বান্ধবীর বির্বদ্ধে হত্যা মামলা

11/04/2017 1:08 am0 commentsViews: 68

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাওধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার বান্ধবীর বির্বদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। রাওধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ বাদী হয়ে রাজশাহীর মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার একমাত্র আসামি রাওধার বান্ধবী সিরাত পারভীন মাহমুদ (২১)। তার বাড়ি ভারতের কাশ্মিরে। আসামি সিরাত মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। নিহত রাওধাও একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাওধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আতিফের আইনজীবী কামর্বল মনির জানান, আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম এজাহারটি আমলে নিয়ে তা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য নগরীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে বিচারক এই আদেশ দেন।
গতকাল মামলা দায়েরের পর মোহাম্মদ আতিফও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, এমন অনেক প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। এ জন্যই তিনি মামলা দায়ের করলেন। এ সময় তার হাতে কাগজের টুকরো ছিল। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল- ‘আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর নিরপেৰ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের আবেদন করছি। নিচে লেখা ছিল একজন বাবার আবেদন।’
এর আগে গত ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাওধা আতিফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ কর্তৃপৰ পুলিশকে জানায়, রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপৰ বাদী হয়ে শাহ মখদুম থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।
একজন উঠতি মডেল হিসেবে রাওধা আতিফের ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ভারতের বিখ্যাত ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ সাময়িকীর প্রচ্ছদে স’ান পেয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী মালদ্বীপের ‘নীলনয়না’ এই মডেল। তার মৃত্যুর পর লাশ দেখতে রাজশাহী আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং মা-বাবাসহ ৮-৯ জন নিকটাত্মীয়।
এরপর গত ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাওধা আত্মহত্যা করেছেন উলেৱখ করে ওই দিনই বোর্ড ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যদের উপসি’তিতে রাজশাহীতে রাওধার দাফন সম্পন্ন হয়। এরপর গত বুধবার রাউধার মা আমিনাথ মুহাররিমাথ ও ছোট ভাইসহ চারজন দেশে ফিরে যান। তবে বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফসহ অন্যরা এখনও আছেন রাজশাহীতে।
এদিকে, রাওধার মৃত্যুর ‘তদন্ত’ করতে গত ৩ এপ্রিল মালদ্বীপের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রিয়াজ ও জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক আলী আহমেদ রাজশাহী আসেন। তারা রাওধার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রাজশাহী পুলিশ, রাওধার সহপাঠি, শিৰক এবং হোস্টেল কর্তৃপৰের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গত শুক্রবার তারা দেশে ফেরেন। এরপরই সোমবার রাউধার বাবা আদালতে এই মামলা দায়ের করলেন।
রাওধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি, আদালতে হত্যা মামলা হয়েছে। তবে কোনো কাগজপত্র এখনো আমার কাছে আসেনি।
নগরীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিলৱুর রহমানও বলেছেন, তিনি শুনেছেন-আদালতে হত্যা মামলা হয়েছে। তবে গতরাত ৯টা পর্যন্ত আদালত থেকে তার কাছে কোনো কাগজ যায়নি। কাগজপত্র থানায় যাওয়ার পর পরবর্তী পদৰেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply