বাঘায় কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা কর্মকর্তা-কর্মচারিরা

30/03/2017 1:05 am0 commentsViews: 71

লালন উদ্দীন, বাঘা থেকে: রাজশাহীর বাঘায় সদস্যদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। গত দুই দিন থেকে অফিসে এসে ফিরে যাচ্ছেন সঞ্চয়কারী শত শত সদস্য। মঙগলবার থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। টাকার শোকে বন্ধ অফিসের গেইটের সামনে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন সদস্য মুনজিরা বেগম নামের এক বিধবা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার খন্দকার আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তি ২০০৭ সালের মে মাসে রাজশাহী বিভাগে জনতা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন। এই সময়ে লালপুর ও চারঘাট উপজেলার কেন্দ্র হিসেবে বাঘা উপজেলা সদরে সার্ভিস সেন্টার অফিস হিসেবে বাঘা ফাজিল মাদ্রাসার কৰ ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। পরে পতিষ্ঠানের কিছুটা পরিবর্তন এনে ২০১২ সালের ২ অক্টোবর বাঘা জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে নিবন্ধন করে। প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে  আঞ্জুমান শপিং কমপেৱক্সের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আতাহার আলী ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুয়ারা বেগম।
সমবায় সমিতির অর্থ চলতি বছরের হিসাব মতে, প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্যা ৬০৩ জন। সঞ্চয় ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৪ হাজার ২৮০ টাকা। ব্যাংকে রয়েছে ১০ হাজার টাকা। মওজুত ৪৫ হাজার ৩৬৯ টাকা। প্রতিষ্ঠানের সদস্য মুদিদপুর গ্রামের নজির মেকার বলেন, বাহ্যিক চাকচিক্য ও সহজ শর্তে মোটা অঙেকর ঋণ বিতরণের প্রতিশ্র্বতি দিয়ে সদস্যদের কাছে থেকে সঞ্চয় গচ্ছিত রাখতে শুরু করে। তবে সমবায় সমিতির নিয়মানুযায়ী শেয়ার ক্রয় করা গ্রাহককে বছর শেষে লভ্যাংশ দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। সঞ্চয়ের নগদ টাকা জমাদানের জন্য আলাদা রশিদ বই না দিয়েই অনুমোদিত ব্যাংকের মতোই ডিএসপি, ডিপোজিট সিস্টেম কার্যক্রম পরিচালনা করাসহ ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে স্বাৰরসহ ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প রাখা হয়েছে। সদস্যদের কথা মতে, মেয়াদী চুক্তি আমানত (ডিপোজিট) শতকরা ১৮ থেকে ২৪ ভাগ টাকা হারে মুনাফা দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি।
চারঘাট উপজেলার পাঁন্নাপাড়া গ্রামের ও এই সমিতির সদস্য মুনজিরা বেগম (সদস্য নম্বর-৯০২) ২০১৭ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত তার হিসাবে জমা করেছেন ৪১ হাজার ৮ শ ৮০ টাকা। তার ডিএসপি হিসাব নম্বর ৪৮৯ ও বিনিয়োগ নম্বর ৭৮০। তিনি বলেন, মানুষের কাছে যে সাহায্য পাই, তার মধ্যে হতে হতদরিদ্র তিন ছেলের নামে জমা রাখেন। সমিতির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে তিনি টাকা জমা দিয়ে আসছেন।
ডিএসপি আমানতকারি অপর সদস্য নম্বর-৫০ বাঘা বাসস্ট্যান্ডের মিষ্টির দোকানের কারিগর মিলন হোসেন বলেন, প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে জমা দিয়েছি। বইয়ের হিসাবে ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত তার জমা হয়েছে ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা। তাদের মতো নারায়নপুর গ্রামের আনন্দ মহনের ৩০ লাখ, লালপুর উপজেলার বেরিলাবাড়ি গ্রামের শিউলি খাতুনের ৫০ হাজার, বাজুবাঘা নতুন পাড়া গ্রামের ফিরজ হাসানের দেড় লাখ, নারায়নপুর মিস্তিরিপাড়া গ্রামের আজমিরা খাতুনের  এক লাখ টাকা জমা রেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠাননের বাঘা শাখার ম্যানেজার জুয়েল আহম্মেদ, সহকারী ম্যানেজার সুমন আহম্মেদের মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। এমন কি ফিল্ড ওয়ার্কারদের মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এই প্রসঙেগ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, জনতার মতো তাদের কাছ থেকে নিবন্ধন নিয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠান। সমবায় সমিতির সংখ্যা ৬৫টি। সমবায়ের নীতিমালা অনুযায়ী শুধুমাত্র সমিতির সদস্যদের মাঝে ঋণ কার্যক্রম করতে পারবেন। ডিএসপি ও ডিপোজিট ্‌এবং সদস্যদের কাছ থেকে স্বাৰরসহ ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প রাখার  কোন অনুমতি নেই। তবে ঋণ আদায়ের স্বার্থে হয়তো তারা কাজ করে থাকে। পদৰেপ নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধভাবে কার্যক্রম চালানো সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেৰে ব্যবস’া নিব। বিষয়টি জেলা ও বিভাগীয় সমবায় অফিসকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মাহমুদ বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস’া নেয়া নিব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক জন সদস্যের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তাদের প্রথমত জিডি করার পরামর্শ দিয়েছি। গ্রাহকের সঙেগ প্রতারণাকারিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস’া নিবেন বলে জানান।

Leave a Reply