অনিশ্চিত ভাগ্য মোটেই কাম্য নয়

04/03/2017 1:04 am0 commentsViews: 25

মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামই মানব সভ্যতার ইতিহাস। এই সংগ্রামই মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। সভ্যতার অগ্রযাত্রা সত্ত্বেও এখনও মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম শেষ হয়নি। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই শুধুমাত্র জীবন বাঁচাতেই মানুষকে কঠিন পথে চলতে হয়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের ভাগ্যেরও একই দশা। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এখনও সব মানুষের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে পারেনি। এ অৰমতা বা ব্যর্থতা অস্বীকার করার উপায় নেই।
এ অবস’ায় কাউকে বিনাদোষে কর্মচ্যুত করার অর্থ তার বেঁচে থাকা অনিশ্চিত করে তোলা। এমন পদৰেপ মানবিক বলা যাবে না। এটা মৌলিক অধিকারের পরিপন’ীও। তারপরও সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেই কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এনিয়ে হই হট্টোগলও কম হয় না। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়োগই দেয় অস’ায়ী ভিত্তিতে। তাদের নাম হয় মাস্টার রোল বা পিচরেট কর্মচারী। এ ধরনের কর্মচারিদের অনিশ্চিত ভাগ্য নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে গতকালের সোনালী সংবাদে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) রাজশাহী-রংপুর বিভাগের ৫৬৪ জন পিচরেট কর্মচারি দীর্ঘদিন পরে চাকরিচ্যুতির হুমকির মুখে পড়েছেন। তারা সেই ১৯৮৫ সাল থেকে মিটার রিডার ও বিদ্যুুৎ বিল বিতরণকারী হিসেবে কাজ করে আসছেন। শুর্বতে প্রায় ২৫০০ জনকে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এভাবেই তারা বিগত ৩২ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আসছেন। ২০১৪ সালে এদের ১৮৪৬ জনের চাকরি স’ায়ী করা হয়। বাকী ৫৬৪ জনের চাকরি অস’ায়ী থেকে যায়। তারা প্রতিটি মিটার রিডিং বাবদ ৩ টাকা আর বিল বিতরণ বাবদ ২ টাকা করে পেয়ে আসছেন। এই চুক্তিভিত্তিক কাজেই বছরের পর বছর কেটে গেছে। এখন সরকারি সিদ্ধান্তে তাদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
২০১৬ সালে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে পিডিবির মিটার রিডিং ও বিল তৈরির কাজ একটি বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত হয়। মাঠ পর্যায়ে কাজের বদলে ঘরে বসেই কম্পিউটারে স্নাপসর্টের মাধ্যমে বিল তৈরির কাজ শুর্ব হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক কর্মচারিদের চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক পেয়ে বসেছে তাদের। রংপুরের অনেককেই এর মধ্যে চাকরি থেকে বের করে দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মিটার রিডিং ও বিল তৈরির কাজ চালু হওয়া ডিজিটাল উন্নতি নামে চিহ্নিত হলেও এর ফলে পুরাতন কর্মচারিদের পেটে লাথি মারা হবে কেন ? তাদেরকে দৰ করে প্রযুক্তি ব্যবহারে সৰম করে তুললেই তো পরিবার-পরিজন নিয়ে কাউকে অসহায় অবস’ায় পড়তে হতো না। বেকারের এই দেশে এমন অবাস্তব সিদ্ধান্ত নেবার পেছনে কি যুক্তি কাজ করেছে তা আমাদের জানা নেই। কোনো সিদ্ধান্ত বা আইন যদি মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয় তবে তা পাল্টানোই কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। আমরা আশা করবো প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে কারও ভাগ্য অনিশ্চিত হবে না। সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰকেই এটা নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply