখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। এরপর রাওধার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাওধা আত্মহত্যা করেছেন। পরে পরিবারের সদস্যদের উপসি’তিতে রাওধাকে রাজশাহী নগরীর হেতেমখাঁ কবরস’ানে দাফন করা হয়। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে এসে ঘটনা তদন্ত করেন। দেশে ফিরে গিয়ে তারা জানান, রাওধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
রাওধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পৰ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাওধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে গত ১০ এপ্রিল রাওধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহীতেই অবস’ান করছেন।
হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাওধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ মামলায় রাওধার সহপাঠি সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মিরে। সিরাতের বির্বদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিআইডি বলছে, কেবল হত্যার প্রমাণ মিললেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে তাকে নজরদারির ভেতরে রাখা হয়েছে।
রাওধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছিলেন শাহমখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহীন। আর অপমৃত্যুর মামলাটি তদন্ত করছিলেন রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম। রাওধার মৃত্যুর কারণ উৎঘাটনে তার কৰ থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ ও মোবাইলের ফরেনসিক পরীৰার জন্য সেগুলো সিআইডির পরীৰাগারে পাঠিয়েছেন রাশিদুল ইসলাম।
সে প্রতিবেদন এখনও ঢাকা থেকে আসেনি। এরই মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে দুই মামলায় সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। এরপরই রাওধার লাশের পুন:ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেয় সিআইডি। রাওধার লাশ কবর থেকে তুলতে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা আসমাউল হক গত রোববার আদালতে আবেদন করেছিলেন।

Leave a Reply