থানায় রেকর্ড হলো রাওধা হত্যা মামলা

12/04/2017 1:05 am0 commentsViews: 11

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাওধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা এজাহারটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।
গত সোমবার আদালতে এজাহারটি দায়ের করেছিলেন রাওধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ। পরে আদালত তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য নগরীর শাহমখদুম থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ওসি জিলৱুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তিনি এজাহারসহ আদেশের কপি হাতে পান। এরপর এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। শাহমখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহিনকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে কী না সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি ওসি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, মামলার এজাহারে অনেক বিষয় উলেৱখ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে বলা হয়েছে রাওধাকে হত্যা করা হয়েছে। মূলত তিনি সেসব বিষয় নিয়েই তদন্ত শুর্ব করবেন। পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিৰার্থী ছিলেন রাওধা আতিফ। গত ২৯ মার্চ কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাওধা আতিফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ কর্তৃপৰ পুলিশকে জানায়, রাওধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপৰ বাদী হয়ে শাহমখদুম থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।
একজন উঠতি মডেল হিসেবে রাওধা আতিফের ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ভারতের বিখ্যাত ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ সাময়িকীর প্রচ্ছদে স’ান পেয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী মালদ্বীপের ‘নীলনয়না’ এই মডেল। তার মৃত্যুর পর লাশ দেখতে রাজশাহী আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং মা-বাবাসহ ৮-৯ জন নিকটাত্বীয়।
এরপর গত ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে রাওধার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ভিসেরা রিপোর্ট না পেলেও পরদিন ময়নাতদন্ত বোর্ড প্রতিবেদন জমা দেয়- রাওধা আত্মহত্যা করেছেন। পরে ওই দিনই পরিবারের সদস্যদের উপসি’তিতে রাজশাহীতে রাউধার দাফন সম্পন্ন হয়। এরপর গত ৫ এপ্রিল রাওধার মা আমিনাথ মুহাররিমাথ ও ছোট ভাইসহ চারজন দেশে ফিরে যান। তবে বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফসহ বাকিরা এখনও আছেন রাজশাহীতে।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল রাউধার মৃত্যুর ‘তদন্ত’ করতে মালদ্বীপের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রিয়াজ ও জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক আলী আহমেদ রাজশাহী আসেন। তারা রাওধার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রাজশাহী পুলিশ, রাউধার সহপাঠি, শিৰক এবং হোস্টেল কর্তৃপৰের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গত ৭ এপ্রিল তারা দেশে ফেরেন।
এরপর গত সোমবার রাওধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি দাবি করেছেন, তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় রাউধার সহপাঠি সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মিরে।
এদিকে রাওধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মালার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের রাজশাহী মহানগর শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম, রাউধার জব্দ করা মোবাইল ও ল্যাপটপের ফরেনসিক পরীৰার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত আবেদনের শুনানি হয়নি বলে জানিয়েছে পরিদর্শক রাশিদুল।

Leave a Reply