উন্নত নগরীর পথে রাজশাহী

১১/০৩/২০১৭ ১:০৫ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 46

পশ্চাদপদ উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে রাজশাহীও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা নগরী। বিভাগীয় শহর হিসেবেও উন্নত নগরীর পরিচয় পায়নি। বিগত বছরগুলোতে রাস্তাঘাটের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই। রাস্তার পাশে দালানকোঠা দোকানপাটও হয়েছে প্রচুর। আগের সেই সাহেব বাজার, রাণীবাজারও আর নেই। কিন’ শিৰানগরী রাজশাহীর শিৰা অবকাঠামোর আশানুরূপ উন্নয়ন হয়েছে বলা যাবে না। পাকিস্তান আমলের বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মতো হাতে গোনা কয়েকটি শিৰা প্রতিষ্ঠানই সবার চোখে পড়ে। অথচ রাজশাহীতে শিৰা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নেই। কয়েকটি তো বেশ পুরানো। কিন’ রাজশাহী কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল ছাড়া আর কোনোটিই নাম করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাই স্কুল ও কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগের ফলে পুরানো চিত্র পাল্টে যেতে শুর্ব করেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা এগিয়ে চলেছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে পিজি হাসপাতাল হওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও এখন শিৰা নগরীর শিৰার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণের চিন্তা ভাবনার কথাও শোনা গেছে। গত বৃহস্পতিবার নগরীর খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের একাডেমিক ভবন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
খাদেমুল ইসলাম কলেজের ছয়তলা বিশিষ্ট আলাদা ভবন এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে খাদেমুল স্কুলের চারতলা ভবনের কাজ শেষ হবার কথাও জানিয়েছেন সংসদ সদস্য। একই দিন নগরীতে রাজশাহী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরও স’াপন করেন তিনি। নির্ধারিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিৰা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে শিৰা প্রকৌশল অধিদপ্তর এসব নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এভাবে আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজশাহীর একশ’ ভাগ শিৰা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ করার লৰ্য রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি শিৰা প্রতিষ্ঠানের শিৰার মান উন্নয়নের বিষয়টিও অগ্রাধিকারসহকারে দেখার কথাও শোনা গেছে।
শিৰানগরী রাজশাহীর শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে স’ানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিৰা দপ্তরের উদ্যোগে অচিরেই এ ৰেত্রের দৃশ্যও পাল্টে যাবে এটা নিশ্চিত। এভাবেই শিৰার মান উন্নয়নেও পরিকল্পিত পদৰেপ নেওয়া হবে, এমনটাই আশা সংশিৱষ্টদের। এছাড়া শিৰার্থীদের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর প্রতিও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শিৰা অর্জনে আসা শিৰার্থীদের আবাসন সমস্যা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। তারা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে, মেসে কী অবস’ায় বসবাস করছে তার খবরও কেউ রাখে না। শিৰা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি আবাসনসহ শিৰার্থীদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের দাবি অবহেলার বিষয় হতে পারে না। শিৰার মান উন্নয়নের সঙ্গে এ বিষয়েরও ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। শিৰা নগরীর সার্বিক উন্নয়ন চিন্তায় এ বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার। আমরা সামগ্রিক ভাবেই রাজশাহীর উন্নয়ন প্রত্যাশা করি। এটা আপামর রাজশাহীবাসীর প্রাণের দাবিও।

Leave a Reply