পাবনায় টর্নেডো’র আঘাতে প্রায় ৬ শ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, আহত অর্ধশত

05/04/2017 1:07 am0 commentsViews: 41

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার সুজানগর ও সাঁথিয়ায় টর্নেডো’র আঘাতে প্রায় ৬ শ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।  আহত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক মানুষ। সোমবার সন্ধ্যায় এই শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হানে। সবকিছু হারিয়ে দু চোখে অন্ধকার দেখছেন গৃহহারা মানুষগুলো।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির মধ্যে আকস্মিকভাবে টর্নেডো আঘাত হানে। এক মিনিটেরও কম সময় ধরে চলা এই টর্নেডোর আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে ল-ভ- হয়ে যায় সুজানগর উপজেলার চিনাখড়া, চর গোন্দিপুর দুপপাড়া, দুলাই, বনগ্রাম রসুলপুর ও হাসেমপুর গ্রামের ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি। উপড়ে যায় গাছপালা। নষ্ট হয় খেতের উঠতি ফসল। ঘর ও গাছ চাপা পড়ে আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। তাদের বিভিন্ন স’ানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৰতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ৰয়ৰতির পরিমাণ নিরূপনে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।
খবর পেয়ে মঙগলবার সকালে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বেগম মাকসুদা সিদ্দিকা, সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের রোকন, সুজানগর পৌরমেয়র আব্দুল ওহাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন ৰতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তারা ৰতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, স’ানীয় সংসদ সদস্যর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ হাজার করে টাকা জেলা প্রশাসনের পৰে ৰতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে চাল, নগদ ১ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স’ানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ নগদ অর্থ ও শাড়ি কাপড় দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, ৰয়ৰতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করা হচ্ছে। তালিকা তৈরি শেষে ৰতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।
এদিকে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে স্বাস’্য বিভাগের একটি দল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দল ৰতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে কাজ করছে।
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সাথে সাথে ঝড় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ঝড়ের তা-বে উপজেলার তৈলকপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। তৈলকুপি, ভবানীপুর, গাঙ্গহাটি, মাধপুর, পাইকপাড়া, রসুলপুর, মেয়াপুর, চেনাখড়া, দুলাই, ৰেতুপাড়া, বনগ্রামসহ উপজেলার সবর্ত্র ঘূর্ণি ঝড় হয়। দোকান, বসতঘর, শিৰা প্রতিষ্ঠানের ৰতি হয়। শিৰা প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ায় পাঠদান বন্ধ থাকে। ঝড়ের তা-বে সড়কের গাছপালা ভেঙে পড়ায় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় উপজেলায় এখন পর্যন্ত অন্ধকারে রয়েছে। মাধপুর হাইওয়ে পুলিশ, আতাইকুলা ও সাঁথিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে সাথে সাথে সড়কের গাছপালা অপসারণ
করে। পরে যান চলাচল স্বভাবিক হয়। ঝড়ের সাথে পালৱা দিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির কারণে মাঠে থাকা  পেঁয়াজ, রসুন, গমসহ ফসলের মারাত্মক ৰতি হয়।

Leave a Reply