রাওধার কক্ষ পরিদর্শন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললেন দুই মালদ্বীপ পুলিশ কর্মকর্তা

05/04/2017 1:06 am0 commentsViews: 15

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাওধা আতিফের কলেজে দীর্ঘ সময় ‘তদন্ত’ করেছেন ওই দেশের দুই পুলিশ কর্মকর্তা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তারা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে বিকেলে ফেরেন।
মালদ্বীপ পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রিয়াজ ও পরিদর্শক আহমদ আলী। সোমবার বিকেলে তারা ঢাকা থেকে আকাশপথে রাজশাহী আসেন। এরপর তারা সার্কিট হাউজে যান। সেখান থেকে গতকাল দুপুরে তারা যান রাউধার কলেজে। পরে বিকেলে তারা সার্কিট হাউজে ফেরেন।
কলেজের একটি সূত্র জানায়, গতকাল তারা প্রথমেই রাওধার কৰটি পরিদর্শন করেন। এরপর তারা কলেজ কর্তৃপৰের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিকেল পর্যন্ত তারা একজন একজন করে রাউধার সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলেন। বিশেষ করে মালদ্বীপের ৩ জন শিৰার্থীর সঙ্গে তারা দীর্ঘ সময় কথা বলেন। এ সময় কোনো সংবাদকর্মীকে কলেজের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
সূত্র জানায়, মালদ্বীপের পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরাই সেখানে নিয়ে যান। তবে ‘তদন্ত’ চলাকালে তাদের সঙ্গে রাজশাহী পুলিশের কাউকে থাকতে দেওয়া হয়নি। তারা একান্তে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তদন্ত করেন। রাওধার হোস্টেল কৰ পরিদর্শনের সময়ও তারা কোনো সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বলেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার আল-আমিন হোসাইন বলেন, তারা তো পথঘাঁট চেনেন না। তাই আমরা তাদের কলেজে নিয়ে গিয়েছিলাম। তাদের কলেজে রেখে আমরা চলে এসেছি। তারা সেখানে কী করেছেন তা বলতে পারব না। তাদের অনুসন্ধানের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই।
এদিকে মালদ্বীপ পুলিশের এই কার্যক্রমকে ‘তদন্ত’ হিসেবেও দেখছে না রাজশাহী পুলিশ। নগরীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিলৱুর রহমান বলেন, মালদ্বীপ পুলিশের কার্যক্রমকে তদন্ত বললে ভুল হবে। তারা ভিনদেশ থেকে এসে আমাদের এখানে তদন্ত করতে পারেন না। তারা কলেজে সে দেশের অন্যান্য শিৰার্থীদের ‘সাহস’ দেয়ার জন্য আসতে পারেন। তাছাড়া রাওধার পরিবারের সদস্যরাও এখনও রাজশাহীতে অবস’ান করছেন। তাদের সহায়তার জন্যও তারা আসতে পারেন।
ওসি বলেন, মালদ্বীপের পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে রাজশাহী পুলিশকে পরামর্শ দিতে পারেন। তাও সেটা মালদ্বীপ দূতাবাস লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। সরাসরি আমাদের তদন্তে হস্তৰেপ করতে পারবেন না। তারপরেও আমরাই তাদের সহযোগিতা করছি। তারা কোনো পরামর্শ দিলে সেটা গ্রহণও করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রী হোস্টেলে নিজের কৰে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস’ায় রাওধা আতিফের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর ৩১ মার্চ তার পরিবারের সম্মতিতে ময়নাতদন্ত শেষে নগরীর হেতেখাঁ কবরস’ানে তাকে দাফন করা হয়।

Leave a Reply