ছাত্র-শ্রমিক জনতার পদচারণায় ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত

18/03/2017 1:06 am0 commentsViews: 9

স্টাফ রিপোর্টার: একাত্তর সালের ১৮ মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে চলমান অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সপ্তদশ দিবস। আজও সরকারি-বেসরকারি ভবনের শীর্ষে কালো পতাকা উড়িয়ে, অফিস আদালতে অনুপসি’ত থেকে সব শ্রেণীর কর্মচারীরা নেতার ঘোষিত সংগ্রামের কর্মসূচিকে সফল করে তোলেন। ঢাকার রাজপথ ছাত্র-শ্রমিক-জনতার পদচারণায় প্রকম্পিত হয়।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করেন। সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা অকুণ্ঠ হয়ে তাদের নেতার নির্দেশ অৰরে অৰরে পালনের কথা গতকাল মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠকের পর পরবর্তী বৈঠকের কোন সময় নির্ধারিত না হওয়ায় আজ জনমনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়।
ভোর থেকে রাত পর্যন্ত উৎসুক জনতা তাদের আশা-আকাঙৰার প্রতীক বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ভিড় জমান। ১ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনটি কেবল সর্বময় ৰমতার অধিকারী যে জনগণ, তাদের পরিচালন কেন্দ্রেই পরিণত হয়নি, সেই সঙ্গে হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের মিলন ৰেত্রও। ১ মার্চ সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বাংলার মানুষের মৌলিক অধিকার অগণতান্ত্রিকভাবে খর্ব করার পর থেকে বঞ্চিত-নির্যাতিত-বিৰুদ্ধ গণমানুষের ঢল নামে বাংলাদেশের জনগণের অবিসংবাদিত নেতার বাসভবনে। প্রতিদিন সকাল- সন্ধ্যা সমাজের সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতার প্রতি সমর্থন জানাতে। নেতার জ্বালাময়ী বক্তৃতা শুনে, নির্দেশ নিয়ে, স্বাধীনতার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ফিরে যান তারা নিজ নিজ অবস’ানে। তারপর সংগঠিত করেন নিজেদের, গড়ে তোলেন সংগ্রাম পরিষদ, প্রস’তি নিতে থাকেন চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য, আর অপেৰায় থাকেন নেতার পরবর্তী নির্দেশের।
বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা ঘোষণা করে দেশবাসীকে চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস’তি নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই ৭ কোটি বাঙালির দৃষ্টি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে নিবদ্ধ। আজ সারাদিন মিছিলের পর মিছিল করে বিভিন্ন মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়কের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে এলে বঙ্গবন্ধু প্রতিটি মিছিলের প্রতি ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি দিয়ে সমবেত জনতার সেৱাগান ও করতালির জবাব দেন।

Leave a Reply