আবারো বরখাস্ত হলেন বুলবুল

03/04/2017 1:09 am1 commentViews: 113

স্টাফ রিপোর্টার: অফিস কৰের তালা ভেঙে চেয়ারে বসা মাত্রই ফের বরখাস্তের খবর শুনতে হলো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে। বহিস্কৃত হবার পরও সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করে তিনি  অফিস ত্যাগ করেন।
স’ানীয় সরকার, পলৱী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা স্বাৰরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেল ৩টা পাঁচ মিনিটের দিকে ফ্যাক্সযোগে আদেশের কপিটি রাসিকে আসে। এর আগে ৩টা দুই মিনিটের দিকে মেয়র বুলবুল তার অফিস কৰে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন। আদেশের খবর শুনে ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তিনি বেরিয়ে যান।
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, যে কারণ দেখিয়ে তাকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে, সে কারণে আগেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতে তিনি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। তাই মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ তিনি আমলে নিচ্ছেন না এবং সোমবারও তিনি অফিস করবেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মেয়র বুলবুলের বির্বদ্ধে ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহিত হয়েছে। আর স’ানীয় সরকারের (সিটি করপোরেশন) ২০০৯ সালের আইনে মেয়রের নামে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহিত হলে তাকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে। তাই মেয়র বুলবুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ৭ মে একই কারণে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত তার বরখাস্ত আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন।
গত মঙ্গলবার স’ানীয় সরকার, পলৱী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স’ানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাৰরিত এক চিঠিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপরই রোববার সকালে দায়িত্ব নিতে নগর ভবনে যান মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গিয়ে দেখেন, তার কৰটি তালাবদ্ধ। এরপর তিনি প্রথমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরে সচিবের কৰে গিয়ে বসে থাকেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দুপুরে নগর ভবনের একটি কৰ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরে দুপুর ২টার দিকে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দীন ও সচিব মাহাবুবুর রহমান, পুলিশের সহযোগিতায় মেয়রের অফিস কৰের দুটি তালা ভাঙেন। এরপর সদ্য বহিস্কৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার চেয়ারে গিয়ে বসেছিলেন। এরপরই তাকে বরখাস্তের এই আদেশ শুনতে হয়।
বহিস্কৃত হবার পরও সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করে বুলবুলের অফিস কৰ ত্যাগ করার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে রাসিকের দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোন কথা বলেন নি।
এর আগে, ২০১৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সরকারবিরোধী আন্দোলন শুর্ব করে। ওই সময় পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ হত্যাসহ সন্ত্রাসবিরোধী চার মামলায় বুলবুলের বির্বদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। পরে নগর বিএনপির সভাপতি মেয়র বুলবুলকে ২০১৫ সালের ৭ মে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতাল চলাকালে মোট ১৭টি মামলার আসামি হন রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এর মধ্যে ৪টি মামলায় তার বির্বদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এই ৪টি মামলার মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা মামলাও রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর সবগুলো মামলায় জামিন পান বুলবুল।

Leave a Reply