দ্রুত তিস্তা সমস্যার সমাধানের আশা হাসিনা-মোদির

09/04/2017 1:09 am0 commentsViews: 20

এফএনএস: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তার দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুর্বত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিস্তা। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাপ্রকাশ করে বলেছেন, তিস্তা চুক্তির বিষয়টি ভারত দ্র্বত সমাধান করবে। গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াদিলিৱর হায়দরাবাদ হাউসে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। তাা আগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২২টি চুক্তি সই হয়। ব্রিফিংয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিস্তা ইস্যু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের সবচেয়ে গুর্বত্বপূণ বিষয়। কেবল শেখ হাসিনার সরকার ও আমার সরকারই পারে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ইস্যুর দ্র্বত সমাধান করতে। আর শেখ হাসিনা বলেন, আমরা (মোদি ও হাসিনা) তিস্তা ইস্যুতে আলোচনা করেছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা শিগগির এ বিষয়ে সমাধান পাবো। ব্রিফিংয়ে প্রথমে বক্তব্য রাখেন মোদি। তিনি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, আপনি এমন একটি সময় ভারত সফর করছেন, যে সময়টি পহেলা বৈশাখের ঠিক আগে। আমি বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর এ সুযোগটি নিতে চাই। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শুভ নববর্ষ। শেখ হাসিনার ভারত সফর বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের আরেকটি সোনালি অধ্যায় মন্তব্য করে মোদি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে আমরা আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের (গেল্ডেন এরা) মধ্য দিয়ে গেলাম। যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্জন, অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নেবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, এটা আমাদের গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। আপনার দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এ শ্রদ্ধা শহীদ পরিবারের সদস্যরা মনে রাখবে। শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সঙ্গে আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অংশীদারিত্ব নিয়ে ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সম্পর্কের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নতুন দিক উন্মোচন ও নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারে দুই নেতা আলোচনায় একমত হয়েছেন জানিয়ে মোদি বলেন, যৌথভাবে আমরা নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে আলোচনা করেছি, বিশেষ করে আমরা হাই টেকনোলজির ক্ষেত্রে জোর দিয়েছি, যা দু’দেশের তর্বণ প্রজন্মকে যুক্ত করে। এ ছাড়া ইলেক্ট্রনিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, সিভিল নিউক্লিয়ার এনার্জি এবং অন্যান্য খাত নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নতির ক্ষেত্রে ভারত সবসময় একজন শুভাকাঙৰী উলেৱখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘকাল ধরেই একে অপরের বিশ্বাসী বন্ধু। আমাদের একসঙ্গে এ পথচলা দু’দেশের জনগণের মঙ্গল বয়ে আনবে এবং তা নিয়ে কাজ করতে আমরা দু’দেশই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ জায়গা থেকে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার খাতে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা করবে ভারত। ‘এনার্জি সিকিউরিটিজ আমাদের উন্নয়ন অংশীদারিত্বে একটি বড় খাত এবং এটি দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছে, আজ আমরা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করেছি। বর্তমান আন্তঃসংযোগ থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশ্র্বতি দেওয়া হয়েছে। বক্তৃতায় আরও কিছু সহযোগিতা প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদি। তারপর দেওয়া বক্তৃতায় ভারতকে বাংলাদেশের গুর্বত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী উলেৱখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারত আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। সঙ্গে আমরাও। তিনি বলেন, মোদি ও আমি একটি কার্যকর বৈঠক করেছি। নতুন উচ্চতার বৈঠক হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে বাস ও খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালু ছাড়াও বৃহত্তর যোগাযোগের জন্য দু’দেশ কাজ করছে। হিন্দি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী অনূদিত করায় কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৈঠকের আলোচনার বিষয় তুলে ধরে বলেন, আমরা পাট রপ্তানি বিষয়ে কথা বলেছি। দু’দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে কথা হয়েছে। যৌথ নদী ও এগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে গুর্বত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এসময় মোদির বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনার জন্য ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। বলেন, তিনি নিজের দেশকে যেমন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককেও। এরপর বাংলায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ১৪ এপ্রিল আমাদের বাংলা বছরের প্রথম দিন। আমি বাংলায় বলতে চাই, আগাম শুভেচ্ছা। আমাদের দু’দেশের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, তা শুর্ব হয়েছিল ১৯৭১ সালে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সহযোগিতা করেছে। এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, সবসময় ভারতবাসীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় শহীদদের সম্মান জানাতে পারছি, এটা শুধু তাদের নয়, আমাদের জন্যও সম্মানের। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘজীবী হোক বলেও শুভকামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে ভারত সফরে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুর্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় গার্ড অব অনার দেওয়া হয় শেখ হাসিনাকে। রাষ্ট্রপতি ভবনের অভ্যর্থনাস’লে সকাল ৯টায় শেখ হাসিনার গাড়ি ঢোকার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের অশ্বারোহী দল তা পাহারা দিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে উপসি’ত নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। শেখ হাসিনা অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়ালে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। তিনি গার্ড পরিদর্শনের পর মোদীর সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে পরিচিত হন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন পলৱী উন্নয়নমন্ত্রী রাম কিরপাল যদব, বিদ্যুৎমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, জ্বালানিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির, জিতেন্দ্র সিং ও বাবুল সুপ্রিয়। পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর ও সেনাপ্রধান বিপীন রাওয়াতকে এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন মোদী। এরপর শেখ হাসিনাও তার সফরসঙ্গী মন্ত্রীদের ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের এই অনুষ্ঠানের পর রাজঘাটে শেখ হাসিনা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাজঘাটে পৌঁছলে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেখ হাসিনাকে বরণ করা হয়। চার দিনের এই সফরে শেখ হাসিনা গত শুক্রবার নয়া দিলিৱতে পৌঁছনোর পর অপ্রত্যাশিতভাবে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপসি’ত হন মোদী। সাড়ে তিনশ সঙ্গী নিয়ে ভারতে গেছেন শেখ হাসিনা, এর মধ্যে আড়াইশ জন ব্যবসায়ীর একটি প্রতিনিধি দল রয়েছেন। সফর শেষে আগামীকাল সোমবার তার ফেরার কথা রয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে হায়দ্রাবাদ হাউজে নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার একান্ত বৈঠকের পরপরই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে এক টুইটে বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এই বৈঠকে দুই দেশের নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী। শেখ হাসিনার এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন মোদী। গত শুক্রবার নয়া দিলিৱতে নামার পর অপ্রত্যাশিতভাবেই মোদী বিমানবন্দরে উপসি’ত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে। এই সফরে শেখ হাসিনা থাকছেন রাষ্ট্রপতি ভবনে, যাও কোনো সরকার প্রধানের জন্য বিরল সম্মান বলে ভারতের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন। বন্ধুত্বকে বহতা নদীর সঙ্গে তুলনা করে শেখ হাসিনাও বলেছেন, তার এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মোট ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে এক টুইটে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে। সাইবার নিরাপত্তা, পরমাণু বিদ্যুৎ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ গবেষণা, ঋণ সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, বর্ডার হাট স’াপন, কমিউনিটি ক্লিনিক স’াপন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতায় এগুলো সই হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে গুর্বত্বপূর্ণ যে সব ঘোষণা এসেছে- মোট ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই, এর মধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপসি’তিতে চারটি চুক্তিপত্র বিনিময় হয়েছে। তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে ভারত। গত ছয় বছরে তা ৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হল। সামরিক কেনাকাটায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে ভারত। ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স’াপনে চুক্তি। আরও সীমান্ত হাট চালু করতে সমঝোতা স্মারক। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে সমঝোতা স্মারক। কলকাতা-খুলনা-ঢাকা বাস চলাচল এবং খুলনা-কলকাতা ট্রেন চলাচল, রাধিকারপুর – বিরল রেললাইন উদ্বোধন। তিস্তা চুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্র্বতি দিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এই সমস্যা সমাধান একমাত্র আমাদের সরকারই পারবে। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে ভারতের সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর হিন্দি সংস্করণ উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে নয়া দিলিৱর পার্ক স্ট্রিট ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রোড’ উদ্বোধন করেন তারা।
তিস্তার সমাধান খুঁজতে দিলিৱতে আমলাদের বৈঠক: কোনো পক্ষের ক্ষতি না করে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়ে সমাধানের উপায় খুঁজতে দিলিৱতে ভারতের কেন্দ্র সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আমলাদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের সফরে দিলিৱ পৌঁছার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক হলেও গণমাধ্যমে তা প্রকাশ পায়নি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে আস’াভাজন আমলা স্বরাষ্ট্র সচিব মলয় কুমার দের সঙ্গে তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদীর মুখ্যসচিব নৃপেন্দ্র মিশ্র ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব ভাস্কর কুলবে অংশ নেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ওই বৈঠক ছিল ‘হৃদ্যতাপূর্ণ’। তিস্তা বিষয়ে শীতলতা ভাঙতে সব বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিকিমে আটটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে শুকনো মৌসুমে তিস্তার প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব মলয়। রাজ্য সরকারের তৈরি বিশেষ একটি প্রতিবেদনের কথা তিনি কেন্দ্রের দুই আমলার কাছে তুলে ধরেছেন। মমতা ব্যানার্জীর অনুরোধে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ র্বদ্র কমিশনের ওই প্রতিবেদনে তিস্তার বিষয়ে মৌসুমি পানি ব্যবস’াপনার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ভরা মৌসুমে উপচে পড়া পানি ও শুষ্ক মৌসুমে পানি কমলেও সমস্যা না হয়। বাংলাদেশে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত না করে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানির সরবারাহ নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি জলাধার তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, শুকনো মাসগুলোতে নদীটির নিম্নাঞ্চলের তীরবর্তী প্রতিবেশী বাংলাদেশকে পর্যাপ্ত বা প্রায় পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলোচিত তিস্তা চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ যাতে বাগড়া না দিতে পারে, তার জন্য মিশ্র ও কুলবে ওই সুপারিশগুলো খুব গুর্বত্ব দিয়ে দেখেছেন। বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা বলেন, শীত ও শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য বর্ষাকালে তিস্তার উদ্বৃত্ত পানি ধরে রাখতে উত্তর বাংলায় কয়েকটি জলাধার তৈরিতে পুরো অর্থায়নের প্রস্তাব মমতা ব্যানার্জীকে কেন্দ্র দেবে বলেই মনে হচ্ছে। মমতা বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ রক্ষা করে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তিতে তার আপত্তি নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের গুর্বত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য ভারত যদি বড় ধরনের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই জলাধারের জন্য অর্থায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। বাংলার ক্ষতি না করে দিলিৱর বহুকাঙিৰত এই চুক্তিতে মমতাকে রাজি করাতে আরও কোনো ব্যবস’া করতে হলে সেটাও নিশ্চয়ই বিবেচনা করতে পারে। তিনি বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশকারী মানুষের পুনর্বাসনে অর্থায়নে কেন্দ্র প্রস’ত ছিল বলেই স’ল সীমান্ত চুক্তির পথে বাধা কেটেছিল। কাজেই এখন কেন্দ্র যদি শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণে জলাধারের জন্য টাকা দেয়, তাহলে মমতা ব্যানার্জী রাজি হতে পারে। তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ নীরবতার কৌশল অবলম্বন করেছে। প্রধানমন্ত্রী হাসিনার উপদেষ্টারা বারবারই বলে আসছেন, তিস্তার চুক্তি সইয়ের বিষয়ে তারা মোদী ও মমতা উভয়ের উপর পূর্ণ আস’াশীল। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বৃহস্পতিবার বলেন, আমি আপনাদের বিভ্রান্ত করতে চাই না। সত্যি বলতে আমার কাছে এই মুহূর্তে এমন কোনো কিছু নেই যাতে মনে করতে পারি, আগামি দুই দিনে নাটকীয় কিছু হতে পারে। তবে এই বিষয়ে একটি সমাধান বের করতে কাজ এগিয়ে চলছে বলে সেদিন জানান তিনি।

Leave a Reply