প্রগতির কাছে বিআরটিসির বকেয়া ঋণ মওকুফের ধর্না

21/03/2017 1:02 am0 commentsViews: 8

এফএনএস: দেনার দায়ে ত্রাহি অবস’ায় রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস’া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। বর্তমান পরিসি’তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ওই সংস’াটির ব্যয়ের তুলনায় আয় কমতে থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। তার ওপর প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে গাড়ি কেনা বাবদ বকেয়া সুদের ১৬৫ কোটি টাকা নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে বিআরটিসি। পরিসি’তিতে সামাল দিতে বিআরটিসি প্রগতির কাছে বকেয়া মওকুফের আবেদন করেছে। তবে প্রগতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বকেয়া মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। বিআরটিসি সংশিস্নষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে কিসিৱতে মূল্য পরিশোধের শর্তে বিগত ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর থেকে ২০০৬ সাল পর্যনৱ ৫৪৭টি বাস, সিটিবাস ও ট্রাক সংগ্রহ করে বিআরটিসি। ওসব গাড়ির তৎকালীন ক্রয়মূল্য ছিল ১৩১ কোটি ৮৯ লাখ ৪ হাজার টাকা। তার মধ্যে এককালীন (ডাউন পেমেন্ট) ও কিসিৱসহ মোট ৬৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার ৩০২ টাকা গ্রগতিকে বিআরটিসি পরিশোধ করেছে। ফলে বিআরটিসির কাছে প্রগতির মূল ঋণের ৬৩ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৭ টাকা পাওনা রয়েছে। কিন’ নিয়মিত কিসিৱ পরিশোধ না করায় সুদের পরিমাণ বেড়ে এখন সংস’াটির কাছে প্রগতির মোট বকেয়া ২শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর বকেয়া আদায়ে কয়েক বছর ধরেই বিআরটিসিকে দফায় দফায় চিঠি দিচ্ছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ওসব চিঠিতে মূল ঋণের ৬৩ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৭ ও বকেয়া সুদ বাবদ ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৩০২ টাকাসহ মোট ২২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য বিআরটিসিকে বলা হয়। বিগত ২০১৩ সালে গঠিত ওই সংক্রানৱ কমিটির সিদ্ধানৱ অনুযায়ী প্রতি মাসে বকেয়ার ১০ লাখ টাকা করে পরিশোধের কথা থাকলেও বিআরটিসি তাও মানছে না। সমপ্রতি প্রগতির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মূল টাকা ফেরত দেয়ার বিনিময়ে সুদের ১৬৫ কোটি টাকা মওকুফের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে বিআরটিসি। যদিও বিআরটিসির ওই আবেদন অযৌক্তিক বলে দাবি করেছে প্রগতির কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, প্রগতি ইন্ডস্ট্রিজও বর্তমানে চরম পরিচালন মূলধন সঙ্কটে রয়েছে। এমন পরিসি’তিতে বকেয়া আদায়ে আনৱঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে যে সিদ্ধানৱ হয়েছে বিআরটিসি তাও মানছে না। এখন সুদের টাকা মওকুফের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। সেক্ষেত্রে প্রগতির কিছুই করার নেই। কারণ বকেয়ার অধিকাংশ টাকাই ব্যাংকের সুদ। ফলে দুই মন্ত্রণালয় বসেই সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করতে হবে। তাছাড়া বিআরটিসি দেনায় জর্জরিত থাকলেও প্রকল্পের নামে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যানবাহন আমদানি করছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বকেয়া রেখে বিশ্ববাজার থেকে ক্রয়প্রবণতার কারণেও বিআরটিসি-প্রগতি দুটি প্রতিষ্ঠানই অর্থ সঙ্কটে পড়েছে।
এদিকে গত ২৮ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদের কাছে পাঠানো চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে না পারার প্রসঙ্গ তুলে ধরে। চিঠিতে বলা হয়, বিআরটিসিতে বর্তমানে স’ায়ীভাবে নিয়োজিত জনবলের সংখ্যা ৩ হাজার ১৫৭। সচল-অচল মিলিয়ে সংস’াটির গাড়িবহরে মোট বাস-ট্রাক রয়েছে ১ হাজার ৬৭৭টি। গত কয়েক বছরে বিআরটিসির পরিচালন আয় থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও সরকার ২০১৫ সালে নবম বেতন কাঠামো বাসৱবায়নের ফলে বিআরটিসির নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন অবস’ায় বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ এক বছরের বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য ২১ কোটি টাকা এককালীন অনুদান হিসেবে থোক বরাদ্দ দিতে অর্থ বিভাগে প্রসৱাব পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে প্রগতির পাওনা অর্থের সুদ বাবদ ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা মওকুফ পেতে বিআরটিসি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে বলেও জানানো হয়। তাছাড়া সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে আনৱঃমন্ত্রণালয় বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতের ওপর তাকিয়ে আছে উভয় প্রতিষ্ঠান।
এদিকে বকেয়া আদায়ের লৰ্যে বিআরটিসির চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া প্রগতির ব্যবস’াপনা পরিচালক আবুল খায়ের সরদারের তাগাদাপত্রে বলা হয়, বিআরটিসির কাছে অনাদায়ী বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ে কয়েক দফা আনৱঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন) দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ লাখ টাকা করে কিসিৱ পরিশোধের সিদ্ধানৱ হলেও বিআরটিসি তাও নিয়মিত দিচ্ছে না। এমন অবস’ায় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজে চলতি মূলধনের অভাব তীব্র হয়ে উঠেছে। যা প্রগতিকে ক্রয়ান্বয়ে রম্নগ্ন শিল্পে পরিণত করবে।
অন্যদিকে বকেয়া পরিশোধ প্রসঙ্গে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, বিআরটিসি পরিচালন ব্যয় নিয়ে নিজেরাই নাজুক অবস’ায় রয়েছে। তার ওপর পাওনার জন্য তাগাদা দিচ্ছে প্রগতি। এমন অবস’ায় প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রগতির বকেয়া অর্থ মওকুফ ছাড়া উপায় নেই। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হযেছে। ওই বিষয়ে একটি আনৱঃমন্ত্রণালয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি বৈঠকের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি সুরাহা করবে। কারণ দুটি প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রীয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠান রম্নগ্ন হয়ে পড়লে অন্য প্রতিষ্ঠানের কিছু করণীয় থাকে। বিষয়টি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা যায় সুদের অর্থ মওকুফের মাধ্যমে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply