রাজশাহীর সীমান্তে ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে গবাদিপশুর খুরা রোগ!

০৫/০৪/২০১৭ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 17

কাজী নাজমুল ইসলাম: রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গবাদিপশুর ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে খুরা রোগ। এতে গত ১ সপ্তাহে শতাধিক গর্বর মৃত্যু হয়েছে বলে সংশিৱষ্টরা জানান। ফলে সীমান্তের খামারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার ভারতিয় সিমান্তবর্তী এলাকার গবাদিপশুর খামার গুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে খুরারোগ। বিশেষ করে পবার চরমাঝাড়দিয়ার, বেড়পাড়া, টেংরামারি, চর খিদিরপুর ও গোদাগাড়ির কিছু এলাকার খামার গুলোতে এই খুরা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। খামারিরা জানান, গত ১সপ্তাহে শতাধিক গর্বর মৃত্যু হয়েছে। তারা বলছেন, প্রতিদিন ভারত থেকে শতশত খুরারোগে আক্রান্ত গর্ব সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। এই রোগাক্রান্ত গর্ব থেকে সীমান্তের খামারগুলোতে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে এবং গর্ব মারা যাচ্ছে। খামারিরা আরো বলেন, ভারত থেকে রোগাক্রান্ত গর্ব আসা বন্ধ না করলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যাবেনা।
পবার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাঝাড়দিয়াড় এলাকার ইউপি সদস্য শামিম আহম্মেদ জানান, গত ১ সপ্তাহে তার নিজের খামারের ২টি, তার এলাকার গাফ্‌ফারের খামারের ৪টি, পারভেজের ৫টি, জিয়ার্বলের ৯টি, আনার্বলের ২টি, গুড়হানের ৪টি গর্ব খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়াও তার এলাকার আরো অনেকের খামারের গর্ব মারা গেছে এবং অসংখ্য গর্ব আক্রান্ত রয়েছে। ভারত থেকে আসা রোগাক্রান্ত গর্ব থেকে এই রোগ ছড়াচ্ছে বলে তিনি জানান। অথচ স্বাস’্য পরিৰা করে সুস’্য গর্ব ছাড়া অসুস’্য গর্ব আমদানীর কোন নিয়ম নেই। কিন’ সিমান্তে এই নিয়ম মানা হচ্ছেনা।
হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিল বলেন, তার ইউনিয়নের মাঝাড়দিয়ার, বেড়পাড়া, টেংরামারি এলাকার খামার গুলোতে ব্যপক ভাবে খুরারোগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং গর্ব মারা যাচ্ছে। ভারত থেকে রোগাক্রান্ত গর্ব আসা বন্ধ না করলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যাবেনা বলে তিনি মনে করেন। এই বিষয়টি তিনি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের জানিয়েছেন বলে জানান।
এব্যাপারে পবা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি তার লোকজন নিয়ে চরমাঝাড়দিয়ার ও বেড়পাড়া এলাকার খামারের খুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু পরিদর্শন করেছেন। এই রোগ প্রতিরোধে গর্বর ভ্যাকসিন দেয়া ছাড়াও তারা খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগাক্রান্ত গর্ব ভালো গর্ব থেকে আলাদা করে রাখতে বলা হলেও খামারিরা তা শুনছেনা। ফলে রোগাক্রান্ত গর্বর সংখ্যা বাড়ছে। তবে ভারত থেকে রোগাক্রান্ত গর্ব আসার ফলেই সীমান্তের খামার গুলোতে রোগ ছড়াচ্ছে। রোগ প্রতিরোধে তাদের লোকজন খামারগুলোতে প্রয়োজনিয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

Leave a Reply