জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বির্বদ্ধে দেশবাসীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

৩০/০৩/২০১৭ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 7

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বির্বদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের জঙ্গি, মাদকাসক্তি এবং সন্ত্রাসের পথ পরিহার করতে হবে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ আমাদের পথ নয় উলেৱখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখে উচ্চশিৰায় শিৰিত হবে, আমরা উচ্চশিৰায় বৃত্তি দিচ্ছি যাতে উন্নত শিৰা পেতে পারে। আমরা আধুনিক প্রযুক্তি শিৰা দিচ্ছি, যাতে প্রযুক্তি শিৰা তারা নিতে পারে। কাজেই সে শিৰা নিতে হবে এবং সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বির্বদ্ধে সমগ্র জনগণকে র্বখে দাঁড়াতে হবে। গতকাল বুধবার ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অভিভাবকবৃন্দ, শিৰক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ওলামা-মাশায়েখ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনসহ সকলের কাছে আমার এই আহবান থাকবে- একটা ছেলে-মেয়েও যেন ঐ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদকের পথে না যায়। কোন স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়ের অনুপসি’তির হিসেব নিতে হবে। বাবা-মাকে, নিজের ছেলে-মেয়ে কার সাথে মেশে, কার সাথে বন্ধুত্ব করে, কার সাথে চলাফেরা করে তা খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম ধর্ম মানুষকে হত্যা করতে বলে নাই। ইসলাম ভ্রাতৃত্বের ধর্ম, সৌহাদ্যের ধর্ম, আমাদের নবী করিম (সা:) আমাদের শিৰা দিয়েছেন যে, যে ধর্মেরই হোক সকলকে সহযোগিতা করতে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা আর আত্মহননের পথ বেছে নেয়া কখনো ইসলাম সমর্থন করে না। এর আগে অপরাহ্নে একইস’ানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং আরো ১২টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস’র স’াপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ২০১৯ সালের নির্বাচলে নৌকার জন্য ফরিদপুরবাসীর কাছে ভোট প্রার্থনা করে বলেন, এই এলাকায় যখনই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন তখনই আপনাদের উন্নতি হয়েছে। কাজেই আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই- আগামি নির্বাচন সামনে, ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। … সেই নির্বাচনে আমাদের উন্নয়নের কাজ যেন অব্যাহত রাখতে পারি তার জন্য নৌকা মার্কায় আপনাদের ভোট চাই। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিভাগকে ভেঙ্গে ফরিদপুরসহ ৫টি জেলা নিয়ে পৃথক একটি বিভাগ গঠনে সরকারের পরিকল্পনার কথা উলেৱখ করে বলেন, ইনশালৱাহ ঢাকা বিভাগ ভেঙ্গে আমরা নতুন আরেকটা বিভাগ করবো। ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ি, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ নিয়ে আরেকটি বিভাগ আমরা করবো সেই পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করে ৰমতা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে তাঁর সরকার নতুন নতুন বিভাগ করে দিচ্ছে উলেৱখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিভাগ ভেঙ্গে ময়মনসিংহ বিভাগও আমরা ইতোমধ্যেই করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের এই বিভাগ করার উদ্দেশ্য জনগণ যাতে বেশি সেবা পায়। জনগণ যাতে আরো বেশি কাজ পায় সেই সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি। দৰিণাঞ্চল এবং পদ্মাপাড়ের মানুষ চিরদিন অবহেলিত ছিল উলেৱখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্মাণাধীন পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং আওয়ামী লীগের কেন্ত্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কাজী জাফর উলৱাহ এবং লে: কর্নেল (অব:) ফার্বক খান এমপি, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানসহ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স’ানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় প্রধানমন্ত্রীর জামাতা খন্দকার মাশর্বর হোসেন মিতুকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপসি’ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর জেলা শহর ও সমাবেশস’ল উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। তোরণ, রং-বেরংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন, পৱাকার্ড, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন রকম প্রতিকৃতিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে পুরো শহর এবং সমাবেশ এলাকা। হাজার হাজার জনতা সকাল থেকে নেচে, গেয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের সমাবেশে এসে যোগ দেয়। মিছিলে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। চৈত্রের প্রচন্ড দাবদাহ অগ্রাহ্য করে দুপুরের পর পরই জনসভাস’লটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে রূপলাভ করে। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য সকল বয়সের মানুষদের রাস্তার দু’ধারে, বাড়ির ছাঁদ বা উঁচু স’াপনার ওপরে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেৰা করতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন সেগুলো হচ্ছে- ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পলৱীকবি জসিম উদ্দীন সংগ্রহশালা, ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজী, শিশু একাডেমী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহা পরিদর্শকের কার্যালয় নির্মাণ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপেৱক্স ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ফরিদপুর, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পৱান্ট, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অ্যাকাডেমিক কাম পরীৰা হল নির্মাণ, সদর উপজেলাধীন চর কমলাপুর খেয়াঘাট থেকে বিলমামুদপুর স্কুল সড়কে কুমার নদীর ওপর ৯৬ মিটার আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ, ভাংগা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপেৱক্স ভবন নির্মাণ, মধুখালী উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নয়ন, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ফরিদপুর, বিএসটিআই ভবন নির্মাণ, ভাংগা থানা ভবন নির্মাণ, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ, সদর উপজেলা থেকে বাখুন্ডা জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চরনিখুরদি সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প, ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ এবং ৩৩/১১ কেভি হার্বকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (ৰমতা ২০/২৬.৬৬ এমভিএ)। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী কুমার নদ পুন:খনন প্রকল্প, কারিগরি প্রশিৰণ কেন্দ্র আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ হাসপাতাল, পুলিশ অফিসার্স মেস, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অ্যাকাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুরের ছাত্রী নিবাস নির্মাণ, চীফ জুডিশ্যিয়াল ম্যাজিস্ট্রৈট আদালত নির্মাণ, ১৫০০ আসন বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস হলর্বম নির্মাণ, সালথা ফায়ার সর্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ষ্টেশন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন করেন।

Leave a Reply