জাতায়ী শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

18/03/2017 1:04 am0 commentsViews: 19

গতকাল ছিল ১৭ মার্চ ২০১৭। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় শিশু দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিন হিসেবে। ৯৮ তম জন্মদিনে সবাই নতুন করে উচ্চারণ করেছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর গভীর মমতার স্মরণে তার জন্মদিনটি শিশুদের জন্যই উৎসর্গ করা হয়েছে। এ দিনে আমরা নতুন করে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন অসাম্প্রদায়িক, ৰুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করি। প্রত্যয় ব্যক্ত করি দেশকে নিরাপদ ও শান্তিপ্রিয় করার মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যতও নিশ্চিত করার।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবস পালন নতুন প্রজন্মের কাছে তার জীবন কথা, কর্মকা- ও আদর্শ জানার সুযোগ করে দেয়। ঠিক কোন পরিসি’তি ও পরিবেশে তিনি সকল প্রতিকূলতা জয় করে লৰ্য অর্জনে অটল থেকেছেন, ঘটনাবহুল জীবনের উত্থান-পতনের সেই ইতিহাস জানা দরকার সবারই বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের। কারণ তারাই জাতির ভবিষ্যৎ। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাবার মাধ্যমেই আমরা ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা মুছে দিতে পারি। নিশ্চিত করতে পারি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা। এ ৰেত্রে শিশু-কিশোরদের সুষ্ঠু জীবন ও বিকাশ নিশ্চিত করাও সমান গুর্বত্বপূর্ণ।
তবে এটা ঠিক, আজকের বাংলাদেশে শিশুরা এক ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যেই বেড়ে উঠছে। পুরানো দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সমাজের বিভিন্ন স্তরে এমনকি বাসা-বাড়িতেও শিশু নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি না করে পারে না। গতকালের সোনালী সংবাদে শাসনের নামে শিশু নির্যাতনের যেসব ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে সেটা ব্যতিক্রমী কিছু নয়। পিতা-মাতা, অভিভাবক, শিৰক এবং কর্মৰেত্রে শিশুদের কীভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয় সেটা মোটেও অজানা বিষয় নয়। যদিও দেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। তবে কীভাবে এই অবস’ার পরিবর্তন নিশ্চিত করা যায় সেটা যে অজানা বিষয় এতে দ্বিমত করার সুযোগ কমই। নইলে কেন ঘরে-বাইরে শিশুদের এমন অমানবিকতার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে? রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, সমাজ-বিজ্ঞানীসহ সচেতন সবাইকে বিষয়টা গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। এ ৰেত্রে সরকারের উদ্যোগী ভূমিকা ছাড়া কার্যকর কিছু আশা করা যায় না।
জাতীয় শিশু দিবসকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রেখে কোনোভাবেই যে ব্যাপকসংখ্যক শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় সেটা বলার অপেৰা রাখে না। আর শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা না গেলে যে যাই বলুক, দেশের ভবিষ্যৎও সুন্দর, টেকসই হবে না-এর চেয়ে বাস্তবসম্মত কথা আর কি হতে পারে?
তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবসে জাতীয় শিশুদিবস পালনের মাধ্যমে আমরা যদি অবহেলিত, বঞ্চিত শিশুদের নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিশা খুঁজে পাই তবে সেটাই হবে এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাবার উপায়। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার পথে এক ধাপ অগ্রগতি।

Leave a Reply