রাওধার লাশের পুন:ময়নাতদন্ত চায় সিআইডি, শুনানি আজ

18/04/2017 1:05 am0 commentsViews: 5

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাওধা আতিফের লাশের আরেকবার ময়নাতদন্ত করতে চায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ জন্য লাশ কবর থেকে তুলতে সিআইডির পৰ থেকে এরই মধ্যে আদালতের আবেদন করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর আদালতের পরিদর্শক আবুল হাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাওধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক গত রোববার সন্ধ্যায় তাদের কাছে একটি আবেদনপত্র দিয়েছিলেন।
আবেদনটি শুনানির জন্য তারা গতকাল সোমবার বিকেলে রাজশাহী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত-১ এ দাখিল করেন। এ সময় আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম বলেন, এই আবেদনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের। তাই তিনি এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আদেশ হবে। আজ মঙ্গলবার আদেশের সম্ভাবনা আছে বলেও জানান পরিদর্শক আবুল হাশেম।
গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় ইসলামী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাওধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রাওধার লাশের ময়নাতদন্ত করতে তিন সদস্যর একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওধা আত্মহত্যা করেছেন। পরে পরিবারের সদস্যদের উপসি’তিতে রাওধাকে রাজশাহীতে দাফন করা হয়। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে এসে ঘটনা তদন্ত করেন। দেশে ফিরে গিয়ে তারা জানান, রাউধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পৰ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাওধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে গত ১০ এপ্রিল রাওধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহীতেই অবস’ান করছেন।
লাশ আবার ময়নাতদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক বলেন, একই ঘটনা নিয়ে যেহেতু দুই রকম মামলা হয়েছে, তাই মনে করি-লাশের পুন:ময়নাতদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ জন্যই আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদৰেপ নেওয়া হবে।
আসমাউল হক বলেন, গতকাল তিনিসহ সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাওধার হোস্টেল পরিদর্শন করেছেন। এ দিন তারা রাওধা হত্যা মামলার আসামি সিরাতের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিরাতকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে, কেবল হত্যার প্রমাণ মিললেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply