২১ দিন ধরে শূন্য রাবির ভিসি প্রো-ভিসি পদ: কার্যক্রম স’বির

১০/০৪/২০১৭ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 37

হাসান আদিব, রাবি: উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদ ২১ দিন যাবত শূন্য রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ভিসি অধ্যাপক মু. মিজানউদ্দিন এবং প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও নতুন ভিসি, প্রো-ভিসি পায়নি। অভিভাবক শূন্যতায় প্রায় ৩৫ হাজার শিৰক-শিৰার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে কাউকে দায়িত্ব না দেয়ায় র্বটিন কাজ চালিয়ে নিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।
জানতে চাইলে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, এটা কোনো ক্রমে মেনে নেওয়ার মত নয়। দেশের এত বড় শিৰা প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদ এতদিন শূন্য রাখা সংশিৱষ্ট দফতরগুলোর ব্যর্থতা প্রকাশ করে। ছেলে-মেয়ে ও শিৰক-কর্মকর্তাদের সমস্যা তো হচ্ছেই, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে কোনো সাংস্কৃতিক, সামাজিক অনুষ্ঠানও করা কষ্টসাধ্য হচ্ছে বলে জেনেছি। এটা বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার সঙ্গে খুবই বেমানান। ভিসি, প্রো-ভিসি পদ পূরণ করা অতীব জর্বরি।
ইমিরেটাস অধ্যাপক অর্বণ কুমার বসাক বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, গুর্বত্বপূর্ণ পদ শূন্য হওয়ার আগে সেখানে নিয়োগ হয়। কিন’ এত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাউকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। নিয়োগের ৰেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশও মানা হচ্ছে না, শিৰাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যক্তি নিয়োগেও অতি দলীয়করণের কারণে এ ধরনের সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীর্ষ পদ শূন্যতায় রাবির অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স’বির হয়ে পড়েছে। পরীৰার ফল প্রকাশ, পরীৰার কমিটি গঠন, মূল সনদপত্র উত্তোলন, ভর্তি কার্যক্রম, ফিন্যান্স কমিটি, অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা, শিৰক-কর্মকর্তাদের ঋণ পাস, অন্যান্য আর্থিক খাত, বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজনের অনুমোদন কাজ থমকে আছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিৰা ও গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য যেসব শিৰক-কর্মকর্তারা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তারা। এছাড়া ভিসি, প্রো-ভিসি পদ শূন্য থাকায় অন্য দফতরগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এতে শিৰক-শিৰার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশিৱষ্টরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
ভিসি দফতর সূত্র জানায়, বিদেশে উচ্চশিৰা ও গবেষণা কাজে যেতে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) পাওয়ার জন্য প্রায় অর্ধশত আবেদন জমা পড়ে আছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মু. এন্তাজুল হক যাচাই-বাছাই করে তাতে অনুমোদনের সুপারিশ করলেও ভিসি পদ শূন্য থাকায় তা অনুমোদন হচ্ছে না। দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন এমন অনেক শিৰক-কমকর্তাও ছাড়পত্র চেয়ে দরখাস্ত করলেও অনুমোদন পাননি।
অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘থাইল্যান্ডে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে আমি গবেষণা কাজ করছি। গত ৪ এপ্রিল আমার সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন’ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ পাইনি। ভিসি না থাকায় তা দিতে পারছে না রেজিস্ট্রার দফতর। ভিসি পদ শূন্য থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে শিৰামন্ত্রণালয় থেকে কাউকে দায়িত্ব দিলে, তাঁর স্বাৰরে কাজটি হয়ে যেত।’ সরকারের সংশিৱষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দফতরের গাফিলতিতে দীর্ঘদিন ধরে ভিসি পদ শূন্য রাখায় ৰোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সনদপত্র ও অ্যাকাডেমিক দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূল সনদপত্র পেতে তিন শতাধিক শিৰার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে আড়াই’শ টি সার্টিফিকেট পুরোপুরি প্রস’ত, শুধুমাত্র ভিসির স্বাৰর না থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পুনঃভর্তি এবং বিলম্বে পুনঃভর্তির জন্য আবেদন করা অর্ধশত শিৰার্থীদের ফাইল আটকে আছে অ্যাকাডেমিক শাখায়। এছাড়া বছরের শুর্বর দিক হওয়ায় বেশ কয়েকটি বিভাগের পরীৰা কমিটি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন ও ফল প্রকাশ একই কারণে আটকে আছে।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের একটি বিভাগ থেকে ২০১৩ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন আরাফাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘জর্বরি ভিত্তিতে ফরম পূরণ, ব্যাংক ড্রাফট করেও ভিসি পদ শূন্য থাকায় তা পাচ্ছি না। আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, এখানে দিনের পর দিন দফতরে দফতরে দৌড়ে বেড়ানো তো আমার পৰে সম্ভব নয়।’ তাঁর মত আরও অনেকে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
রাবির কোষাধ্যৰ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব ৰেত্রে ভোগান্তি হচ্ছে, শীর্ষ দুই পদের পরে আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাইলে আমরা সব করতে পারি না, ফলে কার্যক্রম প্রায় থমকে আছে।
রাবির ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ বিষয়ে জানতে চাইলে শিৰা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. আব্দুলৱাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সেখানে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভোগান্তি হচ্ছে, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। মেয়াদ শেষে দ্র্বত রাবির প্রশাসনিক শীর্ষ দু’টি পদ পূরণে শিৰা মন্ত্রণালয় বেশ আগে থেকে কাজ করছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের আনুষঙ্গিক কাজ দ্র্বত শেষ করে নিয়ম অনুযায়ী অন্য দফতরে পাঠানো হবে। দ্র্বত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই পদে নিয়োগ সম্পন্ন হবে।’
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাবির শীর্ষ দুই পদে নিয়োগ পেতে ৯৫ জন অধ্যাপক সংশিৱষ্ট দফতরে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী, ৰমতাসীন আওয়ামী লীগের অনুগত এবং অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে যোগ্যতার ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন অধ্যাপকের নাম শীর্ষ দুই পদের জন্য আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে ভিসি পদের জন্য এগিয়ে রয়েছেন- ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রকীব আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. নজর্বল ইসলাম। প্রো-ভিসি পদের দায়িত্বে আসতে পারেন ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহ্‌ আজম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা পারভীন, সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মুশফিক আহমেদ, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক প্রণব কুমার পা- পে্রমূখ।

Leave a Reply