সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস’াপনার বিকল্প নেই

06/03/2017 1:02 am0 commentsViews: 14

পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে রাজশাহী নাম কুড়িয়েছে। এজন্য রাজশাহীবাসী হিসেবে আমরা গর্ব অনুভব করতেই পারি। কিন’ এই নগরীর ভেতরটা কতটুকু পরিচ্ছন্ন সেটা নগরবাসী ছাড়া আর কে জানবে? এই নগরীর বাসিন্দা ও পথচারীরাই ভালো বলতে পারবেন কতটা পরিচ্ছন্ন এখানকার পরিবেশ। বাসাবাড়িতে যদি মশা-মাছির জ্বালাতন সইতে হয় আর পথে যদি নাক চেপে, কাপড় বাঁচিয়ে চলতে হয় তবে বলতেই হবে দেখতে ঝকঝকে হলেও এই নগরীর ভেতরটা মোটেই পরিচ্ছন্ন নয়। সেই যেমন কথায় বলে, ওপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট তেমন আর কি? গতকালের সোনালী সংবাদে নগরীতে আবর্জনা অপসারণে অব্যবস’াপনার যে চিত্র উঠে এসেছে তা থেকে এমন ধারণা হলে বলার কিছু থাকে না।
নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। এজন্য অবকাঠামো, লোকবল সবই আছে। নগরভবন থেকেই এ দায়িত্ব পালিত হয়। সেই নগরভবনের ঠিক পেছনের রাসৱাতেই ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি। স্কুল-কলেজের শিৰার্থী, যানবাহনের যাত্রী, পথচারী সবাইকে নাকে রম্নমাল চেপে পথ চলতে হয়। একই অবস’া বিনোদন স্পট পদ্মা গার্ডেনের প্রবেশ পথ বড়কুঠির রাসৱাটির। রাসৱার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা ঘেঁটে উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, পস্নাস্টিক দ্রব্যাদি টোকাচ্ছে পথশিশুরা। এ সবের পাশ দিয়েই নাক চেপে যেতে হচ্ছে পদ্মা পাড়ে নির্মল বায়ু সেবনে। বড় ভাগ্য রাজশাহীবাসীর!
একই চিত্র ফায়ারসার্ভিস মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন স’ানে। রাসৱার ধারেই নাগরিক বর্জ্যের সেকেন্ডারি ড্যাম্পিং স্টেশনগুলোর আশপাশে আবর্জনার সৱূপ এলাকার পরিবেশ পুঁতি গন্ধময় করে তুলেছে। এর মধ্যেই চলছে নাগরিক জীবন। উপায় কি! সন্ধ্যে হলেই শুরম্ন হয়ে যায় রাসৱা ঝাড়- দেয়া। ধুলায় ছেয়ে যায় পথঘাট। নাক চেপে ধরে চলতে বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। আবর্জনা অপসারণের কাজও শুরম্ন হয় সন্ধ্যা রাতেই। অথচ এসব কাজ করার কথা গভীররাত থেকে ভোর পর্যনৱ সময়ের মধ্যে। আর পরিচ্ছন্নকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে আসার কথা। সব জায়গায় তেমনটি হয় না বলেই রাসৱার ওপরেই জমে ওঠে আবর্জনার সৱূপ। মাছি ভনভন করে। ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। ড্রেন-নালা বুঁজে যাওয়ায় সেগুলো হয়ে ওঠে মশার অভয়ারণ্য। এ যেন নাগরিক জীবনে শত যন্ত্রণার মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত।
ময়লা-আবর্জনা দূর্গন্ধ ছড়িয়ে নগরীর বাতাস দূষিত করে, পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে, মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায়, রোগ-ব্যাধির জীবাণু ছড়ায়। সন্ধ্যার বাতাস ধুলায় ভরে ওঠে রাসৱা ঝাড়- দেয়ায়। নাক-মুখ চেপে পথ চলেও রেহাই মেলে না। এমন পরিবেশেই দিন কাটাতে হচ্ছে এই পরিচ্ছন্ন নগরীর বাসিন্দাদের। প্রায় ৮ লাখ অধিবাসীর এই নগরীতে প্রতিদিন সৃষ্ট প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টন বর্জ্য অপসারণে নগর কর্তৃপৰের জনবলের সংকট নেই। তারপরও নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয় না। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস’াপনার অভাবেই যে এমনটা হচ্ছে এতে সন্দেহ নেই। আমরা আশা করবো ব্যবস’াপনার দুর্বলতা কাটিয়ে নগরীর ভেতরটাও পরিচ্ছন্ন রাখা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে এখনই উদ্যোগী হলে আসন্ন গ্রীষ্ম-বর্ষায় নাগরিক দুর্ভোগের আশঙকা কিছুটা হলেও কম হবে।

Leave a Reply