ছেঁড়াদ্বীপের ‘নৌকায়’ প্রাণের উৎসব

14/04/2017 1:06 am0 commentsViews: 36

রিমন রহমান: নদীর কোলে এপাশে পানি, ওপাশেও পানি। মাঝখানে ছোট্ট একখ- চর। স’ানীয়রা মাত্র শ’দুয়েক গজের সেই চরটির নাম দিয়েছেন ‘ছেঁড়াদ্বীপ’। সেই দ্বীপে খুঁটি পুঁতে ঠিক নৌকার আদলে টাঙানো হয়েছে কালো কাপড়। দেখে মনে হচ্ছে, নদীর কিনারায় বিশালাকার একটি নৌকা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সে ‘নৌকায়’ যেতে পানির ওপরে নির্মিত হয়েছে একটি অস’ায়ী সেতু। ‘নৌকার’ ওপরে একটি ঘর করা হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে টাপর তুলেছে নৌকা। আর পশ্চিম দিকে নৌকার হালের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি হাল। সবমিলিয়ে পানির ওপর যেন ভাসছে আস্ত একটা নৌকা। কিন’ সেটি আসলে একখ- চর।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে এমনই ভিন্ন আয়োজন করেছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মানুষ। উপজেলা সদরে গোদাগাড়ী মডেল থানার সামনেই পদ্মা নদীর পাড়ে এ বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ওই নৌকার ওপরেই চলবে সাত দিনের নানা অনুষ্ঠানমালা।
গত মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বৈশাখী মেলার আয়োজন করতে ছেঁড়াদ্বীপটি সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। তৈরি করা হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মঞ্চ। সেখানে লাগানো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রঙের বাতি। রঙিন আলোর ঝিলিক গিয়ে পড়ছে পদ্মার পানিতে। আর সূর্যাস্তের আলোর সঙ্গে সে আলো মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সেখানে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ দৃশ্য উপভোগ করতে বিকেল থেকেই সেখানে ভিড় করছেন মানুষ।
মেলা প্রাঙ্গনেই পাওয়া গেল আয়োজকদের। আয়োজক কমিটির সভাপতি রাজশাহী জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ রবিউল আলম। তিনি জানালেন, সর্বশেষ ২০০০ সালে গোদাগাড়ীতে বৈশাখী উৎসব হয়েছিল। তাই অনেক দিন ধরেই তারা ভাবছিলেন এমন আয়োজন করার। এবার অনেক দিনের প্রস’তি নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক কমিটিতে রয়েছেন বিভিন্ন স্তরের ১০১ জন ব্যক্তি। সবার আর্থিক সহযোগিতায় এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকবর আলী জানান, আজ শুক্রবার থেকে আগামি ২১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার প্রবেশ পথ খোলা থাকবে। বৈশাখী মেলায় খাবার ও মনোহারী সামগ্রীর দোকান ছাড়াও ছোট-বড় সবার জন্য মিনি সার্কাস, মিউজিক শো, নাগর দোলা, ট্রেন, মোটরসাইকেল খেলা, র‌্যাফেল ড্রর ব্যবস’া রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলায় নির্মিত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নৌকার আদলে মঞ্চ কেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঙালীর প্রাণের প্রতীক নৌকা। তাই প্রাণের প্রতীকেই প্রাণের উৎসবে আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন অনুষ্ঠানের অতিথিদের আশ্রয় ও আপ্যায়নের ব্যবস’া করা হবে এ নৌকায়। নৌকাটির মাধ্যমে একটি ভাষা প্রকাশ করা হলো। আর সেটি হলো- একটু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই পদ্মার তীর হয়ে উঠতে পারে বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, গতকালের মধ্যেই বৈশাখী মেলার শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ মেলা উদ্বোধনের পর সেখানে নৌকাবাইচ ও হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো পদ্মা নদীর দ্বীপে অনুষ্ঠিত এ বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স’ানীয় সাংসদ ওমর ফার্বক চৌধুরী। থানার সামনেই এ আয়োজন হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতিও থাকছে না।

Leave a Reply