অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত শেষ, হত্যা মামলার তদন্ত শুর্ব

১৩/০৪/২০১৭ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 45

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাওধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে একই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির তদন্ত গতকাল বুধবার থেকে শুর্ব হয়েছে।
মামলা দুটির দুই তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে মালদ্বীপ পুলিশ ঘটনা তদন্তে রাজশাহীতে এসেও রাওধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি উলেৱখ করে সে দেশের একটি পত্রিকা গতকাল খবর প্রকাশ করেছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের রাজশাহী মহানগর শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, আমার তদন্ত প্রায় শেষ। শুধু রাওধার ল্যাপটপ ও মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেৰা করছি। সেগুলো পেলেই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হবে। তদন্তে তিনি ‘আত্মহত্যা ছাড়া কিছু পাননি বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এদিকে, হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহ মখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহীন জানিয়েছেন, গতকাল থেকে তিনি মামলাটির তদন্ত শুর্ব করেছেন। এদিন তিনি নগরীর নওদাপাড়ায় রাওধার কলেজে গিয়ে লাশ উদ্ধারের কৰটি পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি কলেজ কর্তৃপৰের সঙ্গেও কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিৰার্থী ছিলেন মালদ্বীপের নীলনয়না মডেল রাওধা আতিফ। গত ২৯ মার্চ কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ কর্তৃপৰ পুলিশকে জানায়, রাওধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপৰ বাদী হয়ে শাহ্‌ মখদুম থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। পরে গত ১০ এপ্রিল রাওধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাওধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে রাওধার লাশ উদ্ধারের পর কলেজ কর্তৃপৰ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি গতকাল কলেজ অধ্যৰকে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। এতেও বলা হয়েছে, রাওধা আত্মহত্যা করেছেন। কলেজ সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
তবে রাওধা হত্যা মামলায় সহপাঠি সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মীরে।
তবে মালদ্বীপ পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপৰের তদন্ত কিংবা রাওধার লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে কিছু ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলী তুহীন। তিনি বলেন, অপমৃত্যু ধরে যে তদন্ত চলছে, সেদিকে আমি তাকাচ্ছি না। মালদ্বীপ পুলিশ এবং কলেজ কর্তৃপৰের তদন্তের বিষয়েও কিছু জানি না। আমি একটি হত্যা মামলার তদন্ত করছি এবং সেভাবেই এগোচ্ছি। তদন্তে যা পাওয়া যাবে সেভাবেই অভিযোগপত্র হবে।

Leave a Reply