যাত্রাবাড়ীতে আনসার্বলৱাহ বাংলা টিমের ‘শীর্ষ নেতা’ গ্রেফতার

০৯/০৪/২০১৭ ১:০৫ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 4

এফএনএস: অভিজিৎ রায়সহ বৱগার ও লেখকদের হত্যার সঙ্গে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার্বলৱাহ বাংলা টিমের এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হাফেজ মাওলানা মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে আবদুলৱাহ (৩১) আনসার্বলৱাহ বাংলা টিমের (এবিটি) শরিয়া বোর্ডের সদস্য বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, গত শুক্রবার রাতে তাকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ডিএমপি দক্ষিণের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা গ্রেফতার করে। তার বির্বদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ বলছে, এবিটির সামরিক শাখার প্রধান চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক কাউকে হত্যার পরিকল্পনার আগে কয়েকজন শীর্ষ নেতার সমন্বয়ে গঠিত এই শরিয়া বোর্ডের অনুমোদন নিতেন। একাধিক হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত এবিটির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পাওয়া তথ্য থেকে পুলিশের এই ভাষ্য। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্র্বয়ারি ঢাকার মিরপুরে বৱগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার ঘটনায় মামলায় দুজনকে মৃত্যুদ- এবং জঙ্গি নেতা মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ অন্য ছয় আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- হয়েছে, যা বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুর্বর ১০ দিনের মাথায় মিরপুরের কালশীতে নিজবাসার কাছে চাপাতি হামলায় খুন হন রাজীব। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব পেশায় ছিলেন একজন স’পতি। উগ্র সামপ্রদায়িক শক্তির স্বরূপ উন্মোচনে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আনসার্বলৱাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীর উগ্রবাদী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্র মিলে ওই হত্যাকা- ঘটায়। রাজীবের পর গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী, বৱগার, লেখক-প্রকাশক মিলে আরও কয়েকজনের হত্যাকা-ে আনসার্বলৱাহর সম্পৃক্ততা পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। এর মধ্যে কেবল রাজীব হত্যা মামলারই রায় এসেছে আদালতে। নয় বছর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ির একটি মাদ্রাসায় পড়ার সময়ই আনসার্বলৱাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা হাফেজ মাওলানা মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে আবদুলৱাহ উগ্র মতবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে আবদুলৱাহকে যাত্রাবাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর গতকাল শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনির্বল ইসলাম। অভিজিৎ রায়সহ বৱগার ও লেখকদের হত্যার সঙ্গে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার্বলৱাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা আবদুলৱাহ সংগঠনটির শরিয়া বোর্ডের সদস্য বলে এর আগে জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান। আবদুলৱাহর বির্বদ্ধে যাত্রাবাড়ি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মনির্বল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ির একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন আবদুলৱাহ, পাশাপাশি একটা মাদ্রাসায় চাকরি করতেন। ২০০৭ সালে সে যাত্রাবাড়ির ফরিদাবাদের একটি মাদ্রাসায় পড়ার সময় উগ্র মতাদর্শে উদ্ধুদ্ধ হয়েছিল। ওই মাদ্রাসার অপর এক শিক্ষকের সঙ্গে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন বইপত্র ও ভিডিও নিয়ে তার আলোচনা হতো। আবদুলৱাহ ২০১৫ সালের শুর্বর দিকে উত্তরার দেওয়ানবাড়ি এলাকার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দেড় মাস জিহাদ বিষয়ে সামরিক ও ধর্মীয় প্রশিক্ষণ নেন বলে পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। মনির্বল বলেন, যাত্রাবাড়ি থেকেই তার আনসারউলৱাহ বাংলা টিমে যোগদান। ওই এলাকায় পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে গোয়েন্দারা তাকে গ্রেফতার করে। বৱগার, প্রকাশক হত্যার আগে আনসার্বলৱাহর মুফতি বা শরিয়া বোর্ডের সদস্যদের কাছে ৩/৪ জনের নামের তালিকা নেওয়া হতো জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, বোর্ড ওই তালিকা-যাচাই বাছাই করে হত্যার অনুমোদন দিতো। পুলিশ বলছে, এবিটির সামরিক শাখার প্রধান চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক কাউকে হত্যার পরিকল্পনার আগে কয়েকজন শীর্ষ নেতার সমন্বয়ে গঠিত শরিয়া বোর্ডের অনুমোদন নিতেন। একাধিক হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত এবিটির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পাওয়া তথ্য থেকে পুলিশের এই ভাষ্য। মনির্বল বলেন, আনসারউলৱাহ বাংলা টিমের মুফতি বোর্ডে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। গ্রেফতার আবদুলৱাহ ছাড়া মাওলানা নাঈম নামের আরেকজন শরিয়া বোর্ডের সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর জিয়াউল হক ওই বোর্ডের সদস্য- গ্রেফতার আবদুলৱাহ এমন তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। মুফতি বা শরিয়া বোর্ডের সদস্যরা সরাসরি কোনো অপারেশনে অংশ নেন না। তারা হত্যার অনুমোদন দেন এবং যারা অপারেশনে অংশ নেবেন তাদের উদ্ধুদ্ধ করেন। ২০১৫ সাল থেকে যতজন বৱগার-প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে সেসবের দায় মাওলানা আবদুলৱাহ এড়াতে পারেন না, বলেন মনির্বল। আবদুলৱাহ যেই মাদ্রাসায় আছেন তার বোর্ডে কারা আছেন তাও তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply