মানবিক হওয়া কি এতই কঠিন

১৫/০৩/২০১৭ ১:০৩ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 9

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে কেউ অস্বীকার করবে না। সাদা চোখেই সেটা দেখা যায়। কিন’ একই সঙ্গে সামাজিক বিশৃঙ্খলা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবৰয়ও চোখে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই এমন সব ঘটনার কথা মিডিয়ায় আসছে যা মেনে নেওয়া কঠিন। গতকালের সোনালী সংবাদে এ ধরনের একাধিক খবর ছাপা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতার বাড়িতে কবুতর চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে দড়ি দিয়ে বারান্দার গ্রীলের সাথে বেঁধে রাখার সচিত্র খবর শুধু বিস্ময়কর বলা কম বলা হবে। এটাও যে শিশু নির্যাতন সেটা কীভাবে ভুলে গেলেন এই সাবেক জনপ্রতিনিধি। রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও যে তার দায়িত্ব রয়েছে সেটাও কি বলে দিতে হবে? অন্যদিকে ঢাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপৰের (রাজউক) প্রকৌশলীর বাড়ি থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর গুম হওয়ার খবর আরও ভয়ঙ্কর। নিজের বাসার গৃহকর্মীকে রৰা করা তো গৃহকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অথচ এই পদস’ কর্মকতা সেটা  বেমালুম ভুলে গেছেন। ৩ মাস ধরে নিখোঁজ কিশোরীর পরিবার তার খোঁজ করলে উক্ত প্রকৌশলী কড়া ভাষায় এনিয়ে থানা পুলিশ করতে মানা করেন। তারপরও থানায় অভিযোগ করা হয়। কিন’ লাভ হয়নি। অবশেষে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে উচ্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে র্বল জারি ও রাজউক প্রকৌশলীকে আদালতে তলব করেন। এর আগে রাজশাহীর দুর্গাপুরে ছাগলচুরির অভিযোগে দশম শ্রেণীর দুই ছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, দুই সদস্যসহ ৯ জনের বির্বদ্ধে থানায় মামলার খবরও দুঃখজনক বললে কম বলা হবে।
শিশু-কিশোরদের নিয়ে কত আনুষ্ঠানিকতাই না দেখা যায়। কিন’ সমাজের একশ্রেণির মানুষ যাদের মধ্যে শিৰিতও কম নেই তারা যে এ সবের ধার ধারেন না সেটা উলেৱখিত ঘটনাই প্রমাণ করে। মানবতা রৰা নিয়েও একই কথা বলা যায়। শিশু-কিশোরদের ওপর নির্যাতন করা মানবতার চরম লংঘন। এছাড়া রাজশাহীর মতিহার থানায় মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হয়ে গুলি করে মেরে ফেলার ঘটনাও প্রশ্ন জাগিয়েছে। হাসুয়ার আক্রমণ ঠেকাতে সরাসরি মাথায় গুলি করতে হবে কেন? অন্য কোথাও গুলি করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করা এতটাই অসম্ভব ছিল? পুলিশের এ ধরনের আচরণের ফলে পুলিশ সম্পর্কে জনমনে ভীতিকর ধারণা ছড়িয়েছে। সিরাজগঞ্জে জুয়া খেলার সময় পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনাও স্বাভাবিক নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস’ার সদস্যদের জনগণের সেবক হওয়ার কথা। তাদের সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য। অতীতে যাই হোক, স্বাধীন দেশে এমনটা হওয়ার কথা নয়।
পেশা যাই হোক মানুষ যদি মানবিক না হয় তবে সমাজ মানবিক হবে কি ভাবে? আমরা তো একটা মানবিক সমাজের স্বপ্ন নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ করেছি। লৰ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীন দেশের রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, পদস’ চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা যদি অমানবিক হয়ে ওঠে তবে সেই স্বপ্নের কি হবে? মানবিক হওয়া কি এতই কঠিন?

Leave a Reply