মৌলভীবাজার ও কুমিলৱায় ৩ ‘জঙ্গি আস্তানা’

৩০/০৩/২০১৭ ১:০৯ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 20

এফএনএস: সিলেটের দৰিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ সেনাবাহিনীর অভিযান শেষ হতে না হতেই মৌলভীবাজারে দুটি ও কুমিলৱায় একটি ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে মৌলভীবাজারে দুটি গোপন জঙ্গি আস্তানা পুলিশ ঘিরে রাখে। অন্যদিকে মৌলভীবাজারে অভিযানের মধ্যেই কুমিলৱার কোটবাড়ী এলাকায় আরও এক বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কুমিলৱা সিটি করপোরেশর নির্বাচনের আগের দিন শেষ মুহূর্তের প্রস’তির মধ্যেই এই জঙ্গি আস্তানার খবর আসে। মৌলভীবাজারে জঙ্গিরা দুটি বাড়ির ভেতর থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরকে লৰ্য করে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ জানায়, কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের সদস্যরা বাড়ি দুটি ঘিরে ফেলার পর জঙ্গিরা পুলিশকে লৰ্য করে গ্রেনেড নিৰেপ করে। এর প্রেৰিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, হতাহতের সংখ্যা কমাতে প্রয়োজনে সেনা কমান্ডো ডাকা হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রথম বাড়িতে ৪/৫ জন জঙ্গি থাকতে পারে। অপরদিকে ২য় আস্তানায় ৮ জন জঙ্গি থাকতে পারে। গতকাল বুধবার ভোরে এলাকাবাসীর গ্রেনেড ও গুলির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। পুলিশ এরপর দুটি বাড়িতে তলৱাশীর জন্য প্রস’তি গ্রহণ করে। পুলিশ কর্মকর্তার মতে বাড়ি দুটিতে কমপৰে ৮ জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। জেলা প্রশান ঘটনাস’লে ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তায় দুই কিলোমিটার এলাকায় মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। এদিকে, সারাদিন ঘিরে রাখার পর মৌলভীবাজারের নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় শুর্ব হয় অভিযান। সিলেট পুলিশের ডিআইজি কামর্বল আহসান জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সোয়াট ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা এই অভিযান শুর্ব করেন। বৃষ্টির মধ্যেই অভিযান শুর্বর পর বাগানঘেরা ওই বাংলো ধাঁচের বাড়ির দিক থেকে টানা গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। পৌর শহরের বড়হাট এলাকার অন্য জঙ্গি আস্তানাও ঘিরে রেখেছিলেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বড়হাট এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরে ওই দুটি বাড়ি গতকাল বুধবার ভোরে পুলিশ ঘিরে ফেলার পর থেকে সারাদিনই থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। প্রায় ১৮ কিলোমিটার ব্যবধানে ওই দুই বাড়িরই মালিক লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তি। দুই বাড়িতে নারী ও শিশুসহ জনা দশেক লোক রয়েছে বলে ধারণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। নিরাপত্তার স্বার্থে বড়হাটের বাড়ি ঘিরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও কুসুমবাগ এলাকা এবং খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আশপাশের দুই কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। দুই এলাকাতেই সকাল থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় এবং মাইকিং করে স’ানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ অবস’ানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার বিকালে নাসিরপুরের ওই বাড়ির কাছে সিটি করপোরেশনের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, মই, জেনারেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যেতে দেখা যায়, যেমনটা দেখা গিয়েছিল চট্রগ্রামের সীতাকু- ও সিলেটের দৰিণ সুরমায় অভিযানের আগে। পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে বিকালে নাসিরপুরে পৌঁছান। তাদের একটি দল পরে বড়হাটে যান বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান। এদিকে, কুমিলৱার এসপি শাহ মো. আবিদ হোসেন জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা কোটবাড়ীর দৰিণ বাগমারা বড় কবরস’ানের পাশে তিন তলা ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, সামপ্রতিক সময়ে বিভিন্ন স’ানে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে পাওয়া তথ্যেই তারা কুমিলৱার ওই বাড়ির সন্ধান পান। কোটবাড়ী এলাকাটি কুমিলৱা শহরের এক প্রান্তে হলেও দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই বাড়ি সিটি করপোরেশনের ভেতরেই পড়েছে। পাশেই গন্ধমতী হাই স্কুল বৃহস্পতিবার সিটি নির্বাচনের কেন্দ্র। কুমিলৱার পুলিশ সুপার ঘটনাস’লে উপসি’ত সাংবাদিকদের বলেন, ওই বাড়িতে কয়েকজন জঙ্গি আছে এবং তাদের কাছে বোমা থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। কুমিলৱার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন বলেন, আমরা এখনও ওই বাসায় ঢোকার চেষ্টা করিনি। গোলাগুলির কোনো ঘটনাও এখনও ঘটেনি।

Leave a Reply