হারিয়ে যাচ্ছে তালগাছও

13/03/2017 1:02 am0 commentsViews: 8

সময়ের ব্যবধানে অনেককিছুই হারিয়ে যায়। রেখে যায় স্মৃতি, সুখের অথবা দুঃখের। আমাদের রাজশাহী থেকে হারিয়ে গেছে টমটম, ঢপকল। সেগুলো এখন স্মৃতি অথবা সংরৰিত বিষয়। গ্রাম বাংলা বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের তালগাছ নিয়েও একই রকম খবর ছাপা হয়েছে গতকালের সোনালী সংবাদে। বলা হয়েছে, হারিয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে তালগাছ!
এক সময়ে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ গ্রামাঞ্চলের পথে-ঘাটে, মাঠের ধারে, দীঘি-পুকুর পাড়ে দেখা যেত তালগাছের সারি। এক পায়ে দাঁড়িয়ে আকাশের বুকে মাথা উঁচু করে থাকা ঝাকড়া মাথার তাল গাছের দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে যেত ছোট বেলার স্মৃতি। সেই ‘এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে….’ । আর কচি তালের শাঁস, তালপানি, তালকুর বা পাকা তালের রসের পায়েস-পিঠার স্বাদ! সেকি ভোলা যায়! রম্নৰ পরিবেশে রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করার পর তালের ঘোলা রস খাওয়া নিয়েও অনেক কথা! তাছাড়া  তালগাছে বাবুই পাখির বাসা, তালের পাখা, তালগাছের কাঠের তীর-বরগা, তালের গুড় প্রভৃতিরও গ্রামীণ সমাজে সামাজিক-অর্থনৈতিক গুরম্নত্ব কম ছিল না। মাটির বাড়ি নির্মাণে অবশ্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ছিল পাকা তালগাছের কাঠ। এসব ছাড়াও  পরিবেশের স্বাভাবিকতা রৰাতেও তালগাছের গুরম্নত্ব কম নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা ও তাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখত এই গাছ। সেই তালগাছ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। যেভাবে নিধন হচ্ছে সেভাবে লাগানো হচ্ছে না। অথচ তালগাছ কারও কোনো ৰতি করে না। তালগাছ রৰার প্রয়োজনীয়তাও কেউ অস্বীকার করে না।
তারপরও শূন্যস’ান পূরণে  নেই কোন উদ্যোগ। কখনও কখনও ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্যোগে তালগাছ লাগানোর খবর পাওয়া যায়। প্রয়োজনের তুলনায় তা মোটেই উলেস্নখযোগ্য নয়। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বা স’ানীয় সরকার কাঠামোর আওতায় অফিস, শিৰাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে, রাসৱার ধারে, রেললাইনের পাশে তালগাছ রোপণের কর্মসূচি নেয়া কঠিন কিছু নয়। প্রয়োজন সচেতনতা ও পরিকল্পিত পদৰেপ। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যে পরিসি’তি যে পাল্টে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। তাহলে তালগাছ হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রৰা পাবে। ঐতিহ্য রৰায় বিষয়টি গুরম্নত্ব দাবি করে।

Leave a Reply


shared on wplocker.com