ফাঁসি কার্যকর

13/04/2017 1:09 am0 commentsViews: 9

সোনালী ডেস্ক: হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার দুই সহযোগি শরীফ শাহেদ বিপুল এবং দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টা ২ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে মুফতি হান্নান ও বিপুল এবং রাত ১০টা ১ মিনিটে সিলেট কারাগারে রিপনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
গাজীপুরে একই মঞ্চে মুফতি হান্নান ও বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করেন কয়েদি রাজু এবং সাকু মিয়া। এ সময় সেখানে উপসি’ত ছিলেন ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক এসএম আলম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হার্বনুর রশিদ ও সিভিল সার্জন মঞ্জুর্বল আলম।
সিলেটে রিপনের ফাঁসি কার্যকরের সময় উপসি’ত ছিলেন কারা কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল সার্জন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুফতি হান্নান ও বিপুলকে তওবা পাঠ করান কারাগার মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মামুনুর রশীদ। এরপর দু’জনের স্বাস’্য পরীক্ষা করেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন মঞ্জুর্বল আলম।
মুফতি হান্নান বিশেষ কিছু খেতে ইচ্ছা প্রকাশ না করায় কারাগারের নিয়মানুযায়ী তাকে এ দিনের মেন্যু সাদা ভাত, সবজি ও ডাল খেতে দেয়া হয় সন্ধ্যায়। মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তা নেয়া হয় কারাগার এলাকায়। গতকাল বিকাল থেকেই সামনের সড়কে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়।
এর আগে মুফতি হান্নানের পরিবার ও আত্মীয় স্বজন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। সকালে মুফতি হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভিন র্বমা বেগম, বড় ভাই আলী উজ্জামান মুন্সী, মেয়ে নাজনীন ও নিশি খানম কারাগারে প্রবেশ করে মুফতি হান্নানের সঙ্গে কথা বলেন।
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রা.) এর মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনকে মৃত্যুদ- এবং মহিবুলৱাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন। ওই হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।
ফাঁসির রায়ের বির্বদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলে রায় বহাল থাকলে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তারা। গত ১৯ মার্চ রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর অপরাধ স্বীকার করে গত ২৭ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে তা নাকচ করেন রাষ্ট্রপতি। গত সোমবার রাষ্ট্রপতির নাকচের আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। এরপরই এই তিন আসামির ফাঁসি কার্যকর হলো।

Leave a Reply