আইপিইউ সম্মেলনের আয়োজন করা বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ

03/04/2017 1:07 am0 commentsViews: 8

এফএনএস: শতাধিক দেশের পার্লামেন্ট সদস্যসহ দেড় হাজারের বেশি প্রতিনিধি নিয়ে বড় আয়োজনের আইপিইউ সম্মেলন করাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন আয়োজন সংশিৱষ্টরা। আর এই আয়োজনের বিশালতা মুগ্ধ করেছে অতিথিদের। আয়োজকরা বলছেন, গত বছরের গুলশান হামলার ঘটনা যে বাংলাদেশের আসল চিত্র নয়, আইপিইউ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তা সরাসরি তুলে ধরা যাচ্ছে ১৩৪টি দেশের কাছে। সম্মেলনের নানা আলোচনায় বাংলাদেশকে তুলে ধরার পাশাপাশি সম্মেলনস’লে একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন রেখে সুযোগটি কাজে লাগানোর প্রয়াসও চালিয়েছে সরকার। গত শনিবার ঢাকায় শুর্ব হয়েছে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন, যে ফোরামে বিশ্বের ১৭১টি দেশ সদস্য, সহযোগী সদস্য ১১টি দেশ। এর আগে বাংলাদেশে এত বড় কোনো ফোরামের এত বড় কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। তাই সম্মেলন ঘিরে ছিল ব্যাপক প্রস’তি, আর তার উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই তাক লেগে গেছে বিদেশি প্রতিনিধিদের। আইপিইউ সদর দপ্তরের মুখপাত্র জ্যঁ মিলিগান বলেন, গর্ব করার মতো চমৎকার আয়োজন। আমরা এটার অংশ হতে পারে গর্বিত। আপনাদের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ। গতকাল রোববার সম্মেলনের সাধারণ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস’াপনের সময় ঢাকার এই আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নোবেলজয়ী ভারতীয় অধিকারকর্মী কৈলাশ সত্যার্থী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে দার্বণ আতিথেয়তা দিচ্ছে তার জন্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ বাংলাদেশ। এটা সত্যিকার সোনার বাংলার একটি প্রদর্শনী। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পৱাজায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে। পাঁচ দিনের সম্মেলনের অন্য অনুষ্ঠান হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সদস্য দেশগুলোর বাইরে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস’ার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন সম্মেলনে। গত শনিবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা পড়ে শোনান সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোসৱাভ জেনকা। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ ১৩৪টি, প্রতিনিধি দেড় হাজার। ৫৩টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার ও ৪০ জন ডেপুটি স্পিকার আছেন অনুষ্ঠানে। অতিথিরা থাকছেন ঢাকার ১৫টি হোটেলে। অতিথিদের অভ্যর্থনা ও যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস’া পুলিশের। বিশাল এই আয়োজন যে বাংলাদেশকে ভিন্ন ভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরবে, তা আগেই বলেছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। গুলশানে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশির প্রাণহানির পর গত বছর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশেনের সম্মেলন স’গিত হয়ে যাওয়ায় আইপিইউ সম্মেলন আয়োজনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এই আয়োজন নিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিরীন শারমিন বলেছিলেন, এত বড় একটি সম্মেলন আয়োজন করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সমগ্র বিশ্বে সন্ত্রাসী কর্মকা- দেখা যাচ্ছে। সেখানে আমরা সুষ্ঠুভাবে এটা করতে পারছি। এই সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণ হল- বাংলাদেশের সক্ষমতা আছে। ‘রিড্রেসিং ইনইকুয়ালিটিজ: ডেলিভারিং অন ডিগনিটি অ্যান্ড ওয়েল বিং ফর অল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুর্ব হওয়া এই সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী। পাঁচ দিন ধরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইপিইউর বিভিন্ন কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস’্য, লিঙ্গ সমতা নিয়ে আলোচনা করবেন বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট সদস্যরা। আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলছেন, “ঢাকায় এই সম্মেলনে আয়োজনে কিছু ‘লিগ্যাসি’ রাখা হবে। এর পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবারের মতো আইপিইউ ‘গ্রিন অ্যাসেম্বলি’র আয়োজন করা হয়েছে। এখান থেকেই যাত্রা শুর্ব হয়েছে আইপিইউটিভির। আইপিইউ’র প্রতিবছর দুবার সম্মেলন হয়, যার একটি সব সময় হয় জেনেভায়, আরেকটি অন্য কোনো দেশে। এবারই প্রথম এই সম্মেলনের আয়োজন করল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সম্মেলনস’ল বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে ৰুদ্র পরিসরে একটি বাণিজ্য মেলা আয়োজন করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গত শনিবার বিকালে এই মেলা উদ্বোধন করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় চারটি প্যাভিলিয়নসহ ৫৯টি স্টল রয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় সরকারের ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার প্রদর্শনী খামারে উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলঘরের আদলে নির্মিত প্রতীকী বিদ্যালয়ে কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষককে দেখা গেছে। তারা রাজধানীরই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এ ছাড়া মেলায় শাইনপুকুর সিরামিক বেক্সিমকো ফার্মা, বনানী টেক্সটাইল, ওয়াল্টন, আইসিটি, চামড়া শিল্প, পৱাস্টিক কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দোকান রয়েছে। রয়েছে খাবার দোকানও। এসব দোকানে বেচাকেনার সুযোগও রয়েছে। সম্মেলনে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মেলায় পণ্য কিনতে দেখা গেছে। গত শনিবার মেলার প্রথম দিনে ১০ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে বলে আয়োজকদের কাছ থেকে জানা গেছে। সংসদ সদস্যদের পক্ষে আওয়ামী লীগের এবি তাজুল ইসলাম মেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ যে বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে আগতদের জানান দেওয়ার জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবদুর রউফ। তিনি বলেন, এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে তুলে ধরা। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা-সাংস্কৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে, ডিজিটাল হচ্ছে। এসব উন্নয়নে সামগ্রিক চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্যই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনের বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস’া। সম্মেলন উপলক্ষে পুরো সংসদ ভবন এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র এলাকায় নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। পুরো সম্মেলন কেন্দ্র ঘিরে কড়া পাহারায় রয়েছে পুলিশ। সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে একপাশের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রাস্তা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হলেও রিকশা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গত শনিবার সম্মেলনের উদ্বোধনের সময় মানিক মিয়া এভিনিউসহ আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয় নাগরিকদের। ৫ এপ্রিল এই সম্মেলন শেষ হওয়া পর্যন্ত সংসদ এলাকায় কোনো দর্শনার্থী ঢুকতে পারছেন না। এই সম্মেলন ঘিরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন হলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ আগামি ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Leave a Reply