থোকায় থোকায় আম, মাস পের্বলেই আসবে বাজারে

19/04/2017 1:05 am0 commentsViews: 27

রিমন রহমান: সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে আম। আমের ভারে হেলে পড়েছে ডাল। নুইয়ে পড়া সে ডাল উঁচু করা হয়েছে বাঁশের খুঁটি বেঁধে। আর গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছেন চাষি আনার্বল হক। গত সোমবার বিকেলের এই দৃশ্যটি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মশিদপুর গ্রামের একটি আমবাগানের।
আমচাষি আনার্বল বলেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি হচ্ছে না। কিন’ এখন গাছের গোড়ায় পানি দরকার। কারণ, মাসখানেক পরেই কিছু কিছু গাছের আম পাড়া যাবে। এখন পানি না দিলে আমগুলো আকাশে বেশি বড় হবে না। তাই পুকুর থেকে পানি এনে গাছের গোড়ায় দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়াগত কারণে এবার কিছুটা আগে আগেই গাছে মুকুল আসে। তাই কিছুটা আগেই বাজারে আসবে আম। আর কিছু দিন পরেই মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। মধু মাসের রসালো ফল আম রাজশাহীর বাজারে আসার অপেক্ষা এখন। তাই গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে নানা জাতের আম। পথের পাশের গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আম দৃষ্টি কাড়ছে পথচারিদের। আর মাত্র এক মাস পের্বলেই কিছু কিছু পাকা আমের সৌরভে মাতোয়ারা হবে চারদিক। তারপর বাজারে শোভা পাবে এসব আম।
গোদাগাড়ী উপজেলার চব্বিশনগর এলাকার আম চাষি রহিদুল ইসলাম বলেন, সময় ঘনিয়ে আসায় আমকেন্দ্রিক বাণিজ্য প্রস’তিও এরই মধ্যে শুর্ব হয়ে গেছে। আমবাগান পাহারায় গাছের নিচে তৈরি করা হয়েছে মাচা। গাছে আম থাকা অবস’ায় তা কিনতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীদেরও আনাগোনা শুর্ব হয়েছে। গাছের আম দেখে বাগানেই চলছে দরদাম।
চারঘাটের ভাটপাড়া গ্রামের আমচাষি মজিবর রহমান বলেন, এ মৌসুমে একবার শিলা বৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে। বৃষ্টিহীনতায় কিছু গুটি ঝরেছেও। তারপরেও থোকায় থোকায় এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় আম টিকেছে বেশি। থোকাভরা আম নিয়ে চাষিদের মনে এখন উঁকি দিচ্ছে ভালো ফলনের আশা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর্বল হক বলেন, গত ডিসেম্বরেই এবার রাজশাহী অঞ্চলে ফাল্গুনের আবহাওয়া বিরাজ করেছিল। তখনই কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুল চলে আসে। পরে জানুয়ারীতে আবার শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। তখন মুকুল আসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে সব গাছে মুকুল আসে ফেব্র্বয়ারীতে। এ কারণে এবার আমের মৌসুম থাকবে একমাস বেশি। আগামি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বাজারে গোপালভোগ উঠবে।
গত মৌসুমের আগের মৌসুমে আম পাড়ার ৰেত্রে চাষিদের সময় বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। আমচাষিরা বলছেন, ওই বছর আম পেকে মাটিতে পড়লেও তারা গাছ থেকে পেড়ে বাজারজাত করতে পারেননি। এতে লোকসান গুণতে হয় তাদের। এবার আম পাকবে আগে। তাই এবার যদি সময় বেঁধে দেয়া হয় তবে তারা নিশ্চিত লোকসানের মুখে পড়বেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন বলেন, ‘আম পাড়ার সময় বেঁধে দেওয়া নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু দিনের মধ্যেই সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের সঙ্গে একটি ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার কথা। সেখানে আমচাষি, জনপ্রতিনিধিসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা থাকবেন। ওই দিন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে।’
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত ৮ বছরের ব্যবধানে রাজশাহীতে আমের আবাদ বেড়েছে ৮ হাজার ৭২৯ হেক্টের জমিতে। আর উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন। এ বছর রাজশাহীর ১৬ হাজার ৫৮৩ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি বিভাগ।
রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, ‘এবার রাজশাহীর শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি গাছে মুকুল এসেছিল। গাছে গাছে পর্যাপ্ত গুটিও এসেছিল। এখন যে পরিমাণ আম গাছে ঝুলছে তাতে ভালো ফলন আশা করা যায়। আমাদের লৰ্যমাত্রা পূরণ হবে বলেই মনে হচ্ছে।’

Leave a Reply