বিশৃঙ্খল বাজারে নজরদারির কেউ নেই

11/04/2017 1:02 am0 commentsViews: 16

মুক্ত অর্থনীতির নামে বাজার এতটাই মুক্ত হয়েছে যে, সবকিছুতেই নিয়ন্ত্রণহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে মুনাফাখোররা সীমা ছাড়িয়েছে। পণ্যের মান, জনস্বার্থ, জনস্বাস’্য কিছুরই তোয়াক্কা করছে না একশ্রেণির বিক্রেতা-ব্যবসায়ী। শিশুখাদ্যেও ভেজালের শেষ নেই। যথাযথ নজরদারির অভাবে বিশৃঙ্খলা চরমে উঠেছে।
চালসহ নিত্যপণ্যের দামে যেমন নিয়ন্ত্রণ নেই, তেমনি ভেজাল শিশুখাদ্যেরও অভাব নেই। শহরের নামি-দামি দোকান থেকে গ্রামের হাট-বাজার সর্বত্রই মানহীন, অনুমোদনহীন শিশুখাদ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে। গুঁড়ো দুধ, চকলেট, র্বটি-বিস্কুট, জুস, আইসক্রিম, লজেন্স, চাটনি সবই চকচকে প্যাকেট ও বোতলে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও লুকিয়ে থাকা বিপদ ভুলে যায় অনেকে, বিশেষ করে অবুঝ শিশুরা। এই অবস’া কাজে লাগাতে দেরি করে না সুযোগ সন্ধানীরা। তারা মনভোলানো চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়। প্রচার মাধ্যম ছাড়াও স্কুলের গেটে, ছোট-বড় দোকানে বাহারি মোড়ক ও নানা ধরনের উপহারের প্রলোভনে আকৃষ্ট করে শিশু-কিশোরদের। ভুয়া কোম্পানির নামে অলিতে গলিতে গজিয়ে ওঠা কারখানার নোংরা অস্বাস’্যকর পরিবেশে তৈরি হয় ভেজালে পূর্ণ, ৰতিকর খাদ্য সামগ্রী। চকচকে মোড়কের আকর্ষণ থাকলেও সেখানে থাকে না সঠিক তথ্য, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ, মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস’ার অনুমোদন এমনকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত নাম-ঠিকানা ছাড়াই ইচ্ছামতো নামে-বেনামে অবাধে বিকিকিনি হচ্ছে এসব শিশুখাদ্য। রাজশাহীর আরডিএ মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ সর্বত্র, রাস্তার পাশের দোকান, চায়ের স্টল, স্কুলের গেটে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে সবার চোখের সামনেই।
রংচঙ্গা জিনিসমাত্রই শিশুদের আকৃষ্ট করে। তাই এসব শিশুখাদ্যের প্রতি শিশুদের প্রবল চাহিদা অগ্রাহ্য করা কঠিন। অসচেতন অভিভাবকরা বায়না মেটাতে এসব ৰতিকর পণ্যই তুলে দিচ্ছেন আদরের সন্তানদের হাতে। এতে তাৎৰণিক তারা খুশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে কী বিপদ ডেকে আনা হচ্ছে সেটা অনেকের মাথাতেই থাকে না।
চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে ভেজাল খাদ্য মারাত্মক স্বাস’্য ঝুঁকিসহ শিশুদের দেহ-মনের বিকাশে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করে। এতে করে শিশুর দাঁত, ব্রেন, লিভার, কিডনি, ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ৰতিগ্রস্ত হতে পারে। মন-মানসিকতাও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। এসব আশঙ্কা সত্ত্বেও এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারি দেখা যায় না।
বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব-পুলিশের সাফ কথা, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না। এমন আমলাতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার দেখা মিলে প্রশাসনের সর্বত্রই। এৰেত্রে যাদের জোরালো ভূমিকা রাখার কথা সেই বিএসটিআইয়ের স’ানীয় কর্মকর্তার দায়সারা জবাবও সে কথাই প্রমাণ করে। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে ভেজাল নির্মূলের চেষ্টার কথা বলেছেন তিনি। সরকারি চাকুরেদের এমন ভূমিকাই ভেজালকারী, অসাধু ব্যবসায়ী, সমাজবিরোধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে, এটা বলার অপেৰা রাখে না।
এর ফলেই শিশু খাদ্যসহ চালের মত নিত্যপণ্যের বাজারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও বাজারে চালের অগ্নিমূল্যই মেনে নিতে হচ্ছে সবাইকে। পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশের বাজারেও দাও মারতে পিছিয়ে থাকেনি কেউ। বাজারের এমন দুঃসহ অবস’া কারও নজরদারিতে আছে মনে হয় না। ফলে বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আমাদের বসবাস, শিশুরাও বিশৃঙ্খলার শিকার হয়েই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বড় হচ্ছে। অথচ এমন অবস’া কারও কাম্য নয়।

Leave a Reply