ব্যাংক খাতকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি

13/04/2017 1:04 am0 commentsViews: 2

এফএনএস: খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় তা ব্যাংক খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে বলে মত এসেছে এক কর্মশালা থেকে। ২০১৬ সালের জুনে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে গত মঙ্গলবার বিআইবিএমের ওই কর্মশালায় এই উদ্বেগ জানানো হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসানের কথায়ও ছিল খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগের সুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত বছরের সেপ্টেম্বও শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৪ হাজার কোটি টাকা। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে বিআইবিএমের পরিচালক অধ্যাপক ড. প্রশানৱ কুমার ব্যানার্জী জানান, ২০১৫ সালে যেখানে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, তা এক বছরের ব্যবধানে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বড় ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। ডেপুটি গভর্নর রাজি হাসান বলেন, বিআইবিএমের গবেষণায় ২০১৬ সালের ঋণ ব্যবস’াপনায় বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তারল্য এবং খেলাপি ঋণের সমস্যা উঠে এসেছে। এ দুটি বিষয় এখন ব্যাংকিং খাতে উদ্বিগ্নতা বাড়াচ্ছে। কর্মশালায় বিআইবিএমের অধ্যাপক মো. ইয়া-ছিন আলী বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ১ শতাংশের কম। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেএ হার ৪০ শতাংশের উপরে। একই পরিবেশে কাজ করে এত কম-বেশি হবে কেন? এখানে কোনো সমস্যা আছে। পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস’াপনা পরিচালক এবং বিআই-বিএমের অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, আইনি ব্যবস’ায় খেলাপির অর্থ আদায় সময়সাপেৰ। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস’ার সাহায্য নিয়ে তা আদায় করা সম্ভব হতে পারে। রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিল-নায়তনে এ কর্মশালা হয়। মূল প্রবন্ধে ড.প্রশানৱ বলেন, কিন’ ছোট এবং মাঝারি ধরনের প্রতিষ্ঠানে ঋণের পরিমাণ কমছে। এ ৰেত্রে শহরে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর সাথে সাথে গ্রামাঞ্চলে ঋণ প্রবাহের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর একটি অংশ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়বে। কিন’ ব্যাংকগুলো ছোট এবং মাঝারি ঋণগ্রহীতাদের দিকে কম নজর দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোর তারল্য পুঁজি-বাজারে বিনিয়োগ হলে তা ‘আত্ম-ঘাতী’ বলে সতর্ক করে দেন বিআইবিএম মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ব্যাংকের ঋণ ব্যবস’াপনা আরও দৰতার সঙ্গে করতে হলে তথ্য ভা-ারগড়ে তুলতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকেই অর্থ ব্যয় করতে হবে। অধ্যাপক হেলাল চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবির মতো করে জামানত ডাটা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, সরকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে সঠিক সময়ে অবকাঠামো নির্মাণে ব্যর্থ হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না। ফলে শিল্প কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। ডেপুটি গভর্নর রাজি হাসান বলেন, বাংলা-দেশ ব্যাংক আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমাতে বেশ কিছু পদৰেপ নিয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস’াপনা পরি-চালক ওবায়েদ উলস্নাহ আল মাসুদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের অনেকে এখন গ্রেফতার। বেনামী চিঠি এবং গণমাধ্যমের খবরের পরিপ্রেৰিতে গ্রেফতার না করে কোন অভিযোগ পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে তদনৱ করে ব্যবস’া নিতে দুদককে অনুরোধ করা হয়েছে। মেঘনা ব্যাং-কের ব্যবস’াপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরম্নল আমীন বলেন, দুদকের গ্রেফ-তারের কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এটি এ খাতের জন্য শুভ নয়।

Leave a Reply