অবহেলিত জনস্বাস’্য

08/03/2017 1:02 am0 commentsViews: 10

নগরীতে জনস্বাস’্য রৰার দায়িত্ব নগর কর্তৃপৰের। সেই সিটি কর্পোরেশন যদি চোখবন্ধ করে থাকে তবে অব্যবস’ার শিকার নাগরিকদের স্বাস’্য রৰা নিয়ে চিনৱার শেষ থাকে না। রাজশাহী নগরীতে যত্রতত্র ওয়েল্ডিং কারখানা এমনই পরিসি’তি সৃষ্টি করেছে।
এই মহানগরীতে ব্যসৱতম রাসৱার পাশে, পাড়া-মহলস্নায় যত্রতত্র অসংখ্য ওয়েল্ডিং কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রকাশ্য স’ানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় বিচ্ছুরিত অতিউজ্জ্বল আলোক রশ্মি ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। আর লোহা পেটানোর শব্দ তো আছেই। এতে করে এসব কারখানায় কর্মরতরাসহ কাছাকাছি অবস’ানকারী প্রত্যেকেই মারাত্মক স্বাস’্য ঝুঁকিতে পড়ছে। ওয়েল্ডিংয়ের অতিবেগুণী রশ্মি চোখের যেমন ৰতি করে, এর ধোঁয়ায় শ্বাসযন্ত্র ও ফুসফুসও আক্রানৱ হয়। এসবের ফলে অন্ধত্ব, ক্যান্সারসহ নানাধরনের জটিল রোগে আক্রানৱ হবার ঝুঁকিতে পড়ে কর্মরত শিশু-কিশোরসহ উপসি’ত যে কোনো বয়সের মানুষ। রাসৱা দিয়ে চলাচলকারী ছাত্র-ছাত্রী ও পথচারীরাও নিজের অজানেৱই বিপদের শিকার হয়ে পড়েন।
বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত গুরম্নত্বের দাবি রাখে। ওয়েল্ডিং ও ঝালাইয়ের সময় বিচ্ছুরিত অতিবেগুণী আলোকরশ্মি চোখের মারাত্মক ৰতি করায় দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, চোখ থেকে পানি পড়ে, ব্যাথা ও জ্বালাপোড়া শুরম্ন হয়। ৰণস’ায়ী অন্ধত্বের মুখোমুখি হতে হয় ভুক্তভোগীকে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়ায় চোখে ছানিও পড়তে পারে। এসব ৰতি এড়াতে ওয়েল্ডিংয়ের সময় কালো চশমাই চোখকে সুরৰা দিতে পারে। কর্মরতরা চশমা পরে চোখের ৰতি এড়াতে পারলেও আশপাশের লোকজন ও পথচারীদের করার কিছুই থাকে না। এজন্য ঘরের ভেতরে বা জনসমাগম নেই এমন স’ানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ সীমাবদ্ধ রাখার বিকল্প নেই, কিন’ বিষয়টি নিয়ে কারও মাথাব্যাথা দেখা যায় না।
যত্রতত্র ওয়েল্ডিং কারখানায় কাছের মানুষেরই শুধু চোখের ৰতি হয় না, লোহা পেটানো শব্দের কারণে কানেরও ৰতি হয় আর সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাসযন্ত্র, ফুসফুস আক্রানৱ হওয়া এমনকি ক্যান্সারের মত জীবনবিনাষী রোগের ঝুঁকিতেও পড়তে হয়। এসবের কেনোটিও একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে মানুষ যখন এসবে আক্রানৱ হয় তখন দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
জনস্বাসে’্যর বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব যাদের সেই নগর কর্তৃপৰই ওয়েল্ডিং কারখানার অনুমোদন দিয়ে থাকে। কিন’ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সিটি করর্পোরেশনের চরম উপেৰা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। তারা ট্রেড লাইসেন্স ফি নিয়ে যতটা আগ্রহী জনস্বাস’্য রৰার বিষয়ে ততটাই উদাসীন। জনগুরম্নত্বপূর্ণ হলেও সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি দেখারও কেউ আছে বলে মনে হয় না। ফলে জনস্বাসে’্যর প্রতি অবহেলাই স’ায়ী হয়ে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সহসা এর পরিবর্তনের আশা করা যায় না।

Leave a Reply


shared on wplocker.com